শহিদ জননী জাহানারা ইমামের মৃত্যু দিবস কাল

আপডেট: জুন ২৫, ২০১৭, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


শহিদ জননী জাহানারা ইমামের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল সোমবার। ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন জাহানারা ইমাম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েটের গাইনাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দুরারোগ্য ক্যান্সারে ভুগছিলেন।
শহিদ জননী জাহানারা ইমাম গণসংযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের ম্বাধীনতাকামী মানুষকে একাত্তরের ঘাতকদালালদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা চালান। যে প্রচেষ্টা সফল করে তোলেন ‘ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটি’ গঠনের মধ্য দিয়ে। শহিদ জননী এই প্রয়াসে বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, ছাত্রছাত্রীসহ নানা পেশার মানুষকে একাত্তরের ঘাতকদের বিরুদ্ধে এক নবজাগরণের সৃষ্টি করেন।
যুদ্ধাপরাধী ও জামাত-শিবিরমুক্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ গঠনে নব্বই দশকের প্রথমার্ধে গণ-আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন শহিদ জননী। অন্যতম সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গঠনে।
ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি প্রতিষ্ঠা নব্বইয়ের দশকে জামায়াত গোলাম আযমকে তাদের দলের আমীর ঘোষণা করলে বাংলাদেশে জনবিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। বিক্ষোভের অংশ হিসাবে ১৯৯২ সালে ১০১ সদস্যবিশিষ্ট একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গঠন করেন। সর্বসম্মতিক্রমে এর আহ্বায়ক নির্বাচিত হন জাহানারা ইমাম।
১৯৯২ সালে ২৬ মার্চ গণআদালতের মাধ্যমে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গোলাম আযমের ঐতিহাসিক বিচার সম্পন্ন করা হয়। গণআদালাতে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে দশটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উত্থাপিত হয়। ১২ জন বিচারক সমন্বয়ে গঠিত গণআদালতের চেয়ারম্যান জাহানারা ইমাম গোলাম আযমের ১০টি অপরাধ মৃত্যুদ-যোগ্য বলে ঘোষণা করেন।
গণআদালত অনুষ্ঠিত হবার পর সরকার ২৪ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিসহ জাহানারা ইমামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ এনে অ-জামিনযোগ্য মামলা দায়ের করে। হাইকোর্ট জামিন পেয়ে জাহানারা ইমাম লাখো জনতার পদযাত্রার মাধ্যমে ১৯৯২ সালের ১২ এপ্রিল গণআদালতের রায় কার্যকর করার দাবিতে জাতীয় সংসদের স্পিকার,  তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনাকে স্মারকলিপি দেন।
উল্লেখ্য, শহিদ জননীর জন্ম ৩ মে ১৯২৯, মৃত্যু ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন। বেশ কিছু বই লিখে গেছেন জীবদ্দশায়। তাঁর লেখা গ্রন্থ ‘একাত্তরের দিনগুলি’ ব্যাপক সমাদৃত হয়।
স্বাধীনতা পদক (১৯৯৭), বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯১), রোকেয়া পদক (১৯৯৮), বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৮), কমর মুশতরী সাহিত্য পুরস্কারসহ (১৯৮৮), অসংখ্য পদকে ভূষিত হন জাহানারা ইমাম।
জাহানারা ইমামের লড়াই-সংগ্রামের পথ ধরে ২০১০ সালের ২৫ মার্চ আওয়ামীলীগ সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে। এ পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল থেকে ২৭ টি মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় ঘোষিত হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আনা আপিল ও আপিল রায়ের রিভিউ’র চূড়ান্ত ছয়টি রায়ের পর জামায়াতের প্রাক্তন আমীর মতিউর রহমান নিজামী ও সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, প্রাক্তন দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা ও মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, জামায়াতের প্রাক্তন নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলী এবং বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। আপিলের আরেক রায়ে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর সাজা মৃত্যুদ- কমিয়ে আমৃত্যু কারাদ- দেয়া হয়েছে।