শিবগঞ্জে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৭৩৭টি বাড়ির নির্মাণ কাজ শেষ

আপডেট: মে ৩, ২০২১, ১১:১৩ অপরাহ্ণ

শিবগঞ্জ প্রতিনিধি:


আশ্রয়নের অধিকার শেখ হাসিনার উপহার এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ অধীনে শিবগঞ্জে ৭৩৭টি বাড়ি নির্মানের কাজ শেষ হয়েছে। বাস করতে শুরু করেছে ৭৩৭টি পরিবার। সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এ প্রকল্পের বাড়িগুলোতে পরিবার নিয়ে অসহায়রা বসবাস করতে পেয়ে মহাখুশী। বাড়িতে রয়েছে টয়লেটসহ সেমি পাকা বাড়ি। তাই তারা বাড়ি দাতা প্রধান মন্ত্রীকে এক নজর দেখতে চান। দূর্লভপুর তেত্রিশরশিয়াতে বাড়ি পাওয়া নায়েমা বেগম জানান, আগে বাড়ি ছিল বার রশিয়াতে । শুশুরের মাত্র দেড় কাঠা জমি ছিল । সেটাও বিক্রি করে দিয়েছে। অবশেষে পরের জমিতে বাস করছিলাম। শেখ হাসিনার উদ্যোগে ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় আমিসহ এখানে ১৬ টি পরিবার বাড়ি পেয়েছি। সবাই আমার মত অসহায় ছিল।
আবেগজড়িত কণ্ঠে নায়েমা আরো জানান, যতদিন বাঁচবো ততদিনই শেখ হাসিনাকেই ভালবাসবো। শুধু নায়েমাই নয়, শিবগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৭৩৭ পরিবারের বেশির ভাগ পরিবারের সরজমিনে দেখা করলে একই কথা বললেন। তাদের দাবি জীবনে একবার হলেও শেখ হাসিনার সাথে দেখা করবো। সরজমিনে ঘুরে শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা বাজার সংলগ্ন ও সাহাপাড়া বনপাড়, তর্ত্তীপুর, তেত্রিশরশিয়া, ঘোড়াপাখিয়ার চকদেবোত্তর, কানসাটের গুদাম বাগান ও নিরালা গুচ্ছগ্রাম, সোনামসজিদ গৌড় এলাকাসহ প্রতিটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি পরিবার তাদের নিজ নিজ বাড়ি পরিস্কার ও গোছানোর কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। তবে পানি, বিদ্যুৎ ও রাস্তাসহ কিছু সমস্যাও কথা বলছেন তারা।
শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরিফুল ইষলাম জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে শিবগঞ্জে ভুমিহীন ও আশ্রয়হীন ৭৩৭ টি পরিবারের জন্য ১২ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৭৩৭ টি বাড়ি নির্মাণের কাজের শুভ উদ্বোধন হয় গত ৪ নভেম্বর ২০২০। জন প্রশাসনের যুগ্ম সচিব হুমায়ুন কবিরের এর উদ্বোধন করেন। প্রতিটি বাড়ির জন্য ২ শতক জমির উপর সে.মি পাকা ২টি ঘর, ১টি রান্না ঘর, ১টি টয়লেট ও ১টি বারান্দা রয়েছে। সবগুলো বাড়ির নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে।
তিনি আরো জানান, প্রতিটি বাড়িতে খরচ ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাকিব আল রাব্বী জানান, দূর্লভপুরে ২১৪টি, ঘোড়াপাখিয়ার ৭৬টি, মনাকষাতে ৬৩টি, কানসাটে ৮৮টি, উজিরপুরে ৮৭টি, শাহাবাজপুরের ৭৫টি ও বগড়াউড়িতে ৪০টিসহ মোট ৭৩৭টি বাড়ির নির্মাণ কাজ শেষ করে সেগুলোতে অসহায় ও ভূমিহীন পরিবারগুলোকে দলিদ প্রদান ও উপযুক্ত তালিকার মাধ্যমে উঠানো হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী আরো ১’শ টি বাড়ি নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের পথে।
তিনি আরো বলেন, ৮৩৭টি পবিরবারে জ্যন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী দপ্তরের উদ্যোগে ৮৩টি টিউবওয়েল বসানো কাজ চলছে। এলজিডির উদ্যোগে রাস্তার কাজ খুব শীঘ্রই শুরু হবে। তবে বাড়ির মালিদের নিজ খরচে বিদ্যুাৎতায়নের কাজ চলছে। পুল ও মিটার বসানো হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে বিদুৎ চালু হয়ে যাবে। বিদ্যুৎ বিভাগকে সেভাবে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।