শিথিল লকডাউনের প্রথম দিন স্বাস্থ্য সুরক্ষা মানলো কে, মানাবে কে?

আপডেট: জুলাই ১৭, ২০২১, ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ

বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে লকডাউন বিরতি। টানা এমমাস ধরে শিথিলে-কঠোরে লকডাউন বা সরকারের নিষেধাজ্ঞা বলবৎ ছিল। কিন্তু ইদুল আজহাকে সামনে রেখে ১৫-১৬ জুলাই পর্যন্ত ৯ দিন বিধি-নিষেধ শিথিল করা হয়েছে। এই ৯ দিন বাজার-হাট, গণপরিবহণ ও পশহাটগুলোর ব্যাপারে সরকারের স্পষ্ট নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কিন্তু বিধি-নিষেধের প্রথম দিন অধিক ক্ষেত্রেই সরকারি নির্দেশনা মানা হয় নি। যে দোকানিরা ইদের বাজার যাতে খুলে দেয়া হয়- তার জন্য বিক্ষোভ দেখাচ্ছিল এবং তারা দোকানপাট খুলে দেয়া হলে সরকারের নির্দেশনা পরিপূর্ণ মেনেই ব্যবসা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি জানাচ্ছিলেন কিন্তু তারাও স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যাপারটিকে সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করেছেন। দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।
তথ্যমতে, ইদকে সামনে রেখে মার্কেটগুলোতে বেচাকেনা জমে উঠতে শুরু করেছে। তবে যানবাহন কিংবা মার্কেট কোন জায়গাতেই স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে তেমন গুরুত্ব নেই। অধিকাংশ মানুষের কাছে মাস্ক থাকলেও তা সঠিক নিয়মে পরছেন না। অনেকের মুখ থেকে নাকে উঠছে না মাস্ক। আবার কারো থুতনির নিচেই থাকছে। অনেকে হাতে নিয়েই ঘুরছেন।
করেনাভাইরাস সংক্রমণের ১৪ মাসের বেশি সময় অতিক্রান্ত হয়েছে। অনেক চেনা-জানা মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়ে আমাদের ছেড়ে গেছেন। বর্তমান সময় টা বাংলাদেশের জন্য খুব খারাপ যাচ্ছে। সরকারের ৯ দিনের শিথিলতাও অনেক বিশেষজ্ঞের মতে যথার্থ হয়নি। দেশের ধর্ম-সামাজিক বোধ বিবেচনায় এ ছাড়া গত্যন্তর ছিল বলেও মনে হয়না। তবে ঝুঁকিটা অনেকটাই কম হতে পারতো যদি স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যাপারটিকে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েই দায়িত্বশীলতার সাথে মেনে চলতো বাস্তবিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে তার উপস্থিতি লক্ষ করা যাচ্ছে না। দুঃখজনক হলেও এটা সত্য যে, স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যাপারে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা যায় নি। না শহরে, না গ্রামে। এটা খুবই হতাশাজনক যে, বিশেষ করে শহরের মানুষ প্রতিনিয়িত তথ্য-প্রবাহের সাথে আছেন তদুপরি তাদের বড় অংশটিই স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যাপারে ভ্রান্ত বা খন্ডিত ধারণা পোষণ করছেন। প্রতিবেদনে তেমনি তথ্য পাওয়া যায়। অনেকের ধারণা যে, মাস্ক পরলেই স্বাস্থ্য সুরক্ষা হয়ে গেল। কিন্তু সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে এমনটি অধিকজন ভাবছেন না। স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যাপারে এই দৈনতা মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। এ ক্ষেত্রে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই যদি সচেতন হয় তবেই পরিস্থিতিকে সামাল দেয়া সম্ভব হবে। এটা পরিবহণ মালিক, হাট-বাজারের ক্রেতা বা কমিটির উদ্যোগ স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হলে স্বাস্থ্য সুরক্ষা পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি সাধন করা যেতে পারে। এ ব্যাপারে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রশাসনিকভাবেও বিষয়টিতে গুরুত্বের দাবি রাখে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ