শতভাগ অনুত্তীর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

আপডেট: মে ১৪, ২০২৪, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

এর দায় কে নিবে?


২০২৪ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় সারা দেশের ৫১টি প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেনি। অনুত্তীর্ণদের তালিকায় মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে বেশি। এসব প্রতিষ্ঠানে কেউ পাস না করায় শিক্ষকদের দায়ী করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ফলাফল ঘোষণার পর অনুত্তীর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে।

শতভাগ অনুত্তীর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই প্রথম নয়। বিগত বছরগুলোতে পরীক্ষায় শতভাগ অনুত্তীর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা অব্যাহতভাবে চলে আসছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনুত্তীর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেন বটে কিন্তু কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয় সে সম্পর্কে জানা যায় না।

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার ঢোরসা আদর্শ হাই স্কুল এবং নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বরাইকুড়ি আইডিয়াল গালর্স হাই স্কুল থেকে এবার ৮ শিক্ষার্থী এসএসসি পারীক্ষায় অংশ নিয়ে কেউ পাস করেনি। এক স্কুলের প্রধান শিক্ষক অংকে ফেল করার কারণে শিক্ষার্থীরা পাস করতে পারেনি বলে দাবি করেছেন। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ঘগোয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সব পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। এই বিদ্যালয়ে ১৩ জন শিক্ষক আছেন। পরীক্ষায় অংশ নেন ১৪ শিক্ষার্থী। ১৪ জন শিক্ষার্থীর সাথে ১ত জন শিক্ষক থাকলেও কেউ পাস করেনি।

এই লজ্জাজনক পরিস্থিতির দায় কারা নিবে? পরীক্ষার্থী শিক্ষক নাকি শিক্ষা উন্নয়নের সাথে জড়িত ব্যক্তিরা? দায় অস্বীকার করে নিজের দায় আড়াল করার প্রবণতা ব্যাপক। অথচ রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা, যার সাথে বিপুল সংখ্যক দায়িত্বশীলরা কাজ করছেন- অথচ তারা সকলেরই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায় অস্বীকার করছেন। এই যদি পরিস্থিতি হয় তা হলে সমস্যার সমাধান কীভাবে হবে? যার যতটুকু দায় সেটা তো নিতে হবে! তবেই সমাধানের উপায় বের করা সহজ হবে। কারণ সম্পর্কে যা বলা হয়- শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব নিয়ে পড়ান না।

কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থী এক কিংবা ১৪ জন হোক না কেন শিক্ষকগণ এটাকে যদি চ্যালেঞ্জ হিসেব না নেন তা হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। স্কুলগুলো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিয়মিত ভিজিট করছেন কি না, করলেও তা কতটুকু দায়িত্বশীলতার সাথে করছেন; সেটাও খতিয়ে দেখা দরকার। শিক্ষার্থীদের মান পরীক্ষা অংশ নেয়ার পর্যায়ে আছে কিনা সেটাও ভাববার বিষয়। যেনতেন করে পরীক্ষায় বসালেই শিক্ষার্থী কামিয়াব হয়ে যাবে- তেমনটিও ভাবার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু তারপরও এ ধরনের শিক্ষার্থী পরীক্ষায় যে কোনো উপায়ে অংশ নিতে পারছে। এসব কারণ সমূহের সাথে স্কুলগুলোর সমস্যাও চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। দায়িত্বশীল ও মানসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টির ওপরও সবিশেষ গুরুত্বারোপ করতে হবে।

Exit mobile version