শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাউন্সেলর নিয়োগ সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়িত হোক

আপডেট: জানুয়ারি ১৮, ২০২০, ১:২৭ পূর্বাহ্ণ

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাউন্সেলর নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ১৬ জানুয়ারি রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বাংলাদেশ এডুকেশন রিপোর্টার্স ফোরাম (বিইআরএফ) আয়োজিত ‘শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার্থীর সার্বিক নিরাপত্তা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এ তথ্য জানান। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী মন্ত্রীর ভাষ্যমতে, প্রথমে প্রতিটি জেলায়, সম্ভব হলে প্রতিটি উপজেলায় দুই জন করে কাউন্সেলর নিয়োগ দেয়া হবে। পর্যায়ক্রমে শিক্ষার্থীদের মানসিক দিক নিয়ে কাজ করার জন্য প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজন নারী ও একজন পুরুষ, মোট দুই জন কাউন্সেলর নিয়োগ করা হবে।
বিলম্বে হলেও সরকারির এই সিদ্ধান্ত সময়ের দাবির প্রতি গুরুত্ববহ। মাঠপর্যায় থেকে দীর্ঘদিন থেকে দাবিটি চলে আসছিল। বর্তমান সরকার সেটি বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নিয়েছে। চলতি মাসের ৬ তারিখে দেশের উচ্চ আদালত এ মর্মে একটি রুল জারি করেন। দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ-স্কুল, মাদ্রাসাসহ অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাউন্সেলর বা ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট (মনোবিদ) কেন নিয়োগ দেয়া হবে না তা জানতে চেয়েছে আদালত। তারপরই সরকারের এই সিদ্ধান্ত আসলো।
আদালতের মতে, দেশের প্রতিটি নাগরিকের উপযুক্ত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এগুলো নিশ্চিতের বিষয়ে রাষ্ট্র কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। কিন্তু ক্রমাগত তথ্য-প্রযুক্তির ব্যাপ্তির কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদকাসক্তি, যৌন হয়রানি ও আত্মহত্যা চেষ্টা, হত্যাসহ নানারকম নৈতিক অবক্ষয়, বেপরোয়া জীবনযাপন, ব্যক্তিত্বের সংকট, পড়াশোনায় অমনোযোগিতা, অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খল জীবনযাপনের ঘটনা ঘটছে।
মনোবিদদের মতে জীবন প্রণালীর পরিবর্তন, সন্তান লালনের ক্ষেত্রে পরিবর্তন, নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি, উন্নত প্রযুক্তি, শারীরিক সমস্যা, এ রকম বিভিন্ন কারণে বাচ্চাদের মধ্যে মানসিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
টিনএজার পড়ুয়াদের সংবেদনশীলতা এমনিতেই বেশি হয়। মনে করা হচ্ছে যে পারিপার্শ্বিকতার প্রভাবে তাদের মনোজগতে সৃষ্টি হয় অকারণ জটিলতার। কল্পনাপ্রবণ টিনএজাররা ভুগছে মানসিক চাপের সমস্যায় যার ফলে বাড়ছে মানসিক অবসাদ ও উদ্বেগের প্রবণতা। ঠিক সময়ে মানসিক এ সমস্যা ধরা না পড়লে হঠাৎ করেই আসতে পারে বিপর্যয়।
এ ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাউন্সেলিং কর্মসূচি এ ধরনের অবাঞ্ছিত ও অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা সহনশীল পর্যায়ে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলেই আমরা মনে করি। সরকার তাদের গৃহীত সিদ্ধান্ত দ্রুততার সাথে বাস্তবায়ন করবে সেই প্রত্যাশাই রাখি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ