শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলছে আজ মুছে যাক ভয়, থাক শুধুই স্বস্তি

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২১, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ

করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি মাথায় রেখেই দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আজ খুলছে। অনেক দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, আলোচনা-সমালোচনার সময় পার করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবারো প্রাণ সঞ্চারিত হবে। সেই উদ্যম বাসনা জ্ঞান শেখার, বন্ধুত্ব-সম্পর্ক, আনন্দ- অভিব্যক্তির মুহূর্তগুলো শিক্ষার্থীর হৃদয় ব্যাকুল করে তুলেছে দেড় বছরব্যাপি। বারবার খোলার উদ্যোগ নেয়ার পরও সরকার শেষ পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধেরই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই অর্গল কুলে যাচ্ছে। এবারের সিদ্ধান্ত সত্যিই বাস্তবায়িত হচ্ছে।
আনন্দ-উৎসাহ সর্বমহলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে যাচ্ছে। বিচ্ছিন্নতা বোধের দিনগুলোর অবসান হচ্ছে। শিক্ষক পড়ানোর জন্য উদগ্রিব- প্রিয় শিক্ষার্থীদের আবারো দেখবেন, কথা বলবেন, ভালবাসা দিবেন-জ্ঞান ছড়াবেন। শিক্ষার্থীরা স্কুলে-কলেজে যাবে, প্রিয় শিক্ষককে দেখবেন, জ্ঞান সংগ্রহ করবে আর বন্ধুদের সাথে আবারো সেই মিলন, কতকথা হবে আবার ভরবে আনন্দের বেলা। অভিভাবকও দুশ্চিন্তা মুছে স্বস্তি পেয়েছে- শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলছে, প্রিয় সন্তানের মধ্যে আর শূণ্যতা-হাহাকার, বিচ্ছিন্নতাবোধ দেখতে হবে না। চারিদেকেই আনন্দের আমেজ। মুছে যাক সব ভয়, থাক শুধুই স্বস্তিভরা দিন।
কিন্তু চিন্তায় ক্ষীণ অস্বস্তি থেকেই যাচ্ছে। কেননা করোনা সংক্রমণ থেমে নেই। কিছুটা দমিত বটে। কী হয়! কী হয় সেই দুশ্চিন্তাটা আছেই। এটাই ঝুঁকি। এই ঝুঁকি মোকাবিলাটাই মূল চ্যালেঞ্জ। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাটাই হবে মূল দায়িত্ব। দায়িত্বের ষোল আনাই উজাড় করে দিতে হবে। এখনে উদাসীনতার কোনো জায়গা নেই। এ দায়িত্ব অভিভাবকের, শিক্ষকের এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সকলের। স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রি-উপকরণ সহজ ও সুলভ করা, ঝুঁকি মোকাবিলায় সবধরনের প্রস্তুতি রাখা এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করার ব্যাপারে কোনো ধরনের শিথিলতা যেন প্রকাশ না পায়।
করোনাভাইরাস নিয়ে নষ্ট রাজনীতিও আছে। সে ব্যাপারেও সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকা বাঞ্ছনীয় হবে। করোনা সংক্রমণের এখন ৭ শতাংশের নিচে তবুও স্কুল খোলার ক্ষেত্রে ঝুঁকি শেষ হয়ে যায় নি; অথচ যখন সংক্রমণ ৪০ শতাংশের উপরে ছিল তখনও কোনো কোনো মহল থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়াার ব্যাপারে বেশ সোচ্চার হতে দেখা গেছে। সেটা যে মতলবের দাবি তা পরিষ্কার বুঝা গিয়েছিল। তারা পানি ঘোলা করে মাছ শিকারের আশায় মগ্ন ছিল। ওই স্বার্থন্বেষী মহল যে থেমে গেছে তা ভাবার কোনোই সুযোগ নেই। দেশকের অস্থিতিশীল করার ধারণা থেকে তারা কোনোভাবেই নিষ্ক্রান্ত হবে না। কেননা তারা স্বার্থের সন্ধানে ব্যাপৃত আছে। সমাজ উচ্ছেন্নে গেলেও তাদের কিছু যায় আসবে না। যে কোনো ধরনের গুজব সম্পর্কে শিক্ষক, অভিভবাকসহ দায়িত্বশীল সব মানুষকেই সতর্ক থাকতে হবে। যে বা যারাই এ ধরনের কাজ করতে উদ্যত হবে তাদেরকে সেখানেই থামাতে হবে প্রকৃত তথ্য সামনে এনে।
করোনা সংক্রমণ বিপজ্জনক হলে আবারো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হবে সেটা সরকার ইতোমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জীবনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। নিশ্চয় জাতির প্রত্যাশা শিক্ষার যে দুয়ার উন্মোচিত হলো, সেখানে সুবাতাস বইবে, শিক্ষার্থীরা আলোকিত হবে, জ্ঞান ও জীবনের জয়গান সমান গতিতে এগিয়ে যাবে।
সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের এই পথচলা সফল হোক। শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন রইল।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ