ঈশ্বরদীর মাদ্রাসার শিক্ষিকাসহ দুই ছাত্রী ৯ দিন পর উদ্ধার

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৪, ৯:২৯ অপরাহ্ণ

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি:ঈশ্বরদীর একটি হাফেজিয়া মাদরাসার এক শিক্ষিকা দুইজন ছাত্রীকে নিয়ে রহস্যজনক ভাবে উধাও হওয়ার ১০ দিন পর চট্টগ্রাম ও রাজশাহী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে তাদের উদ্ধার করে ঈশ্বরদীতে আনা হলেও উধাও হওয়ার কারণ এখনো জানা যায়নি। তাদের পরিবারের হেফাজতে নিজ নিজ বাড়িতে রাখা হয়েছে।

শিক্ষিকাসহ উদ্ধার তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে এক শিক্ষার্থীর অবস্থান চট্টগ্রামে এবং শিক্ষিকাসহ আরেকজন ছাত্রী রাজশাহীর দিকে ছিল বলে বুঝতে পারার পরও তাদের মোবাইল বন্ধ থাকার কারনে নাম্বার ট্র্যাকিং করেও তাদের অবস্থান নিশ্চিত হতে পারছিল না পুলিশ। এক পর্যায়ে অনেক চেষ্টার পর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, উধাও শিক্ষিকা ও ২ ছাত্রীর অভিভাবক এবং ঈশ্বরদী থানা পুলিশ নানাভাবে খোঁজ নিয়ে তাদের অবস্থান নিশ্চিত হন। উধাও হওয়া ৩ জনের মধ্যে শিক্ষিকার বাড়ি অরণকোলা, এক ছাত্রীর বাড়ি সাঁড়াগোপালপুর এবং অপর ছাত্রীর বাড়ি অরণকোলা গ্রামে। গত শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) তারা তিনজন রহস্যজনকভাবে ঈশ্বরদী থেকে উধাও হয়।

শিক্ষিকাসহ উদ্ধার ঘটনার দিন ছুটি মাদরাসায় ছুটি ছিল। মাদরাসার এক শিক্ষিকা ওই দুই ছাত্রীর বাড়ি থেকে তাদের মাদরাসায় ‘প্রয়োজন আছে’ বলে জানিয়ে তাদের সঙ্গে করে বের হয়েছেন বলে জানান মাদরাসা কর্তৃপক্ষ, উধাও হওয়া শিক্ষিকা ও ছাত্রীদের পরিবারের সদস্যরা। নিখোঁজ এক ছাত্রীর বাবা বলেন, মেয়ের খোঁজ না পেয়ে থানায় অভিযোগ করেছিলাম, পুলিশ আমাদের অনেক সহযোগীতা করেছে। মোবাইল ট্র্যাকিং করে আমার মেয়ে রাজশাহী আছে বলে জানিয়েছিলেন। শিক্ষিকার বাবা বলেন, আমার মেয়ে ওই মাদরাসায় হেফজ বিভাগে শিক্ষকতা করতো, সে মাদরাসাতেই থাকতো, গত শুক্রবার থেকে তার কোন হদিস পাচ্ছিলাম না। মাদরাসার পরিচালক মোঃ আবু সাঈদ শাহীন বলেন, আমরা মাদরাসার পক্ষ থেকে নানাভাবে খোঁজ নিয়েছি, পুলিশের সহযোগিতা চেয়ে আবেদন করেছিলাম।

শিক্ষিকাসহ উদ্ধার অরণকোলা খাতুনে জান্নাত বালিকা হাফেজিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ খাদিজা খাতুন জানান, শিক্ষিকা এবং ওই দুই শিক্ষার্থী মাদরাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে আমরা গত দশদিন ধরে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। উদ্ধার হওয়ার পর আমরা এখন দুশ্চিন্তামুক্ত হতে পেরেছি। তারা মাদরাসায় ফিরে এলে বিস্তারিত জানা যাবে। এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, একজন চট্টগ্রামে এবং দুইজন রাজশাহীর দিকে আছে বলে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত হই। অনেক চেষ্টার পর তাদের উদ্ধার করা হয়েছে। উধাও হওয়ার কারন সম্পর্কে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না তবে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর আমরা সব জানাতে পারবো।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ