শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় রাবির ১৭ দফা শিক্ষার্থীদের সহযোগিতার প্রয়োজন হবে

আপডেট: জানুয়ারি ১৯, ২০২২, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় কর্তৃপক্ষ ১৭ দফা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে চুরি-ছিনতাইসহ অন্যান্য অপ্রীতিকর বা অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা বৃদ্ধির কারণে কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়–য়ারাও দীর্ঘদিন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে সংঘটিত বিশৃঙ্খলা দূরীকরণে কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়ে আসছিল।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক শ্রেণির বহিরাগত একটা বড় সমস্যা হয়ে আছে। মূলত এরাই নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকা- করে থাকে। চুরি-ছিনতাই এমনকী ছাত্রদের ওপর হামলার মত ঘটনাও ঘটে। কিন্তু এদের দৌরাত্ম্য কোনোভাবেই নিরসন করা সম্ভব হয়নি। অভ্যন্তরীণ কিছু সমস্যাও রয়েছে- সেগুলোকেও কর্তৃপক্ষ চিহ্নিত করেছেন এবং এ ব্যাপারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেগুলো হলÑ বহিরাগতদের চিহ্নিত করতে নিয়মিতভাবে স্টুডেন্ট আইডি/এনআইডি চেক করা এবং অকারণে ঘুরাফেরা করা বহিরাগতের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকগুলোতে শৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণে অধিকতর পুলিশি নজরদারির ব্যবস্থা করা, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন মাঠ, বাগান ও ভবনের বিভিন্ন স্থানে যথার্থ আলো ও মনিটরিং এর ব্যবস্থা করা, সন্দেহজনক ব্যক্তি, গাড়ি ও রিক্সার গতিবিধি নজরদারিতে রাখা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সহায়তায় ক্যাম্পাসে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা, ক্যাম্পাসে অনুমোদনবিহীন দোকান চিহ্নিত করে উচ্ছেদের ব্যবস্থা করা এবং অনুমোদিত দোকান রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করার ব্যবস্থা করা, রাত আটটার পরে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বহিরাগত কাউকে ক্যাম্পাসে যত্রতত্র ঘোরাফেরা করতে না দেয়া, প্যারিস রোডসহ অন্যান্য রাস্তা ও স্থানে ব্লক স্থাপন করা, নিষিদ্ধ দ্রব্যাদি বহন, সংরক্ষণ ও হস্তান্তররোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা, সাম্প্রতিক সময়ে করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে ও সচেতন হতে অনুপ্রাণিত করা, ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যবস্থা করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে কোনো অনুষ্ঠান করতে শিক্ষার্থীরা বিভাগীয় সভাপতির সুপারিশক্রমে ও শর্তসাপেক্ষে প্রক্টরের অনুমতি পেতে পারে। তবে বহিরাগতদের পিকনিকের কোনো অনুমতি দেয়া হবেনা।
যাদের জন্য এই শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার তাগিদ সেই শিক্ষার্থীরা ১৭ দফার সিদ্ধান্তে অনুপস্থিত। নিরাপত্তার বিষয়টি শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনিরই কাজ নয়। শিক্ষার্থীদের বিশেষ করে যারা বিশ্ববিদ্যালয় অভ্যন্তরে হলের সাথে সংযুক্ত তাদের সচেতনতা ও সক্রিয়তা এ ক্ষেত্রে ফলপ্রসু হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় অভ্যন্তরে শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠন, সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ অন্যন্য সংগঠনের সহযোগিতা রাবি কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্যের কার্যকারিতা আরো বৃদ্ধি করতে পারে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ