শিবগঞ্জে উদ্ধার রহস্যজনক লাশের সুরাহ হয় নি ছয় দিনেও

আপডেট: ডিসেম্বর ২৩, ২০১৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ

শিবগঞ্জ প্রতিনিধি


চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে পদ্মা নদীর তীর থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির উদ্ধারকৃত লাশের ছয় দিনেও কোন সুরাহা মেলে নি।
জানা গেছে, উদ্ধারকৃত লাশটি সম্পর্কে কেউ বলছে গরুর রাখালের আবার কেউ বলছে বড় ধরনের ব্যবসায়ী। নিয়ম অনুসারে পুলিশের ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশে ভারতীয় দূতাবাসের মাধ্যমে ভারতীয় পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিলেও ৬ দিনেও ভারতীয় পুলিশের কাছ থেকে লাশ গ্রহণের ব্যাপারে কোনো প্রকার সংবাদ আসে নি। মরদেহটি বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছে।
বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে শিবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত মৃত ব্যক্তি ভারতের মালদাহ জেলার বৈষ্ণবনগর থানার পারদেওনাপুর গ্রামের কাশিম শেখের ছেলে মানিকুল শেখ (৪২)। তিনি একজন গরুর রাখাল।
গোপন সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ ডিসেম্বর শনিবার দুপুরে  কয়েকজন  দুর্বৃত্ত  একটি মাইক্রোবাসে করে একটি লাশ উজিরপুর তেলিপাড়ার বালুরঘাট এলাকায় নদীর তীরে ফেলে পালিয়ে গেলে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। এ নিয়ে নানা রহস্য সৃষ্টি হলেও পরে পুলিশ প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে সাতরশিয়া গ্রামের মোজাম্মেল হকের ছেলে ও ডালিম মেম্বারের ভাই মিজানুর রহমান নিপুলকে (২৫) আটক করতে এসে তাকে প্রথমে না পেয়ে ডালিম মেম্বার ও তার ভাইকে আটক করে। ওই দিনই গোপনে কয়েকজন মিজানুর রহমান নিপুলকে থানায় আত্মসমর্পণ করিয়ে তাদের দুইজনকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন।
পুলিশ মিজানুর রহমানের উদ্বৃতি দিয়ে বলেন, গত ১৫ ডিসেম্বর রাতে পদ্মা নদীতে গরু নিয়ে সাঁতরে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় প্রচ- শীতে সে মারা যায় বলে ধারণা করা হয়। তার লাশ ভেসে গোদাগাড়ী এলাকার পদ্মা নদীর কিনারায় পড়ে থাকে। খবর পেয়ে বাংলাদেশি গরু ব্যবসায়ীরা তার লাশ উদ্ধার করে নিয়ে এসে উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের পদ্মা নদীর তীর তেলিপাড়া এলাকায় ফেলে রাখে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ সেখান থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, মিজানুর রহমানের সঙ্গে ওই লোকের ব্যবসার শেয়ার ছিল এবং তাদের বাড়িতেই তিনি এসেছিলেন।