শারদীয় দুর্গোৎসব শুধুই আনন্দটুকু থাক অনুভবে

আপডেট: অক্টোবর ৩, ২০২২, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ

বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। উৎসাহ ও আনন্দ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উৎসব-আয়োজন চলছে। ৫ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হবে পাঁচদিন ব্যাপি এই উৎসবের। এর আগে শুক্রবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দেবীর বোধন সম্পন্নের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের একান্ত বিশ্বাস ও সংস্কারের, হৃদ-রঙিন অনুভবে ভালবাসার উৎসব। আজ অষ্টমী। নবমী ও দশমীর মধ্য দিয়েই শেষ হবে ভালবাসার উৎসব। সব দুরাশা ম্লান হোক. শুধুই আনন্দটুকু থাক অনুভবে।
এবারের দুর্গোৎস বেশ খোলামনে, আরো গভীর ভালবাসায়, আরো উচ্ছ্বাস-আনন্দে ভরিয়ে তোলার আকাক্সক্ষা সনাতন ধর্মাম্বলম্বীদের। গত দুটি বছর দুর্গোৎসব মোটেও জমেনি। আনন্দে মেতে ওঠার কোনো সুযোগও ছিল না। করোনাভাইরাসের মারণ ছোবলে দুর্গোৎসবকে নিরস করে তুলেছিল। এবার অন্তত বুকভরে শ্বাস নেয়া যাচ্ছে। সব কিছুই স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। দেশ সেই পুরানো চিরচেনা ছন্দে। তাই এবারের দুর্গোৎসবে আনন্দ আবেদনটা হৃদয়াকুল করে। সবার মধ্যেই আনন্দে মেতে ওঠার প্রবল আকাক্সক্ষা। তারপরও সতর্কতার খড়গটা আছেই। না, সেটা করোনাভাইরাসের জন্য নয় নিরাপত্তার। কঠিন নিরাপত্তার মধ্য দিয়েই উৎসবে সামিল হতে হচ্ছে। দেশে করোনাভাইরাস বেশ দুর্বল হলেও সাম্প্রদায়িক উস্কানি, জঙ্গি-মাতম মোটেও দুর্বল নয়। দুর্বল ভাবাও হচ্ছে না। ফলে সরকার কয়েক স্তরে পুজামন্ডপ সুরক্ষায় ব্যবস্থা নিয়েছে। এই ব্যবস্থা আনন্দ-উৎসবে কোথাও বা একটু ছেদ তৈরি করতে পারে কিন্তু নিরাপত্তা যে অনিবার্য। পূর্বের অভিজ্ঞতা তাই বলে- সমাজে ওই হিংস প্রকৃতির মানুষেরাও আছে, যারা সাম্প্রদায়িকতা ছড়াতে চায়, রক্তপাত ঘটাতে চায়, দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। সাম্প্রদায়িক শক্তিকে তো ঠেকাতেই হবে। ওরা মানবতার শত্রু, মানুষের শত্রু।
ডিএমপির কমিশনার আশংকা প্রকাশ করেছেন দুগোৎসবে জঙ্গি হামলা হতে পারে। যদিও তিনি বিস্তর নিরাপত্তার কথা শুনিয়েছেন। রোববার (২ অক্টোবর) সকালে রামকৃষ্ণ মিশনের পূজামন্ডপ পরিদর্শনকালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সেই শঙ্কার কথা বলেছেন। তিনিও শঙ্কা প্রকাশ করছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে টার্গেট করে দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা হতে পারে। সেতুমন্ত্রীর এই শঙ্কা নিঃসন্দেহে নানা মাত্রিকে পরিধানযোগ্য। এ ক্ষেত্রে সতর্কতার দায়টা অনেক বেড়ে যায়। এই দায় শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বী কিংবা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনিরই নয় দায়টা বাংলাদেশের সকলের। সকলের সতর্ক অবস্থানই কূট রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধিও উদ্দেশ্য বানচাল করতে পারে।
তবুও উৎসব আমোদিত হোক। আনন্দ-আলোয় হৃদয় আলোকিত হোক আনন্দময়ীর আগমন প্রতিটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য শুভ হোক।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ