শাবি’র প্রথম আন্তর্জাতিক শিক্ষা সফর

আপডেট: মে ২৭, ২০২১, ১:৪৫ অপরাহ্ণ

ইমাম হাসান মুক্তি, প্রতিনিধি, নাটোর (লালপুর)


১. আগ্রার তাজমহলের সামনে শিক্ষা সফরকারী দলে লেখক (বাঁ থেকে দ্বিতীয়)। ছবি সংগৃহীত। ছবি: আজকের পত্রিকা। ২. কুতুব মিনারের সামনে শিক্ষা সফরকারী দলে লেখক (বসা অবস্থায় বাঁ থেকে দ্বিতীয়)। ছবি সংগৃহীত। ছবি: আজকের পত্রিকা।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সমাজকর্ম প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ২৪ জনের (১৮ জন ছেলে ও ৬ জন মেয়ে) একটি দল আন্তর্জাতিক শিক্ষা সফর করে। শিক্ষাথীদের উদ্যোগে তৎকালীন বিভাগীয় শিক্ষক (বর্তমান বরিশাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য) ছাদেকুল আরেফিনের নেতৃত্বে সফরকারি দল ভারতের প্রসিদ্ধ চারটি প্রদেশ ভ্রমন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিভাগের উদ্যোগে এটিই ছিল প্রথম আন্তর্জাতিক শিক্ষা সফর।
১৫ দিনের এই স্বল্পকালীন সফরে কলকাতা, জয়পুর ও দিল্লীর প্রসিদ্ধ স্থান সমূহ পরিদর্শন করা হয়। সফরকালীন প্রতিনিধিদল সেখানকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ, এলাকাবসী এবং বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের সাথে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন। প্রতিনিধিদল বিশ্বদরবারে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে প্রতিনিধিত্বমূলক ভূমিকা পালনে সক্ষম হয়।
হাজারো প্রতিবন্ধকতাকে ছাপিয়ে সিলেট থেকে আন্তার্জতিক শিক্ষা সফর দলের শুভযাত্রা শুরু হয় ১৯৯৭ সালের শেষের দিকে। প্রথম বিদেশের বুকে পা রাখার স্বপ্নময় আমেজ মনের মধ্যে আন্দোলিত হতে থাকে। আনন্দমুখর যাত্রীবহর নিয়ে দিগন্ত বেনাপোল সীমান্ত অভিমুখে ছুটতে থাকে। প্রভাতি অভায় যখন বাংলাদেশ কাস্টমসের ঝামেলা শেষ করে ভারত সীমান্তে পদার্পণ করি সে সময়ের আবেগ আপ্লুত অনুভূতি চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। পেট্রোপোল বা হরিদাসপুর ভারত সীমান্ত পথে আমরা ভারতে প্রবেশ করি। কলকাতার উদ্দেশ্যে যাত্রা করি দুপুরের দিকে। পূর্বের ব্যবস্থা মোতাবেক চৌরঙ্গী লেনে হোটেল বিমান-এ থাকার ব্যবস্থা ছিল। দলের সদস্য সংখ্যা বেশী হওয়ায় আরো কয়েকটি হোটেলে ভাগাভাগি করে আমাদের থাকতে হয়। শুরু হয় পরিদর্শনের পালা, বিভক্ত বাংলার একাত্মীকরণের অনুভূতি।
কলকাতা: কলকাতা বাঙ্গালীর ইতিহাস-ঐতিহ্য মন্ডিত প্রাচীন শহর। এখানে বাংলাদেশের সংস্কৃতির মাটির গন্ধ মিশে আছে। প্রাচীন শহর হিসেবে পুরোনোর ছাপ রয়েছে শহরে। অবহেলিত ও অবজ্ঞাবহ যানজট, পরিবেশ দূষণের শহর। তবুও এর মাঝে আপনার অনুভূতি বিরাজ করে।
নিকো পার্ক: প্রকৃতি আর কৃত্রিম সৌন্দর্য মন্ডিত দ্বৈত মিশ্রন সমৃদ্ধ বিশালাকৃতির পার্ক এটি। ছোট-বড় সকলের জন্য উপযুক্ত এক পরিবেশ। বিভিন্ন ধরণের গাছপালার সাথে রয়েছে সুশৃংখল পরিবেশ। রেলগাড়িতে চড়ে পুরো পার্কটি ভ্রমন করা যায়। এছাড়াও রয়েছে রুফওয়ে, ঘূর্ণায়মান ট্রেন, কৃত্রিম লেক ও ঝর্ণা, নাগরদোলাসহ
প্রায় ৩০টি রকমের বিনোদন সামগ্রি। এর পাশেই রয়েছে বোটিং লেক, যার সৌন্দর্য উপভোগ অনন্য অনুভূতির বিষয়।
বিজ্ঞান নগরী (সায়েন্স সিটি): বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এক অপূর্ব সমন্বয়ে নির্মিত এটি। যার প্রতি ক্ষেত্রে বিরাজ করছে বিজ্ঞানের কারসাজি। এখানে বিরাট একটি কক্ষে বিভিন্ন আকৃতির প্রজাতির রয়েছে ডাইনোসর। বৈদ্যুতিক শক্তিতে জীবন্ত ডাইনোসরের মতো নড়াচড়া করছে, আর গর্জন দিচ্ছে। ভয়াবহ এক ডাইনোসর সম্রাজ্য বিরাজ করছে এখানে। বিজ্ঞান পার্কে বৈজ্ঞানিক কলাকৌশলে বিভিন্ন ধরনের উপভোগ্য সৌন্দর্য মন্ডিত হয়েছে। বিজ্ঞান যাদুঘরে স্থান পেয়েছে দুর্লভ ও চাঞ্চল্যকর রহস্যের সংগ্রহ। রয়েছে আশ্চর্যজনক স্পেষ শো।
বিশাল মহাকাশ আকৃতির পর্দায় দেখানো হয় বিভিন্ন ছবি। বিজ্ঞান নগরীর ভেতরের কান্ড কারখানায় নিজেকে মনে হয় যেন বিজ্ঞান ভুবনের বাসিন্দা। আরো রয়েছে খাবারের জন্য আধুনিক স্ন্যাকস সপ ‘লারিকা’। প্রবেশ পথে রয়েছে বৈজ্ঞানিক কৌশলে নির্মিত বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতি। এ যেন এক স্বপ্নময় রাজ্য।
ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল: ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল ও পার্ক, কলকাতা আর্ট গ্যালারী, কলকাতা চলচ্চিত্র কেন্দ্র ‘নন্দন’, রবীন্দ্র সদনের নজরকাড়া সৌন্দর্য কখনো ভুলবার নয়। এখানে খুজে পাওয়া যায় পুরাতন ও নতুনের এক অপূর্ব সংমিশ্রন।
পাতাল রেল (মেট্রো ট্রেন): কলকাতার ঐতিহ্য পাতাল রেল। সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা। পুরো রেলপথ জুড়ে রয়েছে রবীন্দ্রনাথের আঁকা বিভিন্ন ছবির স্কেচ। এ যেন এক রবীন্দ্র সম্রাজ্য। পরিচ্ছন্ন পরিবেশের সমন্বয়। এছাড়াও কলকাতাতে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী টামবাস, টানা রিক্সা ইত্যাদি। কেনাকাটার জন্য রয়েছে নিউমার্কেট, গড়িয়াহটি কাপড়ের বাজার আরো কত কি!
আগ্রা: বাঙ্গালী আমেজ ছেড়ে নতুন জায়গায় যাই আমরা। যেখানকার ঐতিহ্য-সংস্কৃতি ভিন্ন। খাদ্য-দ্রব্যও ভিন্ন ধরনের। খাবার দেওয়া হয় বড় থালায় টক, ঝাল, মিষ্টি…বিভিন্ন মিশ্রণ। ভাত-রুটি দুই-ই থাকে। আমাদের খেতে বেশ কষ্ট হয়। আগ্রায় আমাদের ইয়ুথ হোষ্টেলের এক গণডর্মেটরিতে থাকার ব্যবস্থা হয়। সেখানে বাংলাদেশের মতো বৈদ্যুতিক লোড শেডিংয়ের খপ্পরে পড়ে কাটাতে হয় একটি রাত। তবুও তাজমহলের শহর আগ্রা আমাদের স্বপ্নের শহর।
সিকান্দারা: সম্রাট আকবরের সমাধিস্থল এটি। সৌন্দর্য মণ্ডিত বিশাল প্রাসাদের মাঝে শুয়ে আছেন সম্রাট। এখনে তার সেই সৌর্য্য-বীর্য্য নেই। নিথর-নিস্তব্ধ তিনি। শত শত বানর খেলা করছে প্রাসাদের সম্মুখে ও আঙ্গিনায়। মানুষের কোলাহল আছে শুধু নেই সম্রাটের কঠোর নির্দেশ।
আগ্রাফোর্ট (আগ্রা দূর্গ): সম্রাট আকবর, শাহজাহান, হুমায়ুনের রাজ্য শাসনস্থল এই দুর্গ। মোগল শাসন আমলে নির্মিত কারুকার্য খচিত বিশাল দুর্গ। এখানে রয়েছে সম্রাট শাহজাহানের খাস কামরা। যেখান থেকে অসংখ্য কাঁচের আয়নার সাহায্যে সম্রাট যমুনার অপর পাড়ে অবস্থিত তাজমহল দেখতেন। রয়েছে রাজকর্মীদের বিচার করার স্থান ‘দেওয়ানী খাস’ ও সাধারণ মানুষের বিচার স্থান ‘দেওয়ানী আম’। এছাড়াও এখানে রয়েছে রঙ্গমহল, গোশালা, অস্রাগার, পুকুর-বেদী, বাগান ইত্যাদি। মজবুত প্রাচীর বেষ্টিত এই দুর্গ ছিল রাজাদের ভোগ-বিলাস আর হুকুমদারীর ক্ষেত্র।
তাজমহল: ষোড়শ শতাব্দিতে নির্মিত যমুনা তীরে অবস্থিত তাজমহল। সম্রাট শাহজাহানের প্রিয়তমা সহধর্মিনী
‘মমতাজ’-এর প্রতি ভালাবাসা ও স্মৃতির অপূর্ব নিদর্শন এটি। ২২ হাজার শ্রমিকের কুড়ি বছরে নির্মিত পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের একটিতে শায়িত রয়েছেন মমতাজ। আশ্চর্য ও মনোমুগ্ধকর কারুকার্য খচিত বিশাল প্রাসাদের কাছে গেলে আবেগ-আপ্লুত প্রেমানুভূতি বিমোহিত করে তোলে। ভাল, মানুষকে কতটুকু উদার করতে পারে তা বুঝা যায়। কথিত আছে, ‘ফুল ও পয়সা কবরে ছিটিয়ে দিলে মনোবাসনা পূর্ণ হয়’। আমাদের অনেকে তা করে।
তাজমহলের প্রতিটি ক্ষণ প্রিয়জনের চরম অনুভূতির গোলক ধাধায় কাটে। সবাই যেন নিমগ্ন হয়ে যায় দূর অজানায়। শ্বেত পাথরে নির্মিত বিশাল ছাদ। মনকাড়া কত যে কারুকার্য দেয়ালে দেয়ালে। দামী পাথরে খচিত সমাধীস্থল। এক প্রশান্তিময় জায়গা। মনে হয়েছে শাহজাহান হাজারো দরিদ্রের শোষণের অর্থে যদিও গড়েছেন এ অমরকীর্তি, তবে তিনি ভালবাসাকে করে গছেন চিরঅমর। এই মুহুর্তে সুমি’র বিমোহিত গান আমাদেরকে শ্রেষ্ঠ প্রেমিক করে তোলে। আর যাই হোক প্রকৃত ভালাবাসার অন্তর্দৃষ্টি উম্মোচনে সক্ষম কালের সাক্ষীর এই
তাজমহল। প্রেম-ভালবাসার অনুপ্রেরণা।
জয়পুর: পর্যটকদের জন্য আকর্ষনীয় ও ঐতিহাসিক আরেকটি স্থান এটি। ভিন্ন ধর্মীয় দর্শনীয় স্থান। হিন্দু রাজাদের নির্মিত বিভিন্ন মন্দির, স্থাপত্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এখানে রয়েছে এশিয়ার বিখ্যাত সিনেমা হল রাজমনি। এটি একটি স্বপ্নের শহর।
গোলাপী শহর (পিংক সিটি): এই শহরের ৪৫ বর্গমাইল এলাকার সবগুলো দালান গোলাপী রঙে রঙ্গিন। এই শহরের কোন বাড়ি বা দোকান অন্য রঙের হলে ২১০০ রূপী জরিমানা করা হয়। পরিচ্ছন্ন দোকানপাট ও বাড়িগুলি। এই শহরের প্রবেশ দ্বারে নির্মিত রয়েছে বিরাট তোরণ। সুন্দর-সুন্দর দোকানগুলোতে রয়েছে বৈচিত্রময় ও আকর্ষনীয় সামগ্রী। মনে হয়, সম্ভব হলে সবগুলো নিয়ে আসতাম।
জয়পুর মিউজিয়াম ও পার্ক: জয়পুর মিউজিয়ামে রয়েছে বৈচিত্রময় সংগ্রহ। অতিপ্রাচীন মুর্তি, বাদশাহী পোশাক, যুদ্ধ সরঞ্জাম, আসবাব, বাসনপত্র ইত্যাদি। সেখানে ২৫০০ বছরের পুরনো অজ্ঞাত এক মহিলার মমি রয়েছে। মনে হয় জীবন্ত, যেন ঘুমিয়ে আছে। জাদুঘরের পাশেই রয়েছে চিড়িয়াখানা ও পার্ক। চিড়িয়াখানায় রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির পশু-পাখি। অনেক চেনা-অচেনা জীব-জন্তু। প্রাকৃতিক ও সুপরিকল্পিত এক লীলাভূমি।
যন্তর-মন্তর: জয়পুরের মান মন্দির বা যন্তর-মন্তর হলো প্রাচীনকালের পরিমাপক ও দিক নির্ণয় ক্ষেত্র। অতিসুক্ষ্মভাবে নির্মিত বিভিন্ন ধরনের যন্ত্র। বিভিন্ন ধরনের সময় ও দিক পরিমাপক যন্ত্র বসানো রয়েছে। যার
মাধ্যমে প্রাচীনকালে সময় ও দিক নির্ণয় করা হতো।
জলমহাল: এটি পানি বেষ্টিত একটি মহাল। বিলুপ্ত প্রায় প্রাসাদের ছাদে রয়েছে কৃত্রিম বাগান। সৌন্দর্যের শেষাংশটুকু যেন আকড়ে ধরে বাঁচতে চায়।
প্রতাপ সিংহ ও মান সিংহের প্রাসাদ: রাজা বিশ্বনাথ প্রতাপ সিংহ ও মানসিংহের প্রাসাদ এটি। এখানে বিখ্যাত শিব মহল অবস্থিত। চৌদ্দ’শ সালের কিছু শিলালিপি এখানে রয়েছে। শৈল্পিক কারুকার্য মন্ডিত বিশাল প্রাসাদ একটি পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত। এর মধ্যে শিশ মহল অবস্থিত। এটি এত বড় যে এক দিকে রাস্তা হারালে তা খুঁজে পাওয়া কঠিন। প্রসাদের বিশালতা ও সুরক্ষিত হওয়ার কারণে এই দুর্গ মোগল সম্রাটদের দখল করা সম্ভব হয়নি।
এছাড়াও এখানে রয়েছে প্রাচীন রাজাদের বাগান, প্রাচীন মন্দিরসহ অনেক ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান।
দিল্লি: ভারতের রাজধানী শহর দিল্লি। যার প্রতিটি ক্ষেত্রে রয়েছে আধুনিকতার ছোঁয়া। দেশী-বিদেশি পর্যটকদের আনাগোনা। আমরা শহরের আন্তর্জাতিক মানের হোটেল ‘ভিভেক’-এ উঠি। এটি ভারতের প্রাণকেন্দ্র। হরেক রকম মানুষ আর পণ্যের সমারোহ দেখা যায়।
লালকেল্লা (রেড ফোর্ট): লালকেল্লা একটি ঐতিহাসিক দূর্গ। শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বিশাল তোরণের উপরে উড়ছে দেশের পতাকা। মজবুত প্রাচীর বেষ্টিত এলাকা। ভেতরে সুরম্য প্রাসাদ, গ্যালারী। প্রাচীন বিচার কেন্দ্রে রয়েছে বিচারকের চেয়ার। সুন্দর মনোরম পরিবেশ। কারুকার্যে গড়া বড় বড় প্রাসাদ।
ইন্ডিয়া গেট: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহতদের স্মরণে ব্রিটিশরা নির্মাণ করে ইন্ডিয়া গেট। যার পাশেই রয়েছে সংসদ
ভবন, রাষ্ট্রপতির ভবন ইত্যাদি।
কুতুব মিনার: দিল্লীর শাসক কুতুব উদ্দিন আইবেকের শাসন আমলে নির্মিত সুউচ্চ মিনার। এর আশে-পাশে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ছোট কামরা, রক্ষীঘর ইত্যাদি।
লোটাস টেম্পল: পদ্ম ফুলের আকৃতিতে তৈরী একটি মন্দির। এখানে হিন্দু-মুসলীমসহ সব ধর্মের মানুষ তাদের নিজ নিজ নিয়মে প্রার্থনা করতে পারে।
এছাড়াও এখানে রয়েছে ভারতের জনক মহান নেতা মহাত্মা গান্ধীর সমাধী। প্রজ্জলিত আছে ‘শিখা অনির্বাণ’। মনোরম পরিবেশ গাওয়া হচ্ছে দেশাত্মবোধক গান। প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর সমাধী, ইন্দিরা গান্ধির পুত্র সঞ্জয় গান্ধির সমাধী, ১০ নং- জনপথ ইত্যাদি। দেখার মতো দিল্লি রেলওয়ে স্টেশন।
জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়: অন্যরকম অনুভূতির জায়গা। এক হল থেকে অপরটিতে আবার হল থেকে ফ্যাকাল্টিতে বাসে করে যেতে হয়। চারদিকে ছোট বড় পাহাড় আর ঘন বন। ছিমছাম পরিবেশের সাথে শিক্ষার্থীরাও বেশ ছিমছাম।
একদিন রাত সেয়া ন’টার শোতে হলে সিনেমা দেখতে যাই। ‘শো’ শেষে সোয়া বারোটায় আমরা দিল্লির রাজপথ ধরে আনেকটা পথ হেঁটে হেঁটে হোটেলে পৌঁছি।
দিল্লি থেকে আমরা সুপার ফাস্ট ‘দিল্লি এক্সপ্রেস’ ট্রেনে কলকাতা হয়ে বাংলাদেশে ফিরি। এখনো মনে হয় এই তো সেদিনের কথা। কত আনন্দের স্মৃতি মিশে আছে এই সফরে। শুধু কামনা করি ভাল থেকে বন্ধুরা। হয়তো আর কখনো এ সুযোগ আর পাব না। তাই স্মৃতি রোমন্থনেই বেঁচে থাকি।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ