শারমিনের এসএসসি পাস || বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে আত্মপ্রত্যয়ী প্রতিরোধ

আপডেট: মে ৬, ২০১৭, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ

সাহস, আত্মবিশ্বাস ও লক্ষের প্রতি অবিচল আস্থা থাকলে অনেক অসাধ্যকে সাধন করা যায়। এটাকে আর উদাহরণ বলা যাবে না। আমাদের আশেপাশে জীবন সংগ্রামে সাফল্য অর্জনকারী এমন মানুষের সংখ্যা নেহাতই কম নয়। তারা সাহস ও আত্মবিশ্বাসের ওপর ভর করেই সম্মান নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। এমনই এক সাহসের নাম ঝালকাঠি জেলার শারমিন আক্তার। এখনো শিশু। শারমিন ঝালকাঠির রাজাপুর পাইলট বালিকা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৪ দশমিক ৩২ পেয়ে পাস করেছে। বৃহস্পতিবার এসএসসির ফল প্রকাশের পর শারমিন গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়।  যে সব পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়Ñ তাদের নিয়েই সাধারণত মাতামাতি হয় বিভিন্ন মহলে। তা হলে শারমিনকে নিয়ে কেন, সে তো জিপিএ-৫ পায়নি? কেননা তার লেখাপড়াটা চালিয়ে যাওয়াটাই অসম্ভব ছিল। সেই অসম্ভবকে সম্ভব করে সে এটাই প্রমাণ করেছে যে, সে পারে, সুযোগ-সুবিধা ও পরিবেশ পেলে আরো ভাল পারবে। সে সাহস ও আত্মবিশ্বাস তার আছে।
দৈনিক সোনার দেশে শারমিনকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। শারমিন নিজ মায়ের বিরুদ্ধে মামলা করে তার বাল্যবিয়ে ঠেকিয়েছে। এর জন্য সে ‘ইন্টারন্যাশনাল উইমেন অব কারেজ অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছে। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় ২০১৫ সালের আগস্টের শুরুর দিকে ৩২ বছর বয়সী এক পাত্রের সঙ্গে শারমিনের বিয়ে ঠিক করে তার মা। বিয়েতে রাজি না হওয়ায় খুলনায় নিয়ে তাকে পাত্রের সঙ্গে আটকে রাখে। পরে সেখান থেকে কৌশলে পালিয়ে রাজাপুরে আসার পরও মা আর সেই যুবকের নির্যাতন সহ্য করতে হয় তাকে। শেষে এক সহপাঠীর সহযোগিতায় রাজাপুর থানায় মা আর ওই যুবকের বিরুদ্ধে মামলা করে শারমিন। তার বাবা বিদেশে কর্মরত আছেন।
শারমিনের ভাষ্যমতে তার বিরুদ্ধে মামলা না হলে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হত না। তার স্বপ্ন আগামীতে একজন আইনজীবী। আর আইনজীবী হয়ে দেশ ও দেশের নির্যাতিত নারীদের পাশে দাঁড়ানোই হবে তার একমাত্র ব্রত।
সাহস ও অধ্যবসায় মানুষের সাফল্যেরই পথপ্রদর্শক। এ ছাড়া জীবনের জন্য ভাল কিছু অর্জন করা সম্ভব হয় না। শারমিনের মত অনেক কন্যাশিশুর স্বপ্ন বাল্যবিয়ের কারণে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ক্রীতদাসের জীবন তাদের মেনে নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এই অমানবিক আচরণ, নির্দয় নির্যাতনের বিরুদ্ধে নিশ্চয় শারমিন এক প্রতিবাদী কন্যার নাম। শারমিন অন্য কন্যাশিশুদের মধ্যে সঞ্চারিত হয়ে সামাজিক জাগরণ তৈরি করবে, অনুপ্রেরণা- উৎসাহ যোগাবে বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে। আর যে সব অভিভাবক মেয়েদের বাল্যবিয়ে দিয়েই দায়িত্ব সারতে চায়- শারমিন তাদের জন্য উৎসাহ-উদ্দীপক। কন্যা সন্তান মানেই বিয়ে দেয়া নয়Ñ প্রতিটি সন্তানকে সে ছেলে হোক কিংবা মেয়ে হোক তাদের সুশিক্ষিত করে গড়ে তোলাই অভিভাবকদের মূল লক্ষ্য হওয়া বাঞ্ছনীয়। শারমিনের সাহসের সাফল্য যদি ওইসব অভিভাবকদের মধ্যে এতটুকু আশা জাগায় যে, কন্যা সন্তান যে বোঝা নয়Ñ তারাও সুযোগ ও পরিবেশ পেলে ছেলেদের মত কিংবা ছেলেদের চেয়েও ভাল করতে পারেÑ তবেই কন্যাশিশুরা বাঁচে, দেশ ও সমাজ উপকৃত হয়। শারমিনের স্বপ্ন সাকার হোক এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ