লোকসানের বোঝা নিয়ে পাবনা মিলে আখ মাড়াই শুরু

আপডেট: ডিসেম্বর ১২, ২০১৬, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ

পাবনা প্রতিনিধি



নানা সংকটে লোকসানের পাল্লা ভারি করছে পাবনা সুগার মিল। প্রতিষ্ঠার ২৪ বছরেও লাভ করতে পারেনি সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি।
পর্যাপ্ত আখের অভাবে একদিকে চিনি উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারছে না, অপরদিকে আখের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় আখ চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে চাষিরা। প্রতি বছর অবিক্রিত থাকছে হাজার হাজার টন চিনি।
এমন বাস্তবতায় ২৭৭ কোটি টাকা লোকসান নিয়ে গত শুক্রবার থেকে পাবনা সুগার মিলে শুরু হচ্ছে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের আখ মাড়াই মৌসুম।
১৯৯২ সালে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়ায় ৬০ একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় পাবনা সুগার মিল। ১৯৯৬ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদনের যাওয়ার পর থেকে গত ২৪ বছরে লাভ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। আখ স্বল্পতা, উৎপাদিত চিনি অবিক্রিত থাকাসহ নানা সংকটে প্রতি বছরই ভারি হচ্ছে লোকসানের পাল্লা। ইতিমধ্যে লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৭৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। গত দুই মৌসুম মিলিয়ে চিনি অবিক্রিত রয়েছে ৪ হাজার ৭৬৬ দশমিক ৯৫ টন।
লোকসানের কারণ হিসেবে মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম তোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী জানান, চিনি উৎপাদনে প্রয়োজনীয় আখ সরবরাহ মিলছে না। পাশাপাশি উৎপাদন সামগ্রী ও বিভিন্ন মালামালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় লোকসান কমানো যাচ্ছে না।
মিলের শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম জানান, বর্তমান সরকার শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন বাড়িয়েছে অনেকাংশে। কিন্তু সেই অনুপাতে বাড়েনি চিনির দাম। ফলে চিনি উৎপাদনের খরচ বাড়ার সঙ্গে বাড়ছে লোকসানের পরিমাণও।
আখের ন্যায্য দাম না পাওয়া এবং অন্য ফসল উৎপাদনে কম সময় ও লাভজনক হওয়ায় আখ চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে চাষিরা। কৃষকরা বলছে, অন্য ফসল বছরে তিনটি ফলানো যায়, লাভও হয় বেশি। কিন্তু আখ বছরে একবার ফলন হয়, আবার অন্য ফসলের তুলনায় দামও কম। তাই তারা আখ চাষ বাদ দিয়ে সবজি বা অন্য ফসল আবাদ করছে।
এ বিষয়ে মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম তোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী বলেন, মিলকে লাভজনক করতে কৃষকদের আখ চাষে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি অন্যান্য ফসলের সঙ্গে মিল রেখে আখের দাম নির্ধারণ করা প্রয়োজন। তিনি জানান, ২ লাখ মেট্রিক টন আখ মাড়াই করতে পারলে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১৫ হাজার মেট্রিকটন চিনি উৎপাদন সম্ভব। তাহলে লোকসান থেকে বেরিয়ে আসা যাবে।
পাবনা সুগার মিল সূত্র জানায়, চলতি বছর পাবনায় ৪ হাজার ১১৫ একর জমিতে আখ আবাদ করা হয়েছে। যেখান থেকে আখ পাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ হাজার মেট্রিক টন। আর চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন।