শহিদ জননী জাহানারা ইমামের মৃত্যু দিবস আজ

আপডেট: জুন ২৬, ২০২৪, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক:


শহিদ জননী জাহানারা ইমামের ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বুধবার (২৬ জুন)। ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন জাহানারা ইমাম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েটের গাইনাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দুরারোগ্য ক্যান্সারে ভুগছিলেন।

শহিদ জননী জাহানারা ইমাম গণসংযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষকে একাত্তরের ঘাতকদালালদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করার প্রচেষ্টা চালান। যে প্রচেষ্টা সফল করে তোলেন ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটি’ গঠনের মধ্য দিয়ে। শহিদ জননী এই প্রয়াসে বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, ছাত্রছাত্রীসহ নানা পেশার মানুষকে একাত্তরের ঘাতকদের বিরুদ্ধে এক নবজাগরণের সৃষ্টি করেন।

যুদ্ধাপরাধী ও জামাত-শিবিরমুক্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ গঠনে ৯০ দশকের ১মার্ধে গণ-আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন শহিদ জননী। অন্যতম সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গঠনে।

ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি প্রতিষ্ঠা নব্বইয়ের দশকে জামায়াত গোলাম আযমকে তাদের দলের আমির ঘোষণা করলে বাংলাদেশে জনবিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। বিক্ষোভের অংশ হিসাবে ১৯৯২ সালে ১০১ সদস্যবিশিষ্ট একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গঠন করেন। সর্বসম্মতিক্রমে এর আহ্বায়ক নির্বাচিত হন জাহানারা ইমাম।

১৯৯২ সালে ২৬ মার্চ গণআদালতের মাধ্যমে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গোলাম আযমের ঐতিহাসিক বিচার সম্পন্ন করা হয়। গণআদালাতে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে দশটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উত্থাপিত হয়। ১২ জন বিচারক সমন্বয়ে গঠিত গণআদালতের চেয়ারম্যান জাহানারা ইমাম গোলাম আযমের দশটি অপরাধ মৃত্যু-দণ্ডযোগ্য বলে ঘোষণা করেন।

গণ-আদালত অনুষ্ঠিত হবার পর তৎকালীন বিএনপি সরকার ২৪ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিসহ জাহানারা ইমামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র-দ্রোহিতার অভিযোগ এনে অ-জামিনযোগ্য মামলা দায়ের করে। হাইকোর্ট জামিন পেয়ে জাহানারা ইমাম লাখো জনতার পদ-যাত্রার মাধ্যমে ১৯৯২ সালের ১২ এপ্রিল গণআদালতের রায় কার্যকর করার দাবিতে জাতীয় সংসদের স্পিকার, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনাকে স্মারকলিপি দেন।

উল্লেখ্য, শহিদ জননীর জন্ম ৩ মে ১৯২৯, মৃত্যু ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন। বেশ কিছু বই লিখে গেছেন জীবদ্দশায়। তাঁর লেখা গ্রন্থ ‘একাত্তরের দিনগুলি’ ব্যাপক সমাদৃত হয়। বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৮), কমর মুশতরী সাহিত্য পুরস্কারসহ (১৯৮৮), বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯১), স্বাধীনতা পদক (১৯৯৭) ও রোকেয়া পদক (১৯৯৮) অসংখ্য পদকে ভূষিত হোন জাহানারা ইমাম।