শিবগঞ্জের পাঁকা ইউনিয়নে ১০ টাকা কেজির চাল বিতরণে অনিয়মের তদন্ত

আপডেট: এপ্রিল ৬, ২০২০, ১০:৫৮ অপরাহ্ণ

শিবগঞ্জ প্রতিনিধি


শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের ৮৬৬ জন হতদরিদ্র ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণের অনিয়মের সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় পর প্রশাসনের নটক নড়েছে। স্থানীয় এমপি ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল ও জেলা প্রশাসক এজেডএম নুরুল হক জরুরি ভিত্তিতে বঞ্চিত তালিকাভুক্তদের চাল ও কার্ড তাদের কাছে দ্রুত পৌঁছে দিতে নির্দেশ দেন। ইতোমধ্যেই বেশিরভাগ হতদরিদ্র মানুষের হাতে তাদের কার্ড পৌঁছে গেছে। তবে এখনো অনেকেই চাল ও কার্ড পায় নি বলে অভিযোগ আছে।
এ ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়ছে। তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জান মোহাম্মদ রোবাবার (৫ এপ্রিল) বিকেলে পাঁকা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে প্রাথমিক তদন্ত করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন প্যানেল চেয়ারম্যান-১ মো. দুরুল হোদা, খাদ্যবান্ধব কমিটি সদস্য আশফাকুর রহমান রাসেল, মেম্বার মো. তরিকুল ইসলাম, গোলাম মোস্তফা, সচিব আকবর হোসেন, ইউডিসি উদ্যোক্তা মোমিন, ডিলার শরিফুল ইসলাম ও আশরাফুল ইসলামসহ ও ভুক্তভোগীরা।
এসময় প্রতিটি ওয়ার্ডের ভুক্তভোগীরা ও জনসাধারণ উপস্থিত হয়ে চাল বিতরণের অনিয়মের বিস্তারিত অভিযোগ তুলে ধরেন।
অভিযুক্ত দুই ডিলারের মধ্যে শরিফুল তার অপরাধের জন্য সকলের কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেন, আগামী দিনে কাউকে আইডি কার্ডের ফটোকপি ব্যতিত চাল দেয়া হবে না। চাল বিতরণের আগে মাইকিং করে সবাইকে জানিয়ে দিবো।
কিন্তু অপর ডিলার আশরাফুল নিজের দোষ অস্বীকার করে বলেন, যারা চাল পায়নি বলে অভিযোগ করেছে তার কার্ড নম্বর চাই। কার্ড নম্বর না দিতে পারলে জানবো তাদের অভিযোগ মিথ্যা। তবে একথা স্বীকার করেন অনেক সময় বিভিন্ন্ দিক ম্যানেজ করতে গিয়ে অফিসকে কিছু চুরি করতে হয়।
বীরেন, গনপতি, ভরত, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. পারুলসহ অনেকেই অভিযোগ করেন, তারা ৩ বছরে চাল ও কার্ড পান নি। অনেকেই একবারও চাল না পেয়েও তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। অনেকেই ৩/৪ বার পেয়েছেন। বঞ্চিত জনগণ তাদের চাল ফিরে পাওয়ার দাবি জানান।
প্যানেল চেয়ারম্যান-১ দুরুল হোদা বলেন, আমি কিছুদিন আগে দায়িত্ব পেয়েছি। আমি কিছু বুঝা উঠার আগেই অভিযোগ হয়েছে। আগামীতে যেন জনগণ তাদের নায্য অধিকার বুঝে পাই সে কাজই করবো। কোন ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মের আশ্রয় নেয় হবে না। তবে ২০১৭ সালে তালিকায় নাম থাকার পর স্বচ্ছল হয়েছে বলে ২০৫টি নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের পক্ষে অনিয়মের অভিযোগকারি আশফাকুর রহমান বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশে কেউ অপরাধ করে ধামাচাপা দিতে পারবে না। তিনি ডিলার ও চেয়ারম্যানগণ ভবিষ্যতে আর কোন দুর্নীতির আশ্রয় নিবে না প্রতিশ্রুতি দেয়ারকে স্বাগতম জানিয়ে, ঘটে যাওযা ঘটনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা জান মোহাম্মদ বলেন, তদন্তকালে উপস্থিত ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, লিখিত অভিযোগ, চেয়ারম্যান-মেম্বারদের জবানবন্দীসহ অন্যান্য তথ্যদির ভিত্তিতে আমি তদন্ত রির্পোট পেশ করবো। তিনি আরো বলেন, ভুক্তভোগীরা যেন তাদের অধিকার ঠিক মত বুঝিয়ে পায় সে ব্যাপারে আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল বলেন, সঠিক ভাবে তদন্ত ও তদন্ত রির্পোট দেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। এ ব্যাপারে ছাড় দেয়ার কোন প্রশ্নই উঠবে না। অপরাধীদের আইন অনুযায়ী শাস্তি পেতেই হবে। ভুক্তভোগীরা তাদের নায্য অধিকার অবশ্যই পাবে।