লোকগানের বিকাশে ইন্দ্রমোহন রাজবংশীর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট: এপ্রিল ৭, ২০২১, ১:৫৯ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দ সৈনিক, লোকসঙ্গীত শিল্পী ও গবেষক ইন্দ্রমোহন রাজবংশীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার (৭ এপ্রিল) দেওয়া এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের লোকগানের বিকাশে একুশে পদকপ্রাপ্ত এ গুণী শিল্পীর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী শিল্পীর আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
গত ৪ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে করোনায় আক্রান্ত কিংবদন্তি সংগীতশিল্পীকে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানেই বুধবার (৭ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
ইন্দ্রমোহন রাজবংশী মৃত্যুকালে রেখে গেছেন স্ত্রী দীপ্তি রাজবংশী, ছেলে রবীন রাজবংশী ও মেয়ে প্রবাসীকে। তারা নিজেরাও গানের সঙ্গে জড়িত।
ইন্দ্রমোহন রাজবংশী মূলত লোকগানের শিল্পী ও মুক্তিযোদ্ধা। তিনি শুরুর জীবনে ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালি, জারি, সারি, মুর্শিদি ইত্যাদি গান গেয়ে মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন গ্রাম-বাংলায়। পরবর্তীতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান গেয়ে নিজেকে রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি ২০১৮ সালে সংগীত বিভাগে একুশে পদক লাভ করেন।
শিল্পী ইন্দ্রমোহন রাজবংশীর পরিবারের পাঁচ পুরুষ ধরে গান লেখার সঙ্গে যুক্ত। তিনি নিজে মূলত লোকগানের শিল্পী। সংগীত কলেজে লোকসংগীত বিভাগের প্রধান হিসেবে কাজ করেছেন দীর্ঘদিন। ১৯৭১ সালে সরাসরি অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পাকিস্তানিদের হাতে ধরা পড়ে ভিন্ন নামে দোভাষীর কাজ করতে হয় ক’দিন। পরবর্তীতে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা দিতে তিনি যুক্ত হলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে।
গান লেখা, সুর করা ও গাওয়া ছাড়াও লোকগান সংগ্রহ করতেন তিনি। গত ৫০ বছরে এক হাজার কবির লেখা কয়েক লাখ গান সংগ্রহ করেছেন রাজবংশী।-বাংলা ট্রিবিউন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ