শহিদ আব্দুল বারীসহ তিন শহিদ স্মরণে সভা

আপডেট: এপ্রিল ১৬, ২০১৭, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


স্মরণসভায় বক্তব্র দেন শহিদ আবদুল বারী হাওলাদারের সন্তান ফটোসাংবাদিক বুলবুল আহম্মেদ-সোনার দেশ

১৯৭১ সালের ১৪ এপ্রিল মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীর গুলিতে রাজশাহী টিবি হাসপাতালে কর্তব্যরত অবস্থায় শহিদ আব্দুল বারী হাওলাদার, আব্দুল কাইয়ুম এবং মোহাম্মদ সেলিম স্মরণে সভা ও মোনাজাত করা হয়েছে। শহিদ আব্দুল বারী হাওলাদারের সন্তান সকালের খবর পত্রিকার ফটো-এডিটর বুলবুল আহম্মেদের আহ্বানে এবং রাজশাহী প্রেসক্লাবের সহযোগিতায় গত ১ বৈশাখ (১৪ এপ্রিল) শুক্রবার বাদ আসর টিবি পুকুরপাড়ে গণকবর চত্বরে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়।
স্মরণ সভার শুরুতে শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। রাজশাহী বক্ষব্যাধি মেডিকেল হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট ডা. মো. আমির হোসেনের সভাপতিত্বে এবং রাজশাহী প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমানের পরিচালনায় স্মরণ সভায় বক্তব্য দেন, সেক্টর কমান্ডার ফোরাম রাজশাহী মহানগর সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী বরজাহান, সোনার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সিনিয়র সাংবাদিক আকবারুল হাসান মিল্লাত, শহিদ আব্দুল বারী হাওলাদারের সন্তান সকালের খবর পত্রিকার ফটো-এডিটর বুলবুল আহম্মেদ, রাজশাহী প্রেসক্লাবের সহসভাপতি আজাহার উদ্দিন, যুগ্মসম্পাদক আসলাম-উদ- দৌলা, ঠিকাদার ওয়াজির আলি, আবুল কালাম, স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের মাসুদ হোসের কনক, শহিদ আবুল কাশেম মনুর ছোট ভাই মোজাম্মেল হক রানা প্রমুখ।
সভা শেষে শহিদদের আত্মার শান্তিকামনা করে দোয়া করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন, রাজশাহী ডাশমারি পুকুর জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মনসুর রহমান। স্মরণ সভা ও মোনাজাতে রাজশাহী বক্ষব্যাধি হাসপাতালের কর্মকর্তা কর্মচারী ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে ৯ মাসের অল্প সময়ে কোথাও এতোবড় গণহত্যা হয় নি। নাম জানা বা নাম অজানা শহিদদের খুঁজে বের করে তাদের শ্রদ্ধার আসনে বসাতে হবে। ২৫ মার্চকে সরকার গণহত্যা দিবস ঘোষণা করেছেন। এখন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে কাজ চলছে। আজকের এই আয়োজন আমাদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের পথে কিছুটা হলেও এগিয়ে দেবে বলে বিশ্বাস করি। এ সময় বক্তারা বীর শহিদদের স্মরণে বক্ষব্যাধি হাসপাতালে এলাকাবাসির সহযোগিতায় আগামীতে বড় ধরণের স্মরণ সভা করার ঘোষণা দেন এবং সরকারের প্রতি এই গণকবর সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণের জোর আহ্বান জানানো হয়।
প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালের ওই দিন টিবি হাসপাতালে কর্মরত অবস্থায় আব্দুল বারী হাওলাদারসহ অফিস শেষে বাসায় আসার পরপরই পাক হানাদার বাহিনী ৬ জনকে গুলি করে এর মধ্যে ৩ জন (আব্দুল বারী হাওলাদার, আব্দুল কাইয়ুম, মোহাম্মদ সেলিম) শহিদ হন ও ৩ জন (হাবিবুর রহমান, আবুল ফজল ও মাহমুদ হোসেন বাদল) আহত হন এবং পঙ্গুত্ব বরণ করেন। সাতদিন ধরে তাদের লাশ সেখানে পড়ে ছিলো। পরে নার্সেস হোস্টেলের পূর্ব পাশে একই কবরে তিন জনকে দাফন করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের ৩৭ বছর পর ১৯৯৭ সালে রাজশাহী টিবি হাসপাতালের উদ্যোগে তিন শহিদের কবর পাকা করে শহীদদের প্রতিশ্রদ্ধা জানানো হয়।