লিপু হত্যার দুই মাস || থমকে গেছে পুলিশের তদন্ত

আপডেট: ডিসেম্বর ২১, ২০১৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

রাবি প্রতিবেদক :



রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মোতালেব হোসেন লিপু হত্যার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও মামলার তদন্তে কোনো অগ্রগতি হয়নি। পুলিশ হত্যার মোটিভ উদ্ধার করতে পারে নি। চিহ্নিত হয়নি হত্যায় জড়িতরা। লিপুর রুমমেটকে আটকের পর তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল। তবে তারপর থেকে থমকে গেছে মামলার তদন্ত। মামলার তদন্তের জন্য আরো সময় দরকার বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মতিহার থানার পরিদর্শক মো. মাহবুব বলেন, ‘আমি এই মামলাটির দায়িত্ব পেয়েছি কিছুদিন হলো। তদন্তের জন্য আরো সময় লাগবে। আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি এর ফল দেখতে পাবো।’ এর আগে এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন মতিহার থানার ওসি (তদন্ত) অশোক চৌহান। অশোক চৌহানের বদলি হয়ে যাওয়ায় এই মামলায় দায়িত্ব পরিদর্শক মাহবুব।
গত ২০ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আব্দুল লতিফ হলের ড্রেন থেকে লিপুর লাশ উদ্ধার করা হয়। ওইদিন বিকেলে লিপুর চাচা মো. বশীর বাদী হয়ে নগরীর মতিহার থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। লিপু হত্যামালায় তার রুমমেট মনিরুলকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। গত ৮ নভেম্বর জজ কোর্ট থেকে মনিরুল জামিন পায়।
এদিকে তদন্তে ধীরগতি অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে লিপুর পরিবার ও বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
লিপুর সহপাঠী হুসাইন মিঠু বলেন, ‘আমরা লিপু হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলন করছিলাম। কিন্তু এখনো পুলিশ আমাদেরকে শান্ত করতে পারেনি। অতি দ্রুত তদন্তে অগ্রগতি চাই, হত্যাকারীদের দেখতে চাই।’
মামলার বাদী লিপুর চাচা মো. বশীর বলেন, ‘আজ দুই মাসেও নাকি পুলিশ কিছুই করতে পারেনি। কোন সাহসে আমরা আমাদের ছেলেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করতে পাঠাবো, যেখানে ছেলেরা খুন হয় অথচ তার কোনো বিচার হয় না।’
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে সভাপতি ড. প্রদীপ কুমার পা-ে বলেন, ‘পুলিশ আামদের বারবার আশস্ত করছেন এবং তারা সময় চাচ্ছেন। কিন্তু এই সময় নেওয়াটা বোধহয় বেশি হয়ে যাচ্ছে। আমরা চাই এই হত্যার তদন্ত খুব তাড়াতাড়ি হোক।’