শহর রক্ষা বাঁধে ভাঙ্গন || আশ্বাস নয় কাজ শুরু হোক

আপডেট: জানুয়ারি ২৭, ২০১৭, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ

রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধÑ শিরোনামই বলে দেয়, বিষয় রাজশাহী মহানগরবাসীর জন্য কত গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ ওই বাঁধ রাজশাহী শহর রক্ষা করবে, শহরের মানুষের জীবন, সহায়-সম্পত্তির সুরক্ষা দিবে। স্বাভাবিকভাবেই রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধের ব্যাপারে নগরবাসীর আবেগ জড়িয়ে আছে। যখনই বাঁধের নাজুক অবস্থার কথা নগরবাসীর কাছে চাওর হয়ে ওঠে তখনই দেখা দেয় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। এই উদ্যোগ নগরবাসীর জন্য ধারাবাহিকভাবেই চলে আসছে। কেননা বাঁধের ব্যাপারে স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা আজো হয়নি। অথচ কাড়ি কাড়ি টাকা ব্যয় হচ্ছেই।
রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধ আবারো নগরবাসীর জন্য উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার কারণ হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত দৈনিক সোনার দেশের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নগরীর তালাইমারি থেকে বুলনপুর পর্যন্ত নদীসংলগ্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। ভাঙনে বাঁধের গোড়া থেকে ব্লক ও পাথর সরে গেছে। বেশকিছু জায়গায় মূল শহর রক্ষা বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বাঁধ সংলগ্ন এলাকার মানুষদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, বাঁধের ভাঙন রোধে ও সংস্কারে বেশ কয়েকটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজশাহী নগরবাসীর ভয় ও আতঙ্ক দূর হবে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নকশা অনুমোদনও পেয়েছে। বাজেট স্বল্পতার কারণে কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। বাজেট পেলেই কাজ শুরু করা হবে।
বরাদ্দের ব্যাপাটি খুবই হাস্যকর। পাউবোর মুখপাত্র বলছেন, টি- গ্রয়েন সংস্কারের জন্য চাহিদা দেয়া হয়েছে ৫ কোটি টাকা। বরাদ্দ আছে মাত্র ৩৫ লাখ টাকা। কেশবপুর এলাকা সংস্কারের জন্য লাগবে দেড় কোটি টাকা। বরাদ্দ আছে মাত্র ৬০ লাখ টাকা।
পদ্মা বাঁধের অবস্থা মাঝে মধ্যে এমনই ভয়ঙ্করমুখে পড়ে যা নগরবাসীকে আতঙ্কের মধ্যে ফেলে দেয়। বাঁধে ভাঙ্গন ঠেকাতে নগরবাসী একজোট হয়ে উদ্যোগ নিয়েছেন এমন নজির আছে। বিনিন্দ্র রজনী কেটেছে বাঁধের ভাঙ্গন ঠেকাতে। তারপরেও বাঁধের সংস্কার কিংবা এর একটি স্থায়ী সমাধানে কর্তৃপক্ষের আগ্রহ লক্ষ্য করা যায় নি। বরাদ্দের রকম দেখেই বোঝা যায় অবহেলার স্বরূপটি। দেশের বিভিন্ন এলাকায় নদীর ভাঙ্গন ঠেকাতে শত শত কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে মানুষের জানমাল রক্ষার জন্য, শুধু রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধের ব্যাপারেই কার্পণ্য লক্ষ্য করা যায়। এটা খুবই দুঃজনক ও অপ্রত্যাশিত।
কর্তৃপক্ষের মতে বাঁধের সব বিষয় নিয়েই তারা অবগত আছেন। ইতোমধ্যে ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ টিম এসে এলাকা পরিদর্শন করে গেছেন। নকশাও অনুমোদন করা হয়েছে। বাজেট পেলেই কাজ শুরু করা হবে। নগরবাসী আশ্বাস আর প্রতিশ্রুতির গোলকধাধার মধ্যে থাকতে চায় না। বাঁধ সংস্কারের কাজ অনতিবিলম্বে শুরু হবে এটাই তাদের প্রত্যাশা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ