শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবিতে নগরীতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

আপডেট: মে ২৪, ২০২১, ১০:০৮ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহীসহ সারাদেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়াসহ ৬ দফা দাবিতে রাজশাহীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে শিক্ষার্থীরা। সোমবার (২৪ মে) সকাল ১১টায় সারাদেশের ন্যায় রাজশাহীতেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় ছয় দফা দাবি তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন বক্তারা।
দাবিগুলো হলো- অবিলম্বে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হল ও হোস্টেল খুলে দিতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে করোনা টিকার আওতায় আনতে হবে। যদি কোনো শিক্ষার্থী করোনা আক্রান্ত হয় তাহলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তদারকিতে আক্রান্ত শিক্ষার্থীর চিকিৎসা করাতে হবে এবং করোনা আক্রান্ত হওয়ার ফলে যদি কোনো পরীক্ষা দিতে শিক্ষার্থী অপারগ হয় সেক্ষেত্রে পরবর্তীতে তাকে সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ দিতে হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সকল বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। আটকে থাকা গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে সম্পন্ন করতে হবে। রিভিউ ক্লাস/এক্সট্রা ক্লাস/ওপেন ক্রেডিট/ব্যাকলগ পরীক্ষা ইত্যাদি সুবিধাসমূহ দিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতিপূরণের সুযোগ করে দিতে হবে এবং এই সুবিধাসমূহের জন্য কোন অতিরিক্ত ফি আদায় করা যাবে না।
নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী জান্নাতুল সাবিরার সঞ্চালনায় এবং ইশতিয়াক আহম্মেদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোহব্বত হোসেন মিলন, রুয়েটের শিক্ষার্থী জারির আহমেদ, রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থী জিন্নাত আরা সুমু, নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী নাদিম সিনাসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীরা।
এ সময় তারা বলেন, করোনা মহামারির অজুহাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অযৌক্তিকভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে। অবিলম্বে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিতে হবে। অবিলম্বে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে করোনা টিকার আওতায় আনতে হবে। করোনা মহামারীর দোহাই দিয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে রাখা যাবে না। সরকার পরিকল্পিত ভাবে এই প্রজন্মকে অসার ও মেরুদ-হীন করে তুলছে। অবিলম্বে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না খুলে দিলে আমারা কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দিবো।
উল্লেখ্য, ৪৩৫ দিন ধরে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রয়েছে। লকডাউনের মধ্যেও শপিংমল, মার্কেট, অফিসসহ গণপরিবহণ খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এদিক বিবেচনা করে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবি জানাচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বিক্ষোভ সমাবেশে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহ খুলে দিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে ছয়টি দাবি তুলে ধরেন। বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টায় ছাত্র সমাবেশের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।