শিবগঞ্জে এক মাসে অর্ধশতাধিক বাল্যবিয়ে বন্ধসহ ৩০ জনকে জেল-জরিমানা

আপডেট: মার্চ ৮, ২০১৭, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ

ইমতিয়ার ফেরদৌস সুইট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ


যেখানেই বাল্যবিয়ের অভিযোগ, সেখানেই সাড়াশি অভিযান। বাল্যবিয়ের প্রমাণ মিললেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল-জরিমানা। শাস্তি থেকে রেহাই পাচ্ছেনা না বর-কনের বাবা-মা, চাচা-চাচী, ভাই-ভাবী, বোন-দুলাভাই থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট কেউই।
বাল্যবিয়ে বন্ধে এভাবেই এক নজিরবিহীন অভিযান চালাচ্ছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম। গত এক মাসে অর্ধশতাধিক বাল্যবিয়ে বন্ধ করাসহ অন্তত ৩০ জনকে জেল-জরিমানা করেছেন তিনি।
মাস চারেক আগে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন শফিকুল ইসলাম। এরপর থেকেই বাল্যবিয়ে বন্ধে সচেষ্ট হন তিনি। উপজেলার যেখান থেকেই বাল্যবিয়ের অভিযোগ আসে, সেখানেই তাৎক্ষণিকভাবে ছুটে যান তিনি। আর প্রমাণ মিললেই অভিযুক্তদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল-জরিমানার শাস্তি দেয়া হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের চলমান এই অভিযানের কারণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বাল্যবিয়ের সঙ্গে যুক্ত নিকাহ রেজিস্ট্রার ও বর-কনের অভিভাবকদের মাঝে। গত ১ মার্চ শিবগঞ্জের জমিনপুর গ্রামে ৮ম শ্রেণির এক ছাত্রীর বাল্যবিয়ের আয়োজন করায় কনের চাচা ও দাদাকে একমাসের কারাদ- দেয়া হয়। এছাড়া গত ২৪ ফেব্রুয়ারি শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট ইউনিয়নে ১৫ বছর বয়সী এক ছাত্রীর বিয়ে দেয়ার সময় সেখানে অভিযান চালান ইউএনও শফিকুল ইসলাম। তিনি এই বিয়ে বন্ধের পাশাপাশি বর ও বরের দুলাভাইকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৫ দিনের কারাদ- প্রদান করেন। এই ঘটনার ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে উপজেলার পারঘোড়াপাখিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেনির এক ছাত্রীর বিয়ের আয়োজন করায় কনের মা তাসলিমা বেগম ও চাচা সেমাজুল ইসলামকে এক মাসের কারাদ- দেয়া হয়। এছাড়া গত ২০ ফেব্রুয়ারি শিবগঞ্জের চাতরা ফাজিল মাদ্রাসার ১৪ বছর বয়সী এক ছাত্রীর বাল্যবিয়ের দায়ে বর আবদুল আলিম ও বরের ভাবী শিউলি বেগমকে দেয়া হয় ১৫ দিন করে কারাদ-।
এর আগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ ৬ ছাত্রীকে বাল্যবিয়ের হাত থেকে রক্ষা করে উপজেলা প্রশাসন। এসব বাল্যবিয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট ১০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়। এভাবেই গত একমাসে শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অর্ধশতাধিক বাল্যবিয়ে বন্ধসহ অন্তত ৩০ জনকে জেল-জরিমানা করা হয়েছে। বাল্যবিয়ের আয়োজন করলেই শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে অভিযুক্তদের। রেহাই পাচ্ছেন না বর-কনের বাবা-মা, দাদা-দাদী, চাচা-চাচী, ভাই-ভাবী, বোন-দুলাভাই থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট কেউই।
এ ব্যাপারে ইউএনও শফিকুল ইসলাম জানান, একাধিকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও যারা বাল্যবিয়ের আয়োজন করছেন, তাদেরই প্রচলিত আইনে শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে। শিবগঞ্জ উপজেলাকে বাল্যবিয়ে মুক্ত করতে প্রশাসনকে সহায়তা করার জন্য তিনি সবার প্রতি আহবান জানিয়েছেন তিনি।