শিক্ষাক্ষেত্রে করোনার নেতিবাচক প্রভাব দ্রুত কাটিয়ে উঠতে হবে

আপডেট: জানুয়ারি ২৮, ২০২২, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ

করোনা মহামারীতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে শিক্ষাব্যবস্থা। এ ক্ষতির রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে শঙ্কার মধ্যে পড়েছে। শিক্ষা নিয়ে নানা ধরনের কাজ করছে। অনলাইন ক্লাসকে সবচেয়ে গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে কিছু বৈষম্য স্পষ্ট হয়েছে। প্রান্তিক শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ছে। তবে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে ক্লাস রুমে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় কি না? তা সরকারকে বিবেচনায় নিতে হবে।
করোনার সংক্রমণ ৫ শতাংশ বা তার নিচে চলে আসার পর অনেকের মধ্যেই স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে শৈথিল্য ভাব দেখা গেছে। ভাইরাসটি প্রতিনিয়ত নতুন রূপে আবির্ভূত হচ্ছে। এদের নতুন রূপ অতীতের চেয়ে কম বিপজ্জনক নয়। সম্প্রতি ওমিক্রন নামে পরিবর্তিত ধরনের একটি ভাইরাস দেখা দিয়েছে। এ ভাইরাসটি অতীতের ধরনের তুলনায় কম প্রাণনাশক হলেও এর সংক্রমণ ক্ষমতা বেশি। কাজেই এ ভাইরাসটির ব্যাপারে নিশ্চুপ বসে থাকার সুযোগ নেই।
এর আগে যে কোভিড-১৯-এর সংক্রমণ দেখা গিয়েছিলো, তার ফলে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। সারাদেশের ন্যায় রাজশাহীতেও একেরপর এক লাশের মিছিল দেখতে হয়েছে। তবে এ সময়ে মানবিকতার যে বহিঃপ্রকাশ আমরা দেখেছি তার অনেকটাই ম্লান হতে বসেছে হত্যা, ধর্ষণসহ নানা সামাজিক অপরাধে। করোনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধসহ নানা কারণে মেয়েশিশুরা বাল্যবিবাহের শিকার হয়েছেন। বাল্যবিবাহের কবলে না পড়লে তাদের জীবনটা হয়তো কিছুটা আনন্দদায়ক হতে পারত। স্কুল বন্ধ থাকার ফলে শিশুরা, বিশেষ করে শহুরে শিশুরা একঘেয়ে জীবনের গ্লানি ভোগ করেছে। স্বাভাবিক সময়ের মতো পড়তে বসার তাগিদ হারিয়ে ফেলেছে। এর সঙ্গে যখন যুক্ত হলো অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা না করার নিষেধ। তখন তাদের জীবনটা হয়ে উঠল ইটের গাঁথুনির সংকীর্ণ ছিদ্র পথে কীটপতঙ্গ যেভাবে জীবনযাপন করে অনেকটা তার মতো।
কোভিড সংক্রমণের প্রকোপ হ্রাস পাওয়ার পর মনে হচ্ছিল সব যেন ঠিক হয়ে গেছে। কিন্তু বাস্তবতা তা নয়। অনেক শিশুর মধ্যে মিথ্যা অহংবোধের সৃষ্টি হয়েছে যা মনস্তাত্তিকভাবে তার জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আরও জানা গেছে, কোভিডের সময়ে ধনীরা অনেক বেশি ধনী হয়েছে এবং গরিবরা আরও গরিব হয়েছে। বিশ্ব পরিসরে জাকারবার্গ ও মিলিন্ডার মতো ১০ জন ধনী দ্বিগুণ ধনী হয়েছে। ধনী-দরিদ্রের মধ্যে ঘটে যাওয়া এ মেরুকরণ নতুন ধরনের সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করবে, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আর এর থেকে উত্তোরণের অন্যতম ‘শিক্ষা’ নিজেও বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। শিক্ষা থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কাও বাড়ছে।
আমাদের প্রবৃদ্ধির হার যতই হোক না কেন, আমরা যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সত্যিকারের জ্ঞান অর্জনের কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তুলতে ব্যর্থ হই, সুশিক্ষায় নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলতে না পারি তাহলে আমাদের উন্নয়ন কখনোই টেকসই হবে না। সুতরাং শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে বিনিয়োগ বৃদ্ধিসহ সময়পোযোগী সিদ্ধাতের বাস্তবায়নের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা অর্জনের পথকে সুগম করতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ