শিথিল বিধি-নিষেধের নয় দিন সবারই বোধের অংশিদারিত্ব প্রত্যাশিত

আপডেট: জুলাই ১৫, ২০২১, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ

বৃহস্পতিবার (১৫) জুলাই থেকে করোনা প্রকোপের কারণে দেয়া সরকারি বিধি-নিষেধ শিথিল করা হয়েছে। এই শিথিল অবস্থা চলবে ২২ জুলাই পর্যন্ত। অর্থাৎ ইদুল আজহা সামনে রেখে এই শিথিলতা দেখানো হয়েছে। তবে করোনার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এটা যায় না। বরং শিথিলতার কারণে দেশ ভয়ঙ্কর রকমের অনিশ্চয়তার সম্মুখিন হয়েছে। কিন্তু এর উত্তম বিকল্পও কারো কাছ থেকে আসেনি। দেশের ধর্ম-সামাজিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এর বিকল্প ঠিক করা অনেকটা অসম্ভবও বটে। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আছে, ঝুঁকির তিব্র মাত্রা আছে তদুপরি পরিস্থিতিটা মেনে নিতে হচ্ছে। তবে উদ্ভুত পরিস্থিতির মধ্যে যতটুকু সামলে দেশের মানুষকে উৎসব- আয়োজনে সামিল করা যায় সেই প্রচেষ্টাই যথার্থভাবে অব্যাহত রাখতে হবে। সরকার সেই কৌশল নিয়েই এগোচ্ছে বলে মনে হয়। অবশ্য এই শিথিল পর্যায়ের অব্যবহতির পরপরই আবারো সর্বাত্মক লকডাউনে প্রবেশ করবে দেশ সরকারের তেমনি ঘোষণা আছে। এরআগে বিধি-নিষেধে গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিগুলো খোলা থাকালেও ইদের পরে ১৪ দিনের সর্বাত্মক লকডাউনে তা বন্ধ থাকবে। এটা এই ইঙ্গিত দেয় যে, সরকার এবার প্রকৃতঅর্থে খুবই টাই লকডাউন বাস্তবায়ন করতে চায়। কেননা করোনা পরিস্থিতি যে হারে সংক্রমণের মাত্রা লাফিয়ে লাফিয়ে এগিয়ে নিচ্ছে তাতে কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়া ছাড়া উপায় থাকবে না।
১৫ জুলাই থেকে ২২ জুলাই শিথিল বিধি-নিষেধ থাকলেও বেশ কিছু বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আর এই নিষেধাজ্ঞা দেশের মানুষেরই মেনে চলা উচিৎ হবে। আর সেটা না হলে তার ফলভোগ দেশের মানুষকেই করতে হতে পারে। সরকার যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে তাতে উল্লেখ করা হয়েছে- ১৪ জুলাই মধ্যরাত থেকে ২৩ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত আগের আরোপ করা বিধিনিষেধ শিথিল করা থাকলেও করোনার বিস্তার রোধে মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
এ সময়ে পর্যটন কেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদন কেন্দ্রে গমন ও জনসমাবেশ হয় এ ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠান- বিবাহোত্তর অনুষ্ঠান (ওয়ালিমা), জন্মদিন, পিকনিক, পার্টি ইত্যাদি এবং রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পরিহার করতে হবে।
এছাড়াও ইদুল আজহার নামাজের জামাত আদায়ের দিকনির্দেশনা দিয়েছে সরকার। সংক্রমণ এড়াতে কোলাকুলি বা হাত মেলানো থেকে বিরত থাকাসহ অন্যান্য বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সরকার কর্তৃক দেয় নির্দেশনার কতটুকু মানা হলো কী হলো না এটা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্যদের নজরদারি করা সহজ কোনো কাজ নয়Ñ যতক্ষণ পর্যন্ত না ইদ-উৎসবে সামিল মানুষ নিষেধাজ্ঞা মান্য করছে। নিষেধাজ্ঞা মান্য করাটা নিজের জন্য যতটুকু তার চেয়ে অনেক বেশি নিজ পরিবার ও সমাজের অন্যদের জন্য। বোধ দ্বারা তাড়িত হলেই কেবল সেটা সম্ভব। নিশ্চয় ভাল কিছু সব সময় প্রত্যাশিত।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ