লেখা নিয়ে লেখালেখি

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৭, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ

সুজিত সরকার


ইতোপূর্বে নানা বিষয়ে আমি এই কলামে লিখেছি। সেগুলো কারো ভালো না লাগতে পারে, আবার কারো লাগতেও পারে। সব লেখা সব পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে না। পাঠকের শ্রেণিভেদ আছে। ভালো ও মন্দবোধেরও তাই। এ কথা অনেক বড়ো লেখক-শিল্পীর বেলায়ও প্রযোজ্য। এ দেশের একজন নন্দিত ব্যক্তি আমেরিকায় গিয়ে বলেছিলেন, ‘অনির্বাচিত সরকারই ভালো।’ অর্থাৎ অস্ত্রের জোরে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকারীরাই তার দৃষ্টিতে উত্তম। এই বক্তব্যের বিরোধিতা করে আমি আনুমানিক বছর দুই আগে এই কলামে তাকে নিন্দা জানিয়ে এবং অগণতান্ত্রিক-অভদ্র আর ধান্দাবাজ হিসেবে চিহ্নিত করে লিখেছিলাম। লেখাটা উপমহাদেশের বিখ্যাত কথাশিল্পী হাসান আজিজুল হক পড়ে আমাকে সঙ্গে সঙ্গে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। বলেছিলেন, এই সব সুবিধাভোগী-ধান্দাবাজদের অন্ততঃ একজনের মুখোশ উন্মোচন করায় তোমাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমি অতো বড়ো একজন লেখকের অভিনন্দন পেয়ে তো মূক হয়ে গিয়েছিলাম। সত্যি সেদিন মনে করেছিলাম, আমি বোধ হয় একজন লেখক হয়ে উঠেছি। ব্যাংক কর্মী ও কবি বন্ধু আরিফুল হক কুমার আর শিক্ষা প্রশাসক আলমগীর মালেকও অভিনন্দন জানিয়ে লেখাটি সম্পর্কে হাসান স্যারের অভিমত এবং অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি তাঁদের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান। ধর্মীয় উৎসব সম্পর্কে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ বক্তব্যের আলোকে আরেকটি লেখা “দৈনিক সোনার দেশ” সম্পাদক হাসান মিল্লাতও প্রশংসা করেছিলেন। তিনি লেখাটির কলেবর বৃদ্ধি করে আগামী ঈদ সংখ্যায় প্রকাশের ইচ্ছে পোষণ করেন। আমি লেখাটি ইতোমধ্যে প্রায় সম্পন্ন করেছি। ঈদ যেহেতু অনেক দূরে, সেহেতু আস্তে-ধীরে সেটি জনাব হাসান মিল্লাতকে দেবো বলে ভেবেছি। জানি না, সেটি পাঠকদের কাছে কতোটা সমাদৃত হবে। না হলে নিজের ত্রুটি আর দুর্বলতা বুঝতে বিলম্ব হবে না। তবে আমার অভিজ্ঞতা অন্যের সঙ্গে শেয়ারের সুযোগ তো পাবো।
আমরা জানি, সব লেখকই সব সময় ভালো লেখা লিখতে পারেন না। ভেতরের তাগিদ বলে একটি কথা আছে। সেটা যতোক্ষণ লেখককে জাপ্টে না ধরবে, ক্ষরণ না ঘটবে, ততোক্ষণ সত্যিকারের ভালো লেখা আসে না। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় নিঃসন্দেহে বাংলা সাহিত্যের একজন প্রথম সারির কথাশিল্পী। পত্র-পত্রিকার সম্পাদকদের আব্দারে সাড়া দিয়ে এবং অর্থের প্রয়োজনে তিনিও এমন কিছু লেখা লিখেছেন, যা পুনরুক্তি ঘটেছে। চরিত্র, ঘটনাজ্জএমন কি চরিত্রের নামটা পর্যন্ত অভিন্ন রেখে গল্প রচনা করেছেন। সে লেখাগুলোয় কোনো বৈচিত্র্য নেই। নেই স্বতন্ত্র পটভূমি এবং ভাষা। অভিন্ন প্রকরণের অভাবেও লেখাগুলো পাঠকের শুভদৃষ্টি কতোটা আকর্ষণ করেছে, জানি না। তবে আমার কাছে মনে হয়েছে, যে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় “পদ্মানদীর মাঝি”, “দিবারাত্রির কাব্য”, “পুতুলনাচের ইতিকথা”, “দর্পণ”, “চিহ্ন” ইত্যাদি উপন্যাস এবং “প্রাগৈতিহাসিক”, “হারানের নাতজামাই”, “সরীসৃপ”, “রাঘব মালাকার”, “ছোট বকুলপুরের যাত্রী”, “খতিয়ান” প্রভৃতি ছোটগল্প রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেছে, সে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুনরাবৃত্তির গল্প-উপন্যাসে পাওয়া যাবে না। সেখানে তিনি অসফল কিংবা তাঁর প্রতিভার সীমানা শেষ হয়ে গেছে। অবশ্য দুর্বল রচনাগুলো মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শেষ পর্যায়ের লেখা। কমিউনিস্ট পূর্ব আর কমিউনিস্ট মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখার মধ্যেও সীমারেখা টানা যায়। প্রশ্ন উঠতে পারে, তাহলে লেখকের কি রাজনীতিক মতাদর্শ থাকতে নেই? থাকতেই পারে। না থাকাটাই অস্বাভাবিক। সমাজ ও রাজনীতিক সচেতনতা না থাকলে লেখক কিসের? তবে রাজপথের রাজনীতিক আর রাজনীতি সম্পর্কে সচেতন লেখকের মধ্যে স্বাতন্ত্র্য বিদ্যমান। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই বলেছেন, ‘লেখা অর্ডার দিয়ে হয় না।’ সোনার গয়না কিংবা গায়ের জামা-প্যান্ট নয় যে আমার পছন্দ মতো নির্দেশ দিয়ে তৈরি করানো যাবে। লেখা অন্তরের জিনিস। রবীন্দ্রনাথের ভাষায়, ’অন্তর থেকে আহরি বচন, আনন্দলোক করি বিরচণ…’ না হলে লেখা বোধ করি হয় না। লেখা হয়, সেগুলোর মান নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুনরাবৃত্তিমূলক রচনা সম্পর্কে এই প্রশ্ন থেকে গেছে। আরো অনেক লেখক-কবির ক্ষেত্রেও এ কথা সত্য।
কবি নজরুলকে ভালোমানের কবিতার আশায় পত্রিকা সম্পাদক টাকা দিয়ে তাঁকে কলকাতার বাইরে পাঠালেন। কবি দেওবন্দ গিয়ে একটি শব্দও লিখতে পারলেন না। অন্তরের তাগিদ এবং মানসিক খোরাক মেলাতে পারেননি বলে তিনি লিখতে পারলেন না। টাকাগুলো অপচয় হওয়ায় সম্পাদক কষ্ট পেয়েছিলেন কি না জানা যায়নি। সেই নজরুল কলকাতায় ফিরে দিব্বি সেরা মানের লেখা লিখতে থাকলেন। দিনভর বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা-গান আর হৈ-হুল্লোড়, তারই ফাঁকে তাঁর লেখালেখি। তাঁর কী মনে হলো হঠাৎ হারমোনিয়াম টেনে নিয়ে শুরু করলেন গান। রচিত হলো একাধিক গানের বাণী ও সুর। এই সব আয়োজন ছিলো না পরভূঁইয়ে, তাই তিনি হয়তো লিখতে উৎসাহবোধও করেননি। মন মরা হয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন আর ঘুমিয়েছেন। লিখেননি। লিখতে পারেননি। অনেকেই পারিপার্শ্বিক নানাবিধ কারণে বা ভিন্নতার কারণে লিখতে পারেন না। হয়তো কবির সে ভিন্নতায় অবসাদবোধ করেছেন। লিখতে পারেননি। সেই তিনিই আবার লিখলেন ‘আমায় নহে গো, ভালোবাসো শুধু, ভালোবাসো মোর গান…’
রবীন্দ্রনাথের ক্ষেত্রেও এমন দৃষ্টান্ত বিরল নয়। তবে তিনি ছিলেন সর্বগ্রাসী প্রতিভার অধিকারী। প্রকৃতার্থেই একজন মননশীল ও সৃজনশীল ব্যক্তি। তিনি যেখানে হাত দিয়েছেন, সাফল্য অর্জন করেছেন। নাটক-গান, গীতিনাট্য, কাব্যনাট্য, নৃত্যনাট্য, উপন্যাস, কবিতা, প্রহসনজ্জকোথায় তাঁর অনুপস্থিতি! সবখানে। হ্যাঁ নেই, সেটা মহাকাব্যে। তবে তখন মহাকাব্যের যুগ অতিক্রম করেছে মানবসমাজ। যান্ত্রিক সভ্যতা ও সংস্কৃতির বৃত্তে মানুষ অবগাহন করতে শুরু করেছে। সেই বৃত্ত থেকে বেরিয়ে দীর্ঘ সময় ব্যয় করে মানুষ মহাকাব্যের বীর ও করুণরসে অবগাহন করতে প্রস্তুত নয়। তখন ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবাদের অরোধ্য বাতাস বইছে। ভাঙছে পরিবার। বিচ্ছিন্নতা-বিষণ্নতা আর নানামুখি সংকটের বেড়াজালে মানব সমাজ নিমজ্জিত। দুঃখভারাক্রান্ত। দুরন্ত প্রতিযোগিতা। তারপরও কিছু মানুষ তো সমাজের আনাচে-কানাচের বাসিন্দাজ্জযারা শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতি প্রেমী। তার ভেতরেই খোঁজে নিজেকে, সমাজ-পরিবারকে এবং জগতকে। সেই পরিসরে তখন চলে তাদের ওঠ্-বোস্। রবীন্দ্রনাথ যে বৈরাগ্যচেতনায় মানব সমাজকে প্রত্যাশা করেছিলেন, মায়নমার আর পাকিস্তানি বর্বরতা দেখলে তো বোধ করি ‘নোবেল’ও ফিরিয়ে দিতেন তিনি। অবশ্য টাকা দিতে বোধহয় পারতেন না। কারণ সে টাকা তো পতিসরে কৃষি ব্যাংক করতে গিয়েই সর্বস্বান্ত হয়েছেন। তবে প্রতিবাদ করতেন। জেনারেল ডায়ারের নির্দেশে পাঞ্জাবের জালিনওয়ালাবাগের নির্মম হত্যাকাণ্ডে তিনি ‘‘নাইট’’ উপাধি পরিত্যাগ করে ক্ষুব্ধ চিত্তে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। সংবাদপত্রে তা প্রকাশিতও হয়েছিলো। বঙ্গভঙ্গ হলেও ওই একই রূপ ধারণ করেছিলেন কবি। তখন নজরুলের বয়স বারো বছর। ফলে বাঙালি তাঁকে সে সময় পায়নি। ১২ না হয়ে উল্টোটা অর্থাৎ ২১ যদি হতো, নজরুলকে ঘরে বেঁধে রাখে কারাগার ব্যতীত এমন কারিগর ভূ-ভারতে ছিলো না। আজো নজরুলদের জন্যে তা নির্মিত হয়নি। কোথাও নেই। একে বোধ করি আবেগ বলে। অতি আবেগ শিল্প নির্মাণ ব্যাহত করে। তবে আবেগ থাকতে হবে এবং তা নিয়ন্ত্রণও করা জানতে হবে। নজরুলের ক্ষেত্রে সে দুর্বলতা স্পষ্ট, যখন আমরা তাঁর উপন্যাস বা গল্প পড়ি, তখন অনুধাবন করি। রবীন্দ্রনাথে আবেগ ছিলো শিল্পনির্মাণের প্রয়োজনে যতোটুকু আবশ্যিক ততোটুকু। তারাশঙ্কর, বিভূতিভূষণ, সৈয়দ মুজতবা আলী প্রমুখের ক্ষেত্রেও একই কথা উচ্চারণ করা যায়।
শেষ বেলায় একটা বিষয়ে সংবাদপত্রের কলাম পাঠকদের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই এই বলে যে, আমি সত্যিকারেই কোনো লেখক নই। আপনাদের মতোই একজন অতি সাধারণ পাঠক মাত্র। তবে দীর্ঘ সময় শিক্ষকতা করার পরও লেখালেখি যে ভাবে করছি, সেটা এখনো একজন মাঠকর্মীর পর্যায়েই রয়েছে। লেখার আঙিনায় নেতা বা পাতিনেতা কোনোটাই হতে পারিনি। হতে চাইও না। অনুশীলন করেই যাবো। তারই মধ্যে দু-চারটে যদি পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকে, সে পাঠকেরই উদারতা বলে আমি মনে করি। আমার কৃতিত্ব সেইটুকু, যা দেখেছি এবং দেখে যে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছি তা আমার মতো করে শব্দে সাজানো, তার বেশি নয়। আমাদের পরিপার্শ্ব জুড়ে এমন কতো ঘটনা ঘটছে, কতো বিচিত্র চরিত্রের মানুষের পদচারণা দেখছি, যারা শরীরে মানুষ্যাকৃতির হলেও মননে পশুর অধম। নিকৃষ্ট, অসভ্য, পাকিস্তানি আর মায়ানমারের হানাদার বাহিনির মতো বর্বর। বলা যায়, তারা তাদের অনুচর। তারাই আমাদের পাশে বসে, দল করে, শিল্প-সংস্কৃতির কাজে অর্থ জোগায়, নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থের লক্ষ্যে অর্থেরও জোগান দেয়। এই সব তাদের প্রয়োজনে কি সত্যিকার সাহিত্য কিংবা শিল্প নির্মিত হতে পারে? মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হয়েও “দর্পণ” উপন্যাসে কমিউনিস্টদের চারিত্র্যিক বৈশিষ্ট্যের একটি নির্ভেজাল চিত্র তুলে ধরেছেন। অবশ্য যৌনাচার কমিউনিস্ট অ-কমিউনিস্ট সবার অভিন্ন। তবে প্রকাশ ভঙ্গিতে তারতম্য আছে। পার্টির কার্যক্রমের তাই। কিন্তু মূলগত অভিন্নতার কারণে উভয় দলের নেতা-কর্মীর আচরণের লক্ষ্যও অভিন্ন। কী সে লক্ষ্য? ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়া। দেশ-সমাজটাকে পৈতৃক সম্পত্তি হিসেবে মনে করে জনগণের সঙ্গে প্রতারক-প্রবঞ্চকের ভূমিকায় অধিষ্ঠিত হওয়া। স্ট্যালিন কিংবা চার্লিলের লক্ষ্যও একই ছিলো। লক্ষ্য জার্মানির পরাজয় নিশ্চিত করা। বিশ্ববাজারে নিজেদের আধিপত্য অপ্রতিদ্বন্দ্বী করা। কারণ তাদের বক্তব্য ছিলো জার্মানিরা মানবতার শত্রু। কিন্তু তার আগে সেই একই ইংরেজ পাঞ্জাবে নিরীহ-নিরস্ত্র মানুষের ওপর সশস্ত্র চড়াও হয়, ক্ষুদিরাম-সূর্যসেনকে ফাঁসি দেয়, তখন মানবতা রক্ষাকারী বলে কি তাদের মান্য করা যাবে? যখন তারা ধর্ম প্রচারের নামে এশিয়া-আফ্রিকায় পাড়ি জমিয়ে সেখান থেকে মানুষকে তুলে এনে ব্রিটেনের রাস্তা ঝাঁট দেয়ার বিনিময়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাদ্য না দিয়ে দিনভর কাজ করিয়ে নিয়েছে, বিশ্রাম দেয়নি, করেনি বিনোদনের ব্যবস্থা, তখনও কি তারা মানবতাবাদী? তাই সবাই বঙ্গবন্ধু আর লেনিন-ক্যাস্তোর মতো নেতা না যেমন, তেমনি রবীন্দ্রনাথ, বঙ্কিমের মতো লেখকও নন। কারণ অধিকাংশ লেখকই যা লিখে, পরবর্তীতে সেই তারা নিজের লেখার পক্ষে অবস্থান করে না। ক্ষমতাধরদের অনুকুলে লেখে, নিজের ধান্দা পূরণ করে। ইদানিং যেমন হঠাৎ গজিয়ে উঠছে ‘বঙ্গবন্ধু কবিতা গোষ্ঠি’, ‘জয় বাংলা কবি গোষ্ঠী’, ‘মুক্তিযুদ্ধ কবিতা মঞ্জুরি’ ইত্যাদি। সব ধান্দাবাজ, নিজের ‘জয় বাংলা’র পক্ষে লিখেও ‘জয় বাংলা’র সংকটে-সমস্যায় তাদের টিকিটি মেলেনি। তার অর্থ তারা যে কাজ করছে সবই ব্যক্তিপূজার লক্ষ্যে। দেশ ও দেশের মানুষের পক্ষে নয়। তাই তারা কি পরিত্যাজ্য হবে না? হতে হবে। না হলেই বরং বিস্ময় জাগবে। অবশ্য সবই নেতাদের কৃপা-করুণার ওপর নির্ভর করে। তারাও মধ্যযুগের স¤্রাট-সুলতান-বাদশাদের মতো এমন সব চাটুকার লেখক-শিল্পীর সংস্পর্শে ধন্য হতে চান। লেখকরাও দু টাকার জন্যে হাত পাতেন করুণা-কৃপার প্রত্যাশায়। সত্যিকার লেখক কোনো কিছু পাওয়ার লোভে লিখেন না। লিখেন অন্তরের তাগিদে। চেতনার আলোকে। নিজের অনুভূতির কথা অপরকে জানাতে। তাদের কথা শোনার জন্যে মানুষ কান পেতে থাকে। চোখ মেলে থাকে অন্ধকারে আলোর স্পর্শের আশায়। আমরা কি শেষোক্তদের লেখক পদমর্যাদায় অভিষিক্ত করবো? আমি বলবো, অবশ্যই। তারাই জাত লেখক। কবি। নাট্যকার। অভিনেতা। আর সুবিধাভোগী-ধান্দবাজেরা পাকিস্তানি চেতনায় সমৃদ্ধ ঘাতক-দালালদের মতো। তাই তাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে বর্জন করা দেশের এই সংকটমুহুর্তে আবশ্যিক। “চান্সমাহমুদ”দের ঘৃণা আর ধিক্কার জানাতে হবে। তবে দেশের কল্যাণ হবে। স্বাধীনতার স্বপ্ন পূরণ হবে। অবিকল রাজনীতিতে যারা পাকিস্তানপ্রেমী, সাম্প্রদায়িক, জঙ্গি, ধর্মান্ধ তাদেরও প্রতিরোধ-পরিত্যাগের লক্ষ্যে একাত্তরের মতো জনমত সৃষ্টি করা জরুরি। আর সাহসের সঙ্গে এবং বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে যারা এমন লেখনি ধারণ করে জনগণের মিছিলে পদক্ষেপ মেলান, তাদেরও সমাদর করা পাঠকের দায়িত্ব।