শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান চায় রাবি শিক্ষক সমিতি

আপডেট: জানুয়ারি ২৫, ২০২২, ১০:৪৭ অপরাহ্ণ

রাবি প্রতিবেদক:


সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) চলমান পরিস্থিতির দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। একইসঙ্গে তারা শাবিপ্রবির উপাচার্যের বাসভবনের বিদ্যুত বিচ্ছিন্নের ঘটনার নিন্দা।

মঙ্গলবার (২৫ জাবুয়ারি) বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞাপ্তিতে তথ্য জানানো হয়। শিক্ষক সমিতির সভাপতি দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক কুদরত-ই জাহান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ঘটনা আমাদেরকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ও মর্মাহত করেছে। অনশনরত শিক্ষার্থীদের অনেকেই অসুস্থ। তাদের দাবির প্রতি আমরা সহমর্মী। শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ের আন্দোলনে যে ন্যাক্কারজনক হামলা হয়েছে আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাই এবং হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। অনশনে অসুস্থ এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হোক।

আমরা বিশ্বাস করতে চাই শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীবৃন্দ সচেতন ও বিবেকবান। তারা কোনো সুযোগ-সন্ধানী কুচক্রীমহলের ক্রীড়নক হিসেবে কাজ করবে না এবং শিক্ষকদের সম্মান ও মর্যাদাকে আঘাত করে এমন কোনো কাজ অব্যাহত রাখবে না। উপাচার্যের বাসভবনের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের অংশ হতে পারে না। আমরা এই অমানবিক তৎপরতার নিন্দা করছি।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অচলাবস্থা নিরসনে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। পরস্পরকে দোষারোপ নয়, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে। আমরা মনে করি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীবৃন্দের প্রতিনিধিদের সাথে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আলোচনা এক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক উদ্যোগ ছিল। সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি সমাধানে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সরকার সকল সহযোগিতা প্রদান করবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

এদিকে
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদ এবং শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি সরকারকে দ্রুত মেনে নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক চত্বরে অবস্থান কর্মসূচিটি পালিত হয়। গত ২০ জানুয়ারি থেকে একই দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করে আসছেন রাবি শিক্ষার্থীরা।

এসময় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আ-আল মামুন বলেন, ‘পুলিশি হামলা নতুন কিছু নয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়েও হামলা হয়েছে। ২০১৪ সালে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলা হয়েছে। ২০০৩ সালে রোকেয়া হলের ছাত্রীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলা হয়েছিল। এখনো হামলা হচ্ছে তার প্রমাণ শাবিপ্রবির হামলা। কেন হামলা হল শাবিপ্রবিতে? তারা স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে কথা বলেছে সেজন্য! একজন শিক্ষার্থীর যদি কিছু হয় তাহলে ছাত্র আন্দোলন কি হতে পারে বুঝতে পারছেন না। পঁচা শামুকে পা কাটবেন না।

শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিন, পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করবেন না।’ একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী মামুন হায়দার বলেন, ‘ছাত্র আন্দোলন গত ১০-২০ বছর দেখি। শাবিপ্রবিতে তারা প্রশাসনের সাথে সমঝোতা করতে চেয়েছিল। শিক্ষার্থীরা ১৪০ ঘন্টার বেশি সময় অনশন করছে কিন্তু সেদিকে নজর নেই সরকারের। আমরা শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলনে রয়েছি। আমাদের কর্মসূচি চলবে। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারী এবং একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যকারী ব্যক্তি উপাচার্য থাকার নৈতিক যোগ্যতা হারিয়েছেন।

তার পদত্যাগ চাই।’ পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব বলেন, নৈতিক দায়িত্ব থেকে এখানে এসেছি। হলের প্রভোস্টের সাথে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ ছিল। তাদের আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগের ছেলেরা তাদেরকে পেটালো। উপাচার্যের ইন্দনে পুলিশও পেটাল। সরকার আন্দোলনে তৃতীয় পক্ষ খুঁজছে। তাহলে তৃতীয় পক্ষ কি পুলিশ, ছাত্রলীগ? তারা ছাত্রদের উপর আঘাত না করলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না। এখানে ষড়যন্ত্রের গন্ধ না খুঁজে শিক্ষার্থীদের বাঁচান। তারা জীবন বাজি রেখে অনশন করছে।

বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সৌভিক রেজা বলেন, গণতন্ত্র চর্চার জায়গা, অধ্যাদেশে ভিসি নির্বাচনের কথা বলা আছে। কিন্তু গত ত্রিশ বছর ধরে এই অধ্যাদেশ মতো নিয়োগ চলে না। অনির্বাচিত ভিসি ও প্রশাসকের কাজ থাকে গ্রুপ তৈরি করা। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভিসি নির্বাচন চাই। শাবির ঘটনা এক দিনের বিস্ফোরণ নয়। ফুঁসে থাকা দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বিস্ফোরণ। তাই গণতান্ত্রিক ভিসি প্রয়োজন।

অবস্থান কর্মসূচিতে রাকসু আন্দোলন মঞ্চের আহ্বায়ক আবদুল মজিদ অন্তর, শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি শাকিলা খাতুন, ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মহব্বত হোসেন মিলনসহ অন্যান্য বাম ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।