লেখাপড়ার পাশাপাশি কাজ করে সংসার চালাতো নৌকা ডুবিতে নিহত দুই ছাত্র

আপডেট: আগস্ট ৯, ২০১৭, ১:০৫ পূর্বাহ্ণ

আমানুল হক আমান, বাঘা


নৌকা ডুবিতে নিহত সবুজ ও মনিরুল-সোনার দেশ

ছোট বেলা থেকেই মাঠে কাজ করে লেখাপড়ার খরচ ও সংসার চালাতো কলেজ পড়–য়া ছাত্র সুমন আলী ও স্কুল পড়–য়া ছাত্র মনিরুল ইসলাম। তাদের স্বপ্ন ছিল নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে দরিদ্র বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফুটানো। কিন্তু খরচের সেই টাকা যোগাড়ের জন্য নৌকায় নদী পার হয়ে পদ্মা নদীর চরের মধ্যের জমিতে কাজে যাচ্ছিল তারা। কিন্তু তাদের সেই স্বপ্ন মাঝপথে থেমে গিয়ে পরিণত হলো দুঃস্বপ্নের।
গত শুক্রবার (৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টায় রাজশাহীর বাঘা উপজেলার গড়গড়ি ইউনিয়নের খানপুর গ্রামের রাজু আহম্মেদ মাঝির ঘাটে নৌকা ডুবিতে প্রাণ হারায় দুড়দুড়িয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র ও উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের মন্টুর ছেলে সুমন আহমেদ সবুজ এবং খানপুর জেপি উচ্চবিদ্যালয়ে দশম শ্রেণির ছাত্র ও আরাজি চানপুর গ্রামের চান্দের আলীর ছেলে মনিরুল ইসলাম মুন্না। দুই ছাত্রের অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো দুই গ্রামে।
শোক সন্তপ্ত দুই পরিবারে এখনও চলছে শুধুই আহাজারি। ওই দিন তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারকে দেয়া হয় বিশ হাজার টাকা করে মোট চল্লিশ হাজার টাকা। দুই ছাত্রের অকাল মৃত্যুতে কি বলে শান্তনা দিবেন, সে ভাষাও হারিয়ে ফেলেছেন গ্রামবাসী।
গত সোমবার বিকেলে সরেজমিন কথা বলে জানা গেছে, অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে এপার থেকে ওপারে যাওয়ার সময়, ঘাটের কাছাকাছি নদীতে বিপরিত থেকে আসা অপর একটি নৌকার ধাক্কায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ডুবে যায় আশরাফুল ইসলাম নামের মাঝির নৌকাটি। অন্যরা সাঁতরিয়ে পাড়ে উঠতে পারলেও তাদের এক জন আরেক জনকে ধরে বাঁচার চেষ্টা করলে দুই জনেই ডুবে নিখোঁজ হয়। ঘটনার ৬ ঘণ্টা পর নদীর তলদেশ থেকে দুইটি লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে নিহত দুই ছাত্রের বাবা-মা কিছুই বলতে পারেন নি। শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছিলেন।
খানপুর জেপি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান জানান, আমার স্কুল থেকে এসএসসি পাস করে এবার কলেজে ভর্তি হয়েছে সুমন আহমেদ সবুজ। এছাড়া আগামী এসএসসি পরীক্ষায় তার স্কুল থেকে অংশ নেওয়ার কথা ছিল মনিরুল ইসলাম মুন্নারও। তারা পড়ালেখার পাশাপাশি দুই জনেই খেলাধূলাতেও ভালো ছিল। দারিদ্রতার কারণে লেখাপড়ার খরচ যোগাতে ছুটির দিনে শ্রমিকের কাজ করতো। সেইদিনও অন্যদের সাথে কাজের জন্য চর এলাকায় নৌকায় যাচ্ছিল। নৌকা ডুবিতে অকালে প্রাণ হারিয়ে দুঃস্বপ্নে পরিণত হলো বড় হওয়ার কাঙ্খিত স্বপ্ন। ওই দিন বিকেলে জানাযা নামাজ শেষে স্থানীয় গোরস্থানে তাদের দাফন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলী মাহমুদ জানান, খবর পেয়ে সংগীয় ফোর্স নিয়ে আমি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার হামিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। উপজেলা নির্বাহী অফিসার হামিদুল ইসলাম জানান, নদীতে ডুবে নিখোঁজ দুই ছাত্র সুমন আহমেদ সবুজ ও মনিরুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধারের জন্য রাজশাহী ফায়ার সার্ভিস ও লালপুরের ফায়ার সার্ভিসের সাথে যোগাযোগ করা হয়। দুই দলের অভিযানের এক পর্যায়ে রাজশাহীর ডুবুরি দলের প্রধান নুরুন্নবীর নের্তৃতে ৫ সদস্যর টিম কয়েক ঘণ্টা নদীতে অভিযান চালিয়ে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ