শত্রুকে চিনতে হলে নিজেকে চিনতে হবে : বাদশা

আপডেট: অক্টোবর ২৪, ২০১৬, ১১:৫১ অপরাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক
‘শিক্ষার আলোয় দূর হোক অজ্ঞতার অন্ধকার’ স্লোগানে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ, কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস’ গ্রন্থ বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় বরেন্দ্র কলেজ রাজশাহীর আয়োজনে নগরীর মিয়াপাড়াস্থ রাজশাহী সাধারণ গ্রন্থাগারে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, বরেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ আলমগীর মো. আবদুল মালেক। প্রধান অতিথি ছিলেন, সাংসদ ফজলে হেসেন বাদশা। বিশেষ অতিথি ছিলেন, বরেন্দ্র কলেজের গর্ভানিং বডির সভাপতি প্রফেসর নূরল আলম, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক তরুণ কুমার সরকার এবং রাজশাহী সিটি করর্পোরেশনের ২২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুল হামিদ সরকার টেকন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ‘মনে রাখতে হবে বাংলাদেশের ইতিহাসের সৃষ্টি পেছনে ছাত্রদের অবদানই সবচেয়ে বেশি। ৫২‘র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত ছাত্রদের অংশগ্রহণ ছিল বেশি।’
তিনি আরো বলেন, ‘কিন্তু সেই ছাত্ররা যদি নিজেদের ইতিহাসটা, দেশের ইতিহাসটা, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসটা ভালো করে না জানে তাহলে এই বাংলাদেশ, যে বাংলাদেশকে নিয়ে আমরা গর্ব করি, যে বাংলাদেশের উন্নয়ন কামনা করি সেই বাংলাদেশের শত্রুদের বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করতে চাই- তা সম্ভব হবে না। কিন্তু শত্রুদেরকে চিনতে হলে নিজেকেও জানতে হবে। ইতিহাস ছাড়া এটা জানা সম্ভব না।’
বক্তব্য প্রদানকালে সাংসদ ফজলে হেসেন বাদশা শিক্ষার্থীদেরকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘রাজশাহীর নব্বইভাগ  ছাত্রছাত্রী এই (মুহম্মদ জাফর ইকবাল’র লেখা ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস) বইটি পেয়েছে। এই বইটি বাংলাদেশের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় বই এবং সংক্ষিপ্ত বই। আমি আজকে বরেন্দ্র কলেজে এই বইটি বিতরণ করার সুযোগ পেয়ে নিজেকে ধন্য মনে করছি।’
সাংসদ ফজলে হেসেন বাদশা আরো বলেন, ‘তোমরা বইটি পড়বে এবং বইটি পড়ার পর আমি আমাদের বরেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষকে বলেছি যে, গোটা ডিসেম্বর মাসে বরেন্দ্র কলেজে প্রতিটি ক্লাসে এই বইয়ের উপরের মুক্ত বক্তব্য প্রদান প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে এবং চূড়ান্তভাবে আমরা কলেজে আন্তঃশ্রেণি প্রতিযোগিতা হবে।’
প্রতিযোগিতার বিষয়ে বলতে গিয়ে সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা আরো বলেন, ‘এ আন্তঃশ্রেণি  প্রতিয়োগিতায় অংশগ্রহণকরীদের মধ্যে থেকে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় নির্বাচিত করা হবে। এদের মধ্যে পর্যায়ক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীকে যথাক্রমে দশ হাজার, সাত হাজার ও পাঁচ হাজার টাকা করে প্রাইজবন্ড প্রদান করা হবে।’
এছাড়াও রাজশাহী কলেজে ভর্তি হবার জন্য এখন যেমন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা চেষ্টা করে আর ভর্তি না হতে পারলে আফসোস করে অদূর ভবিষ্যৎ-তে এমন একটা অবস্থা সৃষ্টি হবে যে এ বরেন্দ্র কলেজ কলেজে ভর্তি হবার জন্য সবাই চেষ্টা করবে। আর ভর্তি না হতে পারলে আফসোস করবে বলেও বক্তব্যে উল্লেখ করেন সাংসদ ফজলে হেসেন বাদশা।
অনুষ্ঠানের প্রথম অধিবেশনের শুরুতে কলেজের শিক্ষার্থীরা অতিথিদেরকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এরপর কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের দু‘জন শিক্ষার্থীকে দিয়ে প্রথম বর্ষের দু‘জন শিক্ষার্থীকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়ার মাধ্যমে প্রতীকিভাবে নবীনদেরকে বরণ করা হয়।
এদিকে অনুষ্ঠানে পরিক্ষায় কলেজের বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য এ তিন বিভাগের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী নয় শিক্ষার্থীকে শিক্ষায় উৎসাহ প্রদানের লক্ষে ‘কামরুন নেশা খানুম’ শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করা হয়। বৃত্তির অর্থ গ্রহনকরী শিক্ষার্থীরা হলেন, সাব্বির হোসেন, নূর আলম, আরাফাত আলী, দেবাশীষ কুমার প্রামানিক, সোলাইমান হোসাইন, রায়হান, মুরসালিন, শুভ কুমার এবং সাব্বির হোসেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা কলেজকে ভালোবাসা জানিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করে। আর শিক্ষকরা আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দকে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন।
অন্যদিকে অনুষ্ঠানে ২০১৬ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান, ইয়ামিন আলী, বিষম্বর সরকার, কাজল আহম্মেদ, গোলাম রাব্বানীকে ক্রেস্ট প্রদানের মাধ্যমে প্রতীকি ভাবে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অধিবেশনে বরেন্দ্র কলেজের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ