শিবগঞ্জে অবৈধ ইটভাটায় দূষিত হচ্ছে পরিবেশ || তদন্ত কমিটি গঠন

আপডেট: মার্চ ১৫, ২০১৭, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ

সফিকুল ইসলাম, শিবগঞ্জ



চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে বন ও পরিবেশ অধিফতরের আইন উপেক্ষা করে ইটভাটা তৈরীর প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। নতুন নতুন ইটভাটার সঙ্গে বাড়ছে পরিবশে দূষণ। এসব ইটভাটার বেশিরভাগই গড়ে উঠেছে আমবাগান, ফসলি জমি ও ঘনবসতি গ্রামের পাশে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের বোগলাউড়ি বাজারের পার্শে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কমিনিটি ক্লিনিক থেকে মাত্র ১শ গজ দূরে অবস্থিত রুপালী ভাটা। তাছাড়া ভাটার পার্শে গ্রাম ও ফসলি জমি এবং আম বাগান রয়েছে। যা গ্রাম ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশেই গড়ে উঠেছে।
ভাটার পার্শেই অবস্থিত হাসানপুর-লক্ষীপুর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিমুল হক জানান, এ ভাটায় পরিবেশ দূষণের কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ বিপাকে পড়েছেন। যা প্রতিকারের জন্য আমি নিজেই বন ও পরিবেশ অধিদফতরে আবেদন করে দীর্ঘ দেড় বছরেও কোনো প্রতিকার পায় নি। এমনকি এ ভাটা অপসরণের দাবিতে বিভিন্ন পেশার কয়েক হাজার মানুষ মানববন্ধন করেও কোন লাভ হয় নি। পাকা ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান জানান, আমি এ ভাটাটি অপসরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি। এ ব্যাপারে রূপালী ভাটার মালিক বজলার রহমান তার ভাটার লাইসেন্সসহ সকল কাগজপত্র আছে বলে দাবি করেন।
শুধু এটিই নয়, উপজেলার দাদনচক, শ্যামপুর কয়লার দিয়াড়, আট রশিয়া, রানীনগার গ্রাম সংলগ্ন ডাইস্যাপাড়া ও মনোহরপুরের গ্রাম সংলগ্ন বিভিন্ন স্থানে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে  উঠা প্রায় ৩২টি ভাটা সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক ভাটাতে ধোঁয়া নিস্কাসণের জন্য ১২০ ফুটের স্থলে মাত্র ৬০ বা ৮০ ফুট উঁচু ড্রাম ব্যবহার কর হচ্ছে। প্রতিটি ভাটার পার্শে গ্রাম ও আম বাগান রয়েছে। প্রতি ভাটায় পোড়ানো হচ্ছে শত শত মণ কাঠ। সামান্য পরিমান কয়লা সদরেই রাখা হয়েছে। যেখানে  নষ্ট করছে ফসলি জমিসহ সবচেয়ে বেশি আয়ের উৎস আম বাগান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইটভাটার সঙ্গে জড়িত কয়েকজন জানান, রির্পোট করে কিছু হবে না। কারণ যারাই রক্ষক তারাই ভক্ষক। প্রতিবছরই বিভিন্ন অধিদফতরকে নজরানা দিয়ে ভাটা চালাতে হয়। পরিবেশ অধিদফতরের লোক এসে প্রতি ভাটা থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে যান।
শিবগঞ্জ উপজেলা ইটভাটা সমিতির সভাপতি আবু তালেব বলেন, শিবগঞ্জে লাইসেন্সধারী ২৫টি ইটভাটা রয়েছে। কিন্তু কয়টি চিমনীভাটা আছে এবং এগুলো বেআইনী কিনা তা তিনি এড়িয়ে যান। তবে কয়লার বদলে কাঠ পুড়ানো ও বেশি ভাটার ব্যাপারে তিনি কোন মন্তুব্য করতে রাজী হন নি। অন্যদিকে ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম পিন্টুও সব অভিযোগ এড়িয়ে গিয়ে ২৫-২৬ টি ইটভাটার মধ্যে কয়েকটির লাইসেন্স আছে বলে জানান।
এ বিষয়ে শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রমজান আলী জানান, ভাটা সম্পর্কে আমার কোনো ধরণা নেই। তাই কোন মন্তুব্যও করতে পারছি না। অন্যদিকে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, ইটভাটাগুলোর ব্যাপারে তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত চালানো হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।