শান্তি প্রতিষ্ঠায় সবাইকে পাশে চান প্রধানমন্ত্রী

আপডেট: নভেম্বর ২০, ২০১৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠায় সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শনিবার চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জেলার মানুষের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তিপূর্ণ দেশ। এখানে সন্ত্রাস আর জঙ্গিবাদের কোনো স্থান হবে না। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে আমি আহ্বান জানাচ্ছি।”
গণভবন থেকে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে প্রায় তিনঘণ্টা ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস বিরোধী ও উন্নয়ন নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। এর আগে গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী বিভাগের জেলা মানুষের সঙ্গে একই ধরেনর ভিডিও কনফারেন্স করেন।
সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় মসজিদের ইমাম, শিক্ষক, অভিভাবক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী, প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা সংস্থাসহ সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “সকলকে সম্মিলিতভাবে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি করতে হবে। মানুষকে বোঝাতে হবে- এই পথ শান্তির পথ না, এই পথ নিরাপদ পথ না। এই পথ কখনও মানুষের কল্যাণ বয়ে আনে না।”
“আমরা কল্যাণের পথে থাকতে চাই। জনগণের সার্বিক উন্নয়ন করা- এটাই আমাদের লক্ষ্য। সে লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করতে চাই।”
চট্টগ্রাম বিভাগের মানুষদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনাদের প্রতি আহ্বান থাকবে এটাই, সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমাদের দেশকে যেন শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারি।”
প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারের শুঁটকি ব্যবসায়ী ও লবণ চাষী, রাঙ্গামাটির কাঠমিস্ত্রি, কুমিল্লার কৃষক, মৃৎশিল্পী, চাঁদপুরের সাংবাদিক ও লবণ চাষী এবং চট্টগ্রামের তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা, রিকশাচালক ও শ্রমিদের সঙ্গে কথা বলেন।
চট্টগ্রামের লালদিঘী ময়দান থেকে একজন রিকশাচালক প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আমি ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা শুনছি। কিন্তু, আজকে আপনার সাথে কথা বলতে পাইরা বুঝলাম ডিজিটাল বাংলাদেশ কী।”   ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী বিএনপির বিভিন্ন কর্মকা-ের সমালোচনাও করেন।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়াকে ফোন করে চায়ের আমন্ত্রণ জানানোর কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বললাম, আসেন নির্বাচন করি। খালেদা জিয়া নির্বাচনে আসলেন না। নির্বাচন বর্জন করলেন।”
২০১৫ সালের শুরুতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের চালানো সরকারবিরোধী সহিংস কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “৯২ দিন গুলশানের অফিসে বসে বিরিয়ানি এনে খেয়েছেন আর আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছেন। “সে যদি নির্বাচনে না আসে, তার খেসারত বাংলাদেশের জনগণ কেন দেবে?” এর আগে প্রধানমন্ত্রী সমুদ্রসম্পদ অনুসন্ধানের জন্য জরিপ জাহাজ ‘এমভি মিন সন্ধানী’ উদ্বোধন করেন। চট্টগ্রাম থেকে ভিডিও কনফারেন্সে মৎস্য ও প্রাণীসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী দেশের এক কোটি ৮২ লাখ মৎস্য আহরণকারীর কথা উল্লেখ করে বলেন, “এমভি মিন সন্ধানীর প্রয়েজনীয়তা ছিল।”
চলতি বছরের ৯ জুন এমভি মিন সন্ধানী মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে এসেছে। আগামী মাস থেকে জাহাজটি বঙ্গোপসাগরে মৎস্য ও সমুদ্রসম্পদ অনুসন্ধানের কাজ শুরু করবে।
গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার উপদেষ্টা হোসেন তৌফিক ইমাম, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর, আওয়মী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মণি উপস্থিত ছিলেন।- বিডিনিউজ