শিক্ষা অফিস ও শিক্ষক সমিতির দ্বন্দ ।। তানোরে মেধা যাচাইয়ে বঞ্চিত সাড়ে ১০ হাজার শিক্ষার্থী

আপডেট: জুলাই ১৭, ২০১৭, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজশাহীর তানোরে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা এক যোগে শুরু হয়েছে। কিন্তু মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির দ্বন্দে¦ তিনটি বিষয়ে নেয়া হচ্ছে না কোন লিখিত পরীক্ষা। এ কারণে উপজেলার প্রায় ৫৯টি স্কুলের ১০ হাজার ৪৫১ জন শিক্ষার্থী মেধা যাচাইয়ে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিন বিষয়ে লিখিত পরীক্ষা না হবার কারণে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির হাজারো শিক্ষার্থী বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন।
ফলে অভিভাবক মহল শিক্ষকদের এমন মনগড়া সিদ্ধান্তে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। এ পরীক্ষার পর বছরের শেষে হবে বার্ষিক পরীক্ষা। অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাইয়ে ব্যাপক ভূমিকা রাখে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টানা এক মাস কয়েক দিনের ছুটির পর গত ৬ জুলাই থেকে তানোর উপজেলা প্রতিটি স্কুলে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে। আবার কোনো কোনো স্কুলে সমিতির প্রশ্ন ছাড়াই নিজেরাই প্রশ্ন তৈরি করে নিচ্ছেন পরীক্ষা। কোনো নিয়মের মধ্যে থেকে হচ্ছে না এইসব অর্ধবার্র্ষিক পরীক্ষা। সকল বিষয়ে পরীক্ষার ফি আদায় করা হলেও তিনটি বিষয়ে হচ্ছে না পরীক্ষা।
বিষয়গুলো হলো শরীরচর্চা, কর্মজীবন এবং চারু ও কারুকলা। রোববার ছিল কর্মজীবনমূখি শিক্ষা পরীক্ষা। কিন্তু রহস্যজনক কারণে এ বিষয় সহ চারু ও কারুকলা, শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও নবম-দশম শ্রেণির ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়ে পরীক্ষা নেয়া হয় নি ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, রোববার ষষ্ঠ শ্রেণির কর্মজীবনমূখি শিক্ষা, অষ্টম, সপ্তম শ্রেণির চারু ও কারুকলা বিষয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিল। কিন্তু শিক্ষার্থীদের মৌখিকভাবে শিক্ষকেরা ঘোষণা দিয়ে পরীক্ষা বন্ধ করে দেন। আগামী সোমবার ষষ্ঠ শ্রেণির শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিজ্ঞান এবং বুধবারে চারু ও কারুকলা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবার কথা।
এছাড়াও আগামী বৃহস্পতিবার দশম শ্রেণির ক্যারিয়ার শিক্ষা আগামী শনিবারে অষ্টম শ্রেণির কর্মজীবনমূখী শিক্ষা বিষয়ে পরীক্ষা হচ্ছে না। ফলে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এনসিটিবির নির্দেশনায় দেখা যায়- জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় এ কয়টি বিষয়ে কোনো লিখিত পরীক্ষা হবে না। তবে মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা নিতে হবে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির দ্বন্দে¦র কারণে এইসব পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে না বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, জেএসসি ও এসএসসিতে লিখিত পরীক্ষা না নিলেও অর্ধবার্ষিক ও বার্ষিক পরীক্ষায় এসব বিষয়ে লিখিত পরীক্ষা না হলে কীভাবে শিক্ষার্থীরা এক শ্রেণি হতে অপর শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হবেন? লিখিত পরীক্ষা না হবার কারণে এসব শিক্ষার্থীরা মেধা বিকাশে অনেক পিছিয়ে যাবে। আর তার জন্য তারা দায়ী করছেন মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও শিক্ষক সমিতিকে।
উপজেলার তিনটি স্কুল বাদে বাকি স্কুলগুলোতে নিয়ম বহির্ভুত বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি রাজশাহী জেলা শাখার প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যদিও শিক্ষা আইনে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে- অর্ধবার্ষিক পরীক্ষায় প্রতিটি স্কুল প্রশ্নপত্র তৈরি করে পরীক্ষা নিতে হবে। কিন্তু একে অন্যের দ্বন্দ্বের কারণে শিক্ষক সমিতির প্রশ্নপত্র দিয়ে হচ্ছে পরীক্ষা।
শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৫৯টি স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পরীক্ষা দিচ্ছেন তিন হাজার ৯০৩ জন। সপ্তম শ্রেণিতে তিন হাজার ৫২৬ জন। অষ্টম শ্রেণিতে তিন হাজার ২২ জন।
তালন্দ স্কুলের প্রধান শিক্ষক আলতাব উদ্দিন বলেন, আমরা পরীক্ষা নিচ্ছি। নিজেরাই প্রশ্নপত্র তৈরি করেছি। সমিতির প্রশ্নপত্র নেয়া হয় নি। জেএসসি ও এসএসসিতে এসব বিষয়ের ব্যবহারিক নম্বর যোগ হবে। লিখিত পরীক্ষা হবে না মর্মে ইন্টারনেটে দেখেছি।
চাপড়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক সমিতি তানোর শাখার সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেন, আমার স্কুলে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পরবর্তিতে তার কাছে জানতে চাওয়া হয় প্রশ্নপত্রই হয় নি, কীভাবে পরীক্ষা নিচ্ছেন? উত্তর এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি মুজিবর রহমান বলেন, রাজশাহীতে অনেক স্কুল প্রেস থেকে প্রশ্নপত্র তৈরি করেছে। আমরা করলে অপরাধ কিসের? সমিতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশ্ন নিয়ে যাচাই-বাছাই করে প্রশ্নপত্র তৈরি করে থাকে। তবে ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম শ্রেণির তিন বিষয়ে লিখিত পরীক্ষার ব্যাপারে কোন মন্তব্য করেন নি তিনি।
এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আমিরুল ইসলাম জানান, সমিতির প্রশ্নপত্রে কোন পরীক্ষা নেয়ার বিধান নেই। তারা নিয়ম বহির্ভুতভাবে এইসব প্রশ্নপত্র তৈরি করে স্কুলে দিয়েছেন। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে প্রশ্নপত্র তৈরি করে অর্ধবার্ষিক ও বার্ষিক পরীক্ষা নিতে নিদের্শনা দেয়া হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ