লিবিয়ায় বাংলাদেশি হত্যা মানবপাচারকারীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে

আপডেট: জুন ৯, ২০২০, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ

চলতি ২৮ মে লিবিয়ায় পাচারের শিকার ২৬ জন বাংলাদেশিসহ ৩০ অভিবাসী শ্রমিককে নৃশংসভাবে হত্যা ও ১১ জনকে আহত করা হয়। বিদেশে বাংলাদেশিদের ওপর এই হামলা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়-বিদারক। এই ঘটনার পর দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বেশ উঠেপড়ে লেগেছে- ওই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের ধরতে। সপ্তান্তে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপের খবর সংবাদ মাধ্যমে এসেছে। র‌্যাব, ডিবি, সিআইডির সদস্যরা এ পর্যন্ত মানবপাচারকারী চক্রের ২০ জনের বেশি সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকজনকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। কয়েকজন দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
র‌্যাব-এর মহাপরিচালক সোমবার (৮ জুন) বলেছেন, ‘লিবিয়ায় যে ঘটনাটি ঘটেছে তা মর্মান্তিক। আমরা ইতোমধ্যে বাংলাদেশে এর মূল হোতাকে গ্রেফতার করেছি। আমরা কাউকে ছাড় দেবো না। এই মুহূর্তেও আমাদের অভিযান চলছে।’
সোমবার (৮ জুন) সিআইডি প্রধানের কার্যালয় থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জনসাধারণের কাছে মানবপাচার, জঙ্গি, সন্ত্রাসী ও সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য চেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
পুলিশ মানব পাচারের ঘটনায় ভিকটিমদের ভারত, দুবাই, মিসর হয়ে লিবিয়ায় পাচার করার পরিকল্পনা, প্রক্রিয়া এবং ক্ষেত্রবিশেষে ঢাকা বিমানবন্দর ব্যবহার করার কথাও বলছে। লিবিয়ার বিভিন্ন এস্টেটে কাজ ও লিবিয়া থেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি দালালরা অন অ্যারাইভাল ও ভিজিট ভিসার মাধ্যমে লোকজন লিবিয়ায় পাচার করে। লিবিয়ায় পাচারের পর ভিকটিমদের লিবিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে আটক রেখে অমানুষিক শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন করে তারা। নির্যাতিত ভিকটিমদের কান্নাকাটি, আকুতি-মিনতি করা অডিও অথবা সরাসরি মোবাইলে কথাবর্তা বাংলাদেশে অবস্থানরত তাদের পিতা-মাতা আত্মীয়-স্বজনদের পাঠিয়ে টাকা দাবি করে। ভিকটিমদের বাচাঁতে তার আত্মীয়-স্বজন অনেক ক্ষেত্রে ভিটাবাড়ি বিক্রি করে টাকা পাঠায়।
ট্যুরিস্ট ভিসায় লিবিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মানবপাচারে সক্রিয় দেশীয় দালালদের দুষ্কর্ম নিয়ে এরআগে সংবাদ মাধ্যমে বিস্তর প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। সেসব প্রতিবেদনে ভিকটিম ও তার স্বজদের করুণ তথ্য উঠে এসেছে। কিন্তু এসব নিয়ে কোনো প্রতিকারের প্রত্যাশা করা যায় নি। লিবিয়ায় মর্মন্তিক ঘটনা না ঘটলে হয়তো দালালচক্রের বিরুদ্ধে এই তৎপরতাও লক্ষ্য যেতো না। সময়য়ের কাজ সময়ে করা হলে লিবিয়ার মত আরো অনেক ঘটনাই হয়তো এড়ানো যেত। কিন্তু মানবপাচারকারীরা নির্বিঘ্নেই তাদের কাজ চালিয়ে যেতে পেরেছে। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এখনকার যে তৎপরতা এটা আর কতদিন অব্যাহত থাকবে? এটা কি মাঝপথেই থেমে যাবে নাকি মানবপাচারকারীদের নেটওয়ার্ক ভেঙ্গে মানবপাচারকারীদের আইনের আওতায় আনার পরই শেষ হবে। অবশ্যই দেশের মানুষ শেষেরটাই প্রত্যাশা করে। সাধারণ পরিবারের তরুণদের বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে তাদের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে জীবন সঙ্কটাপণ্ন করে তুলছে পাচারকারীরাÑ তারা কোনোভাবেই সাধারণ অপরাধী নয়। এই ভয়ঙ্কর অপরাধীরা নির্মূল হবে- লিবিয়ার হত্যাকাণ্ড সেই দাবিকেই সামনে এনেছে। ওই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত মানবপাচারকারীদের কঠোর শাস্তিই প্রাপ্য।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ