‘শখের হাঁড়ি’ ইউনেস্কোর দরজায়

আপডেট: এপ্রিল ১৮, ২০২১, ৯:৪৮ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


‘শখের হাঁড়ি’ শৈল্পিক কারুকার্যমন্ডিত পাত্র। এই হাঁড়ি তৈরির পুরোটাই হাতে। মনের মাধুরী মেশানো আকৃতির উপরে কারুকার্য, দেখলে যে কারো মন ছুঁয়ে যাবে সহজেই। এমন ‘শখের হাঁড়ি’র স্বীকৃতির জন্য চলতি বছরের গত মার্র্চ মাসে জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থার (ইউনেসকো) কাছে আবেদন করেছে বাংলা অ্যাকাডেমি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন- বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী।
স্বীকৃতি পেতে আবেদনে বাংলা একাডেমি বলেছে, রাজশাহী অঞ্চলের বাসিন্দারা ঘরে শৌখিন সামগ্রী সংরক্ষণ এবং উৎসবে বিশেষ ধরনের শখের হাঁড়ি তৈরি করে। মূলত কৃষিপ্রধান ওই অঞ্চলের বড় বড় হাটে বিভিন্ন ধরনের শৈল্পিক কারুকার্যমন্ডিত পাত্র বিক্রি হয়। দুই যুগ আগেও রাজশাহী অঞ্চলের সাড়ে চার হাজার পরিবার এ হাঁড়ি তৈরি করত। এখন হাতে গোনা কয়েকটি পরিবার মেলা উপলক্ষে তা করে থাকে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখন ঘর সাজাতে কত সব জমকালো জিনিস পাওয়া যায় বাজারে। কিন্তু গত শতকেও গ্রামীণ বাংলায় ঘর সাজানোর সম্বল ছিল ‘শখের হাঁড়ি’। গ্রামীণ গৃহিণীদের ঘরের সাজ-সজ্জার কাজে ব্যবহার হতো শখের হাঁড়ি। এখন নানা রঙ-নকশার তৈরি মাটির সেই হাঁড়ির প্রচলন উঠেই গেছে বললেই চলে। এখন আর তেমন চোখে পড়ে না গ্রামীণ বাড়িতে শিকেয় ঝুলানো রঙ-বেরঙ এই ‘শখের হাঁড়ি’।
‘শখের হাড়ি’র কারিগর সুশান্তকুমার পাল জানান, ‘বাবা মৃত ভোলানাথ কুমার পালও এই পেশায় ছিলেন। এটি আমার জন্মগত পেশা। বাবা মাটির জিনিসপত্র তৈরি করতো এগুলো দেখতে দেখতে বড় হয়েছে। বাবার সাথে কাজও করেছি। এইভাবেই ‘শখের হাঁড়ি’ তৈরির শিক্ষা।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমি চারুকলার ছাত্র না, যে বই পড়ে নকশা আঁকবো। অভাবের কারণে দ্বিতীয় শ্রেণির পড়া-শোনা শেষ করতে পারিনি। হাঁড়িতে রঙ তুলি দিয়ে নিজের আবেগ ফুটিয়ে তুলি। যখন যেমন ইচ্ছে তেমন। চেষ্টা করি সব থেকে ভালোভাবে আঁকার।
তিনি আরও বলেন, ভাই-ভাতিজি, ছেলে-ছেলের স্ত্রী নাতি-নাতনি সবাই মিলে কাজ করি। তারা সবাই এই কাজ পারে। আমার পরেও দুই প্রজন্ম রেখে যাব। তারা এই শখের হাঁড়িকে বহুদূর নিয়ে যাবে।’

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ