শান্তির নগরীতে ছিনতাই! কঠোরভাবে দমন করতে হবে

আপডেট: জানুয়ারি ২৪, ২০২২, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ

রাজশাহী শান্তির নগরী। আর এই শান্তির নগরীতে পুলিশের অভিযানে আটকের খবর পাওয়া যাচ্ছে। যাদেরকে আটক করা হচ্ছে। তাদের অনেকেই কিশোর। আর কিশোর ছিনতাইকারীরা একটি চক্র তৈরি করে ফেলেছে। এই চক্রটা হত্যা, ধর্ষণ, মাদক ব্যবসার মতো গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। কিশোর ছিনতাইকারীরা গড়ে ওঠে কেন সেটা একটা প্রশ্ন। তাদেরকে স্বার্থন্বেষী মহলরা ব্যবহার করছে। এমনকি তাদেরকে আটকের পর এই মহলটা আইনের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য চেষ্টা করছে। তাই এই মহলটাকে আগে চিহিৃত করতে হবে। প্রয়োজনে তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে এসে কঠোরভাবে দমন করতে হবে। যাতে শান্তির নগরী রাজশাহীর পরিবেশ নষ্ট করতে না পারেন। এদিকেও সবাইকে নজর রাখতে হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সব ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা হয় না। এ জন্য খবর পাওয়া যায় না। আসামিও ধরা যায় না। এরপরও চলতি মাসে রাজশাহী নগরীতে এ পর্যন্ত ১৫টি ছিনতাই ও চুরির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৮টিই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়। ১ থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত পুলিশ ১৯ জন ছিনতাইকারী ও ১৩ চোরকে আটক করেছে। উদ্ধার করেছে ছিনতাই হওয়া টাকা ও মালামাল।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের এক কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, তাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, ১০ জানুয়ারি বর্ণালির মোড়ে, ১৩ জানুয়ারি রাজপাড়া থানার সিপাইপাড়ায়, ১৭ জানুয়ারি বোয়ালিয়া মডেল থানার বিলসিমলা গ্রেটার রোড এলাকায় ও ১৮ জানুয়ারি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে শিরোইল বাস টার্মিনাল এলাকায়। ছিনতাইকারীরা ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে মালামাল কেড়ে নেয়। ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা কম হয়। এ জন্য আগের রেকর্ডের সঙ্গে তুলনা করে বলা যায় না যে ছিনতাই বেড়েছে। যেগুলো তাদের নজরে এসেছে, সেগুলোর আসামি ধরা পড়েছে।
অপরাধ জগতে পা বাড়ানো কিশোরদের অনেকেই কোন না কোনভাবে মাদকসেবী বলে জানা যায়। মাদকের সহজলভ্যতা অনেক কিশোরকে করেছে বিপথগামী। পরিবারে যথেষ্ট মনোযোগ না পাওয়া শিশু-কিশোরদের গ্যাং কালচারে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বেশি। গ্যাং কালচার থেকে শিশু-কিশোরদের রক্ষা করতে হবে। কিশোর গ্যাং দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে। সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে গ্যাংয়ের মদতদাতাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে কেউ যেন শিশু-কিশোরদের বিপথগামী করতে না পারে সেজন্য রাজনৈতিক দলগুলোর অঙ্গীকার থাকতে হবে। গ্যাং কালচার থেকে মুক্ত হতে হলেও সমাজকেও ইতিবাচকভাবে বদলাতে হবে। মাদকমুক্ত এমন এক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে যেখানে শিশু-কিশোররা মাদকাসক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে না। সমাজে মূল্যবোধ ও নৈতিকতার চর্চা বাড়াতে হবে। অপরাধপ্রবণতা থেকে শিশু-কিশোরদের রক্ষা করতে পরিবারগুলোরও দায়িত্ব রয়েছে। সন্তান যেন একাকীত্বে না ভোগে, বিচ্ছিন্নতাবোধ যেন তাকে পেয়ে না বসে সেটা অভিভাবকদের লক্ষ্য রাখতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ