শিবগঞ্জের পাঁকা ঘাটে টোলহার সহনীয় করার দাবি

আপডেট: মার্চ ৩, ২০২১, ৯:২০ অপরাহ্ণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:


চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের পদ্মা পারপারে ঘাটের টোল সহনীয় করার দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন থেকে তারা এ ঘোটের টোল সহনীয় করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন, সর্বশেষ ২৩ ফেব্রুয়ারি এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে জেলা প্রশাসকের কাছেও গণস্বাক্ষর সহকারে আবেদন করেন তারা। গতকাল বুধবার (০৩ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবে পাঁকা ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। লিখিত বক্তব্যে রবিউল ইসলাম উল্লেখ করেন, কৃষি কাজের জন্য জমিতে সার প্রয়োজন হয়, ৫০ কেজির বস্তা প্রতি ৩০ টাকা দিতে হয়, ৭০ লিটার তেলের জারকিনে দিতে হয় ৬০ টাকা, সোলার প্যানেল এ দিতে হয় ১৫০ টাকা, এমনকি প্রতিটি ডাবে টোল নেয়া হয় ২ টাকা। আর ট্রাক্টর পারাপারে প্রতিবারে দিতে হয় সাড়ে ৪ হাজার টাকা। চরে যারা থাকেন তারা অধিকাংশই কৃষি কাজের সাথে যুক্ত, তাদের কাছে এই মাত্রাঅতিরিক্ত টোল আদায় করা হয়ে থাকে। সরকারি টোলহারের তালিকা ঝুলানোসহ টোলসহনীয় করার দাবীর বিষয়টি নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা প্রশাসককে অবগত করা হয়, সবাই দেখবেন বলে আশ^াস দিলেও কোন কাজই হয়নি। এখনো ঘাটে ঝোলানো হয়নি টোলহার। ঘাট ইজারাদার জামাল উদ্দীন জামাল মেম্বার জানান, অনেক টাকা দিয়ে ইজারা নেয়া হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে ভরা নদীর হিসাবে ঘাটের সীমানা। এখন নদীর পানি শুকিয়ে গেছে, অনেকে বলছেন যেহেতু পায়ে হেটে আসছি, কি টাকা দিব। সরকারি নির্ধারিত টোলই তুলতে পারছি না। তিনি বলেন, একটা বস্তাতে ৩০টাকা নেয় ঠিকই আছে, ১০০ কেজির একটা কলাইয়ের বস্তাতে ১০ হাজার টাকার কালাই থাকে, ১০ হাজার টাকার জিনিসে ঘাটে ৩০ টাকা নেয়া কি খুবই বেশি হয়ে গেল। ঘাটে অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিষয়ে স্থানীয়দের দাবির বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাকিব আল রাব্বী বলেন, ঘাট ইজারাদার ও টোলহার কমানো নিয়ে যারা আবেদন করেছিলেন তারাসহ পাঁকা ইউনিয়নের দ্বায়িত্বশীল বেশ কয়েক ব্যক্তিকে নিয়ে সোমবার সভা করা হয়। সেখানে আগামী পহেলা বৈশাখ থেকে টিকিটের মাধ্যমে টোল আদায় করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ইজারাদার নিজ খরচে, টিকিট ছাপানোর ব্যবস্থা করবেন, টিকিটে লেখা থাকবে কত টোল। এছাড়াও টোলহার টাঙ্গানোর জন্য ইজারাদারকে বলা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ঘাট নিয়ে উভয়পক্ষই একে অন্যকে দোষারোপ করে, ইজারাদাররা বলেন, অনেক মানুষ টোল দেয়না, আবার অন্যদিকে এপথ যারা ব্যবহার করেন, তাদের অভিযোগ বেশি টোল নেয়ার। আশাকরি টিকিট দেয়া চালু হলে, এটা একটা পদ্ধতির মধ্যে আসবে।