‘লিপুকে হুমকি দেয়া হতো’

আপডেট: অক্টোবর ২১, ২০১৬, ১১:৪২ অপরাহ্ণ

রাবি প্রতিবেদক
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মোতালেব হোসেন লিপুর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় হতবাক তার পরিবার ও সহপাঠীরা। শান্তশিষ্ট লিপুর সঙ্গে কারো দ্বন্দ্ব ছিল বলে কেউ জানে না। তাকে কারা হত্যা করতে পারে তা অনুমান করতে পারছে না কেউ। তবে লিপুর চাচা বশির আলী জানিয়েছেন লিপুকে কে বা কারা একবার ফোনে হুমকি দিয়েছিল।
বশির আলী বলেন, ‘লিপুর সব ঘটনা তো আর জানতাম না। কে বা কারা তাকে ফোন করতো। তাকে ফোনে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি দিতো। এই বিষয়টা নিয়ে লিপু খুব টেনশন করতো। সে আমাকে এরকম একটা ঘটনা বলেছিলো। তবে এর বেশি কিছু  আমি জানি না।’
লিপুর সহপাঠীরা জানান, একবছর আগে রেলওয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় অন্যজনের বদলি হয়ে (প্রক্সি) অংশগ্রহণ করে ধরা পড়েছিলেন লিপু। এঘটনায় নগরীর রাজপাড়া থানায় দায়েরকৃত জালিয়াতির মামলায় তিনমাস জেল খেটেছিলেন লিপু। পরে জামিনে মুক্তি পান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জালিয়াত চক্রের কারো সঙ্গে তার দ্বন্দ্বের জেরে লিপু হত্যাকা-ের শিকার হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। লিপুর প্রায় তিন বছরের ক্যাম্পাস জীবনে আর কারো সাথে কখনো দ্বন্দ্ব ছিলো বলে জানেন না কেউই।
লিপুর মামাতো ভাই সজীবউদ্দিন বলেন, ‘লিপু একটু সহজ-সরল ছিলো, ভয়ও পেতো। এজন্য ওর মাজায় একটা মাদুলি বেঁধে দেয়া হয়েছিলো। ওই মাদুলিটা ওর ঘরের মেঝেতে ছেড়া অবস্থায় পড়েছিলো। লিপুর রুমের বাইরে অতিরিক্ত দুই জোড়া জুতা পাওয়া গেছে। যেগুলো ওই রুমের কারো না। আর লিপুর পায়ের একটি জুতা ওর ঘরে পাওয়া গেছে, আরেকটি যেখানে ওর লাশ পাওয়া গেছে সেখানে পাওয়া গেছে।’
গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে লিপুর গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহের হরিনাকু-ু থানার মকিমপুর গ্রামে তার দাফন সম্পন্ন হয়। লিপুর গ্রামের বন্ধু ও বাড়ির আশেপাশের আত্মীয়স্বজন লিপুর কারো সাথে দ্বন্দ্ব ছিলো বলে ধারণা করতে পারছেন না।
গ্রামবাসীরা জানান, ‘লিপুর বাবা তাকে অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করতে পাঠিয়েছিলেন। এমনকি লিপু নিজেও সেটা বুঝতো। লিপু গ্রামে কারো সাথে কখনো বাগ-বিত-ায় জড়ায়নি।’
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নবাব আব্দুল লতিফ হল থেকে লিপুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে নগরীর মতিহার থানায় অজ্ঞাতনামাদের নামে মামলা করেছেন লিপুর চাচা বশির আলী।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ