শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভাসমান অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

আপডেট: জানুয়ারি ১৮, ২০১৭, ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ

নজরুল ইসলাম বাচ্চু, চারঘাট



চারঘাট-বাঘাসহ রাজশাহী আঞ্চলে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে রয়েছে হরেক রকম খাবারের ভাসমান দোকান। যেখানে মিলছে বিভিন্ন ধরনের আচার ফুচকা, চটপটি, নুডুলস, ঝালমুড়ি, রঙ বেরঙের আইসক্রিম, চানাচুর, শরবতসহ বিভিন্ন ধরনের ভাজাপোড়া খাবার। ভ্রাম্যমাণ এসব দোকানে খাবার ঢেকে রাখা হয় না বলে এসব খাবারে স্বাস্থ্যঝুঁকি খুব।
সচেতনতার অভাবে সব সময় ধুলাবালি পড়া এসব অস্বাস্থ্যকর খাবারই স্কুল পডুয়া সন্তানকে কিনে দিচ্ছেন অভিভাবকরা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরাই কিনে খাচ্ছে এসব খাবার। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাস্তার পাশে বিক্রি করা খোলা খাবার খেলে ক্ষুধামন্দা, জন্ডিস, হেপাটাইটিস, পেটের পীড়া, পেটের প্রদাহসহ মারাত্মক সব রোগ হতে পারে।
চারঘাটের সারদা পাইলট স্কুলের সামনে অনেক শিশু শিক্ষার্থীদের এসব অস্বাস্থ্যকর খাদ্য কিনে দিচ্ছেন খোদ অভিভাবকরাই। শিশু শিক্ষার্থী জেমির মা ডলি খাতুন নিজেই সন্তানকে অস্বাস্থ্যকর এসব আচার কিনে দিচ্ছিলেন। এসময় জানতে চাইলে তিনি বলেন, বুঝতে পারছি এগুলো অস্বাস্থ্যকর খাবার। তবুও সন্তানের জেদে কিনে দিতে হচ্ছে। স্কুলের সামনে খোলা খাবার বিক্রি বন্ধ করলে এই সমস্যা কিছুটা হলেও কমবে বলে মনে করেন তিনি। টিফিন শুরু বা স্কুল ছুটি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুরা ভিড় করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে এসব খাবারের দোকানে। চারঘাট ফরহাত মডেল স্কুল ও বাঘা আইডিয়াল স্কুলের সামনে বিভিন্ন রঙ মেশানো মুড়ি বিক্রি হচ্ছিলো, এমন সময় বিক্রেতা কাছে রঙ মেশানো মুড়ি স্বাস্থ্যসম্মত কী না জানতে চাইলে তিনি কিছু না বলে ভ্রাম্যমাণ গাড়ি নিয়ে অন্যদিকে চলে যান।
এ বিষয়ে চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ডা. সাইফুল ফেরদৌস বলেন, রাস্তার পাশে বিক্রি করা খোলা খাবার খেলে শিশুদের ক্ষুধামন্দা, জন্ডিস, হেপাটাইটিস, পেটের পীড়া, পেটের প্রদাহসহ মারাত্মক সব রোগ হতে পারে। এছাড়া এসব খাবারে পানিবাহিত যে কোন ধরনের মারাত্মক রোগ দেখা দিতে পারে শিশুদের। এসব রোগ থেকে শিশুদেরকে রক্ষা করতে হলে অভিভাবকদের সচেতনতা এবং ব্যক্তিগতভাবে সবাই সচেতন হওয়ার ব্যাপারে গুরুত্ব দিতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ