শখ পূরণ করতে হেলিকপ্টারে চড়ে বিয়ে

আপডেট: জানুয়ারি ২৮, ২০২২, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


‘বাক্ বাকুম পায়রা/ মাথায় দিয়ে টায়রা/ বউ সাজবে কাল কি/ চড়বে সোনার পালকি।’ পালকিতে চড়ে বিয়ে করার দিন ফুরিয়েছে আরো আগে। ঘোড়ার গাড়ির যুগও শেষ। এখন যন্ত্রচালিত বাহনেই ভরসা রাখেন বর-কনে। সেখানেও রয়েছে বিস্ময়। বাবা-মায়ের ও নিজের শখ পূরণ করতে প্রকৌশলী বর গিয়েছিলেন হেলিকপ্টারে বিয়ে করতে। আর অপর প্রান্তে কনে হিসেবে রয়েছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের ছাত্রী।

বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) পুঠিয়ার হাড়োগাতি গ্রামের দনোকুড়ির একটি ইটভাটা থেকে হেলিকপ্টারে করে যাত্রা শুরু করেন বিয়ের ওই পাত্র। আর কপ্টারে করে ব্যতিক্রমী ওই বরযাত্রা দেখতে ইটভাটায় ভিড় করেন এলাকার উৎসুক জনতা।
রাজশাহীর পুঠিয়া থেকে বর হেলিকপ্টারে উড়ে গিয়েছিলেন দিনাজপুরের বিরামপুর। বর ইমরান হোসেন একজন ডিপ্লোমা প্রকৌশলী। তিনি সাবেক নৌবাহিনী কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেনের ছেলে। ঢাকার একটি বায়িং হাউজে চাকরি করেন। তিনি বিয়ে করলেন দিনাজপুরের বিরামপুরে রাবি‘র অর্থনীতি বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্রী ইফফাত জাহানকে। ইফফাত গাজীপুর

ক্যান্টনমেন্টের একজন সেনাকর্মকর্তার মেয়ে। এদিকে হেলিকপ্টার দেখতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পুঠিয়ায় ইটভাটায় শত শত উৎসুক মানুষ অপেক্ষা করেন। অন্যদিকে দিনাজপুরের বিরামপুরে বর দেখার জন্য না হলেও হেলিকপ্টার দেখার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েছিলেন স্থানীয় মানুষ।

বরের বাবা ইসমাইল হোসেন জানান, হেলিকপ্টারে করে আমার ছেলের বিয়ে হবে-এটা আমাদের স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন আজ (বৃহস্পতিবার) পূরণ হলো। হেলিকপ্টারে বরসহ তিনজন যাত্রী বহন করা হয়।

দিনাজপুর জেলার বিরামপুরে কৌতূহলী মানুষের ভিড় সামলাতে অবেশেষে পুলিশের সাহায্য নিতে হয়েছে কনেপক্ষকে। বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে হেলিকপ্টারটি ইমরানকে নিয়ে দিনাজপুর জেলার বিরামপুরে স্থানীয় সরকারি ডিগ্রী কলেজ মাঠে অবতরণ করে। এ সময় হেলিকপ্টারের শব্দে মুহূর্তেই আশপাশের গ্রাম থেকে মানুষ ছুটে আসে কলেজ মাঠে। এ সময় সবার চোখে-মুখে ছিল বিস্ময়।

কনের বাবা মিজানুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সে কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে স্বল্প পরিসরে বিয়ের আয়োজন করেছি। বিয়ের কাজ সম্পূর্ণ হলেই তারা হেলিকপ্টারে চলে যাবে।
কেন এমন ব্যতিক্রম আয়োজন? জানতে চাইলে ইমরান হোসেন বলেন, আমার জীবনের একটা বড় শখ ছিল হেলিকপ্টারে করে বরযাত্রী নিয়ে বিয়ে করবো। তাছাড়া করোনা পরিস্থিতিও ভালো না। শখ ও দায়িত্ব দুটোকে সামনে রেখেই এই সিদ্ধান্ত।

এ প্রসঙ্গে বিরামপুর থানা অফিসার ইনচার্জ সুমন কুমার মোহন্ত জানান, কলেজ মাঠে হেলিকপ্টার নামানোর জন্য আমাদের কাছে তারা অনুমতি চেয়েছিল। আমরা অনুমতি দিয়েছি। শুধু তাই নয়, নিরাপত্তার জন্য সেখানে পুলিশও পাঠানো হয়েছিল।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ