শনিবার জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন শুরু || নগর ও জেলায় লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে তিন লাখ

আপডেট: ডিসেম্বর ৮, ২০১৬, ১১:০৯ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



আগামি ১০ ডিসেম্বর (শনিবার) জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে জেলা সাংবাদিক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার পৃথকভাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন রাজশাহী সিভিল সার্জন অফিস ও সিটি করপোরেশন (রাসিক)।
এবার নগরী ও জেলায় মোট ৩ লাখ ৫৩ হাজার ২১১জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এরমধ্যে রাজশাহী মহানগরীতে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ৬ হাজার ৭৬৩ এবং ৯টি উপজেলায় ২৮ হাজার ৫৯৬জন শিশুকে নীল রংঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এছাড়াও মহানগরীতে ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৫৩ হাজার ৪১০ এবং ৯টি উপজেলায় ২ লাখ ৬৪ হাজার ৪৪২জন শিশুকে ১টি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের সহযোগীতায় রাজশাহী সিভিল সার্জন কর্তৃক আয়োজিত জেলা সাংবাদিকদের অবহিতকরণ সভায় এ কর্ম পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। বলা হয়, ওইদিন কেন্দ্রগুলো সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। তবে রাসিক’র ওয়ার্ড অফিসের কেন্দ্রগুলোতে রাত ৮টা পর্যন্ত শিশুদের ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. ফারহানা হক-এর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী সিভিল সার্জন অফিস (সিএস) মেডিকেল অফিসার ডা. প্রদীশ কুমার বিশ্বাস, রানীনগর আরবান ডিসপেনসারী রাজশাহী মেডিকেল অফিসার ডা. ফরিদ হোসেন ও জেলা ইপিআই সুপার নূর মোহাম্মদ প্রমুখ। এছাড়া রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) সভা কক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র নিযাম-উল আযীম-এর সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব নির্মূল এবং অপুষ্টিজনিত শিশু মৃত্যু প্রতিরোধে প্রতিবারে ন্যায় (২য় রাউন্ড) এবারও সরকার জাতীয় ভিটামিন-এ প্ল¬াস ক্যাম্পেইন পালন করছেন। ক্যাম্পেইনের কার্যক্রম সফল করার লক্ষে ইতিমধ্যেই সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। রাজশাহীর ৯টি উপজেলার শিশুদের ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য স্থায়ী, অস্থায়ী ও ভ্রাম্যমাণ মিলে ১ হজার ৮৫৬টি কেন্দ্রে মোট ৫ হাজার ৪৮৬ জন স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ করা হয়েছে। এদিকে, নগরীর ৪টি থানা এলাকায় স্থায়ী, অস্থায়ী ও ভ্রাম্যমাণ মিলে ৩৮৪টি কেন্দ্রে মোট ১ হাজার ১৫২জন স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ করা হয়েছে।
তবে এ ক্যাম্পেইনে ৬ মাসের কম, ৫ বছরের বেশী ও ৪ মাসের মধ্যে শিশু ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল প্রাপ্ত এবং অসুস্থ শিশুদের কোনভাবেই খাওয়ানো যাবেনা বলেও সতর্ক করা হয়। আর সুস্থ শিশু যদি কান্নারত অবস্থায় থাকে তাহলে কোন অভিভাবকের হাতে এ ক্যাপসুল দেওয়া যাবে না এবং আগে থেকে ক্যাপসুল কেটে রাখা যাবে না বলে জানানো হয়। পরবর্তীতে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে। এই ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন খাওয়ানোর ফলে শিশুদের সকল ধরনের মৃত্যুহার শতকরা ২৪ ভাগ হ্রাস, মৃত্যুহার ৫০ ভাগ হ্রাস, ডায়রিয়াজনিত ৩৩ ভাগ হ্রাস, অন্ধত্ব প্রতিরোধ ও স্বাভাবিক বৃদ্ধি হয়।

আরেফিন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ