শততম টেস্টের ইতিহাস গড়ার অনুপ্রেরণা || সঠিক পথেই আছে বাংলাদেশের ক্রিকেট

আপডেট: মার্চ ২০, ২০১৭, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ

শততম টেস্ট। প্রত্যেকটা দলের মধ্যে তৈরি হয় রোমাঞ্চ। আর এই রোমাঞ্চকে বুকে ধারণ করে শ্রীলঙ্কার উদ্দেশে রওনা হয়েছিল মুশফিকুর রহিমরা। কিন্তু গল টেস্টে ২৫৯ রানে শ্রীলঙ্কার কাছে মুশফিকুর রহিমরা অসহায় আত্মসমর্পণ করলে বাঙালিরা একটু হলেও হতাশ হয়েছিল। কিন্তু তাদের প্রতি আস্থা হারাননি। আর ক্রিকেটপ্রেমী বাংলাদেশের মানুষদের জন্য ভালো কিছু করতে মরিয়া হয়ে উঠলো তামিম-সাকিবরা। এরপর এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। নানা উপহার ও আয়োজন দিয়ে জমকালো করা হলো টাইগারদের শততম টেস্টের মঞ্চ। দশম দেশ হিসেবে শততম টেস্ট খেললো টাইগাররা।
কিন্তু বাংলাদেশের ছেলেরা নাকি বিদেশের মাটিতে পারে না। দেশের মাটিতে অদম্য হলেও বিদেশের মাটিতে তা করতে পারে না টাইগাররা। বিশ্বের বড় বড় দলগুলোর সঙ্গে পাল্লা দেয়ার জন্য দেশের বাইরে লড়াই দেখাতে হবে, সামর্থ্যরে প্রমাণ দিতে হবে বিদেশেও ভালো খেলে-ক্রিকেট বিশ্লেষকরা এমন মন্তব্য প্রায়ই করেছেন গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দারুণ কয়েকটি সাফল্যের স্বাক্ষর রাখা বাংলাদেশকে নিয়ে। এবার নিজেদের যোগ্যতা দেখিয়ে দিল মুশফিকরা, শ্রীলঙ্কার মাটিতে শততম টেস্ট জিতে। এর আগে নিজেদের ১০০তম টেস্টে জয় তুলে নিতে পেরেছে ৩টি দল। অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তান। ইতিহাসের মাত্র চতুর্থ দল হিসেবে নিজেদের ১০০তম টেস্ট জিতে এলিট ক্লাবে তো প্রবেশ করলো টাইগাররা, সেই সাথে মর্যাদার আরো বড় কয়েকটি দলকে ফেললো পেছনে।
এদিকে কলম্বোর ‘অপয়া’ পি সারা ওভালের স্মৃতি যেন মুশফিকদের মনে খানিকটা খচখচ করছিল। আগের তিনটি ম্যাচ হয়েছিল এই মাঠে, যেখানে সবগুলোই ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল তারা। তবে সবার মনে অস্বস্তি থাকার কথা নয়, কারণ মুশফিক ছাড়া আর সবাই প্রথমবার এ মাঠে নামার অপেক্ষায় ছিলেন। ওই ‘দুঃসহ’ স্মৃতি আসলে মনে ঠাঁই না পাওয়ার আরেকটি কারণ ছিল-সবাই বাংলাদেশের শততম টেস্টের অংশীদার হবেন বলে। আর ‘সেঞ্চুরি’ টেস্টের রোমাঞ্চই যেন বাংলাদেশকে ইতিহাস গড়ার অনুপ্রেরণা দিল।
অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার মাটিতে এ জয়ের পরও সিরিজ হাতে নিতে পারে নি বাংলাদেশ। ‘জয় বাংলা কাপ’ ভাগাভাগি করতে হয়েছে তাদের। কিন্তু এক ম্যাচেই অনেক প্রাপ্তি তাদের। কলম্বোর অজেয় ভেন্যু জয় করেছে তারা দাপটের সঙ্গে। সেখানে ব্যাটিং-বোলিঙে সবাই ছিলেন অসাধারণ। কেউ না কেউ দাঁড়িয়ে গেছেন। একটি দল হিসেবে যে সফল হওয়া যায়, তার প্রমাণই মিলেছে পি সারা ওভালে।
নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে এর আগে বিদেশে জেতার অভিজ্ঞতা হয়েছিল বাংলাদেশের মাত্র দুইবার। প্রথমবার ৮ বছর আগে, ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তাদের মাঠে হোয়াইটওয়াশ করেছিল বাংলাদেশ। আর সর্বশেষ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২০১৩ সালে, দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ড্র করেছিল শেষটি জিতে। দেশের মাটিতে গত কয়েক বছর ধরে দাপট দেখানো বাংলাদেশ এবার লঙ্কা জয় করে বিদেশি দলগুলোকে একরকম সতর্ক করে দিল। একই সঙ্গে দেখিয়ে দিল-তাদের ক্রিকেট সঠিক পথেই চলছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ