শিক্ষণীয় গল্প…

আপডেট: মার্চ ২১, ২০২০, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ

এক লোক রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। রাস্তার পাশেই একটা হাতি দড়ি দিয়ে বাঁধা । হাতিটাকে এই অবস্থায়
দেখে লোকটা খুব অবাক হলো। কোন শিকল নেই, কোন খাঁচাও নেই। হাতিটার এক পা শুধু একটা পাতলা দড়ি দিয়ে বাঁধা । চাইলেই হাতিটা যে কোন মুহূর্তে দড়ি ছিঁড়ে চলে যেতে পারে। কিন্তু হাতিটা সেখানেই দাঁড়িয়ে আছে। দড়ি ছিঁড়ে চলে যাচ্ছেনা বা ছেঁড়ার কোন চেষ্টাই করছেনা।
অনেকক্ষণ আনমনে ভাবলো লোকটা। ঘোর কাটছেনা কিছুতেই। সুযোগ থাকার পরও হাতিটা মুক্ত
হওয়ার চেষ্টা করছেনা কেন? কি এমন কারণ থাকতে পারে এর পেছনে? ঘটনাটা বেশ চিন্তায় ফেলে দিয়েছে লোকটাকে। কিছুদূর যাওয়ার পর একজন ট্রেইনারের সাথে দেখা হলো তার । “সুযোগ থাকার পরও হাতিটা স্থির দাঁড়িয়ে আছে কেন? কেন সে দড়ি ছিঁড়ে মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছেনা? ” অনেক
আগ্রহ নিয়ে ট্রেইনারকে জিজ্ঞাসা করলো লোকটা। লোকটার প্রশ্ন শুনে হেঁসে উঠলো ট্রেইনার।
বললো “হাতিটা যখন অনেক ছোট ছিল, তখন এরকমই একটা পাতলা দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হতো তাকে। তখন বাচ্চা হাতিটাকে বেঁধে রাখার জন্য এই ছোট দড়িটাই যথেষ্ট ছিল। তাই চেষ্টা করার পরও দড়ি ছিঁড়ে সে মুক্ত হতে পারেনি। এরপর সে বিশ্বাস করা আরম্ভ করলো তার পক্ষে এই দড়ি ছিঁড়ে মুক্ত হওয়া সম্ভব না। বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাতিটা অনেক পরিনত হয়েছে, কিন্তু তার সেই বিশ্বাস এখনও আছে। সে এখনও ভাবে তার পক্ষে এই দড়ি ছিঁড়ে মুক্ত হওয়া সম্ভব না। তাই সে দড়ি ছিঁড়ে মুক্ত হওয়ার কোন চেষ্টাই করেনি আর” । লোকটা অভিভূত হয়ে গেল! নিজেকে মুক্ত করার সুযোগ থাকার পরও হাতিটা যেখানে ছিল সেখানেই স্থির হয়ে আছে কারণ সে ভাবে তার পক্ষে মুক্ত হওয়া সম্ভব
না! এমনকি সে আর চেষ্টাই করে দেখেনি!

ভেবে দেখুনঃ
কোন কাজে দু-একবার ব্যর্থ হয়েছি বলে আমাদের কতজন এই হাতিটার মতো “পারবনা” ভেবে জীবনকে এক জায়গাতেই ঝুলিয়ে রেখেছি? কতজন ভাবছি আমরা অক্ষম, আমাদের পক্ষে কিছু করা সম্ভব না? জীবনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটা কখনো ফুরিয়ে যায়না। ব্যর্থতা শিক্ষার একটা অংশ, ব্যর্থ হয়েছি বলে কখনই চেষ্টা করা ছেড়ে দেওয়া উচিত না।

কৃষক ও গাধার শিক্ষণীয় গল্প !…

একদিন এক কৃষকের গাধা একটা গর্তে পড়ে গেল। প্রাণিটি কয়েক ঘণ্টা ধরে চিৎকার করতে লাগল এবং তাঁর মালিকও চিন্তা করল তাকে কি করা যায়। অবশেষে তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন গাধাটির অনেক বয়স
হয়েছে, তাই এটা মোটেই খারাপ হবে না যদি তাকে মাটি দিয়ে সম্পূর্ণ ঢেকে মেরে ফেলা হয়।
তিনি তার প্রতিবেশীদের আমন্ত্রণ জানালো তাকে সাহায্য করার জন্য। তারা সবাই একটি করে বেলচা
নিল এবং ওই গর্তে মাটি ফেলতে লাগলো। প্রথমে গাধাটি বুঝল যে তাকে ভয়ঙ্করভাবে মেরে ফেলা
হচ্ছে গাধাটি আরও বেশি চিৎকার করতে লাগলো।
গর্তে কিছু মাটি ফেলার পর, কৃষক শেষ বারের মতো গর্তের দিকে দেখল, তিনি বিস্মিত হয়ে গেল
গর্তে যা দেখল। গর্তে যত বার বেলচা থেকে মাটি পরতে মলাগলো, গাধাটা তা দেহ থেকে
মাটি গুলো ঝেড়ে সে ঐ মাটির উপর তার পা গুলো রাখতে লাগলো। কৃষকের প্রতিবেশীরা অবিরাম
ভাবে বেলচা দিয়ে মাটি ফেলতে লাগলো এবং প্রাণিটি একইভাবে তার দেহ থেকে মাটি
গুলো ঝেড়ে সে ঐ মাটির উপর তার পা গুলো রাখতে লাগলো। একসময় দেখা গেল গাধাটা ঠিক গর্তের
উপরে উঠে আসল এবং তার জীবনটা ফিরে পেল।

শিক্ষাঃ এই গাধাটার মতই প্রতিনিয়ত ময়লা এসে আমাদের জীবনে পরছে। জীবনকে যদি সুন্দর করতে চান ঐ ময়লা গুলো জীবন থেকে ঝেড়ে ফেলে উপরের দিকে যান। জীবনের প্রতিটি সমস্যা এক একটি মাটি ভরা বেলচার মতো, আমরা সমস্যার চাপে হারিয়ে যেতে পারি যদি না সেগুলো ঠেলে তার উপর দাঁড়াতে
না পারি।

মহাবীর আলেকজান্ডারের শিক্ষণীয় গল্প…

মৃত্যু শয্যায় মহাবীর আলেকজান্ডার তার সেনাপতিদের ডেকে বলেছিলেন,’আমার মৃত্যুর পর আমার তিনটা ইচ্ছা তোমরা পূরণ করবে। আমার প্রথম অভিপ্রায় হচ্ছে,শুধু আমার চিকিৎসকরাই আমার কফিন বহন করবেন। আমার ২য় অভিপ্রায় হচ্ছে, আমার কফিন যে পথ দিয়ে গোরস্থানে যাবে সেই পথে আমার
অর্জিত সোনা ও রুপা ছড়িয়ে থাকবে । আর শেষ অভিপ্রায় হচ্ছে, কফিন বহনের সময় আমার দুইহাত কফিনের বাইরে ঝুলে থাকবে।’ তার সেনাপতি তখন তাঁকে এই বিচিত্র অভিপ্রায় কেন করছেন প্রশ্ন করলেন। দীর্ঘ শ্বাস গ্রহণ করে আলেকজান্ডার বললেন, ‘আমি দুনিয়ার সামনে তিনটি শিক্ষা রেখে যেতে চাই।
*আমার চিকিৎসকদের কফিন বহন করতে এই কারণে বলেছি যে যাতে লোকে অনুধাবন করতে পারে যে চিকিৎসকেরা কোন মানুষকে সারিয়ে তুলতে পারে না। তারা ক্ষমতাহীন আর মৃত্যুর থাবা থেকে রক্ষা করতে অক্ষম।’
*’গোরস্থানের পথে সোনা- দানা ছড়িয়ে রাখতে বলেছি মানুষকে এটা বোঝানোর জন্য যে সোনা-দানার একটা কণাও আমার সঙ্গে যাবে না।এগুলো পাওয়ার জন্য সারাটা জীবন ব্যয় করেছি কিন্তু নিজের
সঙ্গে কিছুই নিয়ে যেতে পারছি না।মানুষ বুঝুক এসবের পেছনে ছোটা সময়ের অপচয়।’
* ‘কফিনের বাইরে আমার হাত ছড়িয়ে রাখতে বলেছি মানুষকে এটা জানাতে খালি হাতেই পৃথিবী থেকে চলে যাচ্ছি…