শিবগঞ্জে জেল হত্যা দিবসের কর্মসূচি পন্ড করার চেষ্টা || গ্রেফতার ২

আপডেট: নভেম্বর ৫, ২০১৯, ১:০২ পূর্বাহ্ণ

সফিকুল ইসলাম, শিবগঞ্জ


৩ নভেম্বর জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে শিবগঞ্জের বিনোদপুরে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভাকে ভন্ডুল করার উদ্দেশ্যে স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের এক অংশের আলাদা কর্মসূচিতে সংঘর্ষের ঘটনায় ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি মাসুম আহত হওয়াকে কেন্দ্র করে উপজেলাব্যাপী উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ দুই জনকে গ্রেফতার করেছে।
এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীর সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেলে শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়ন আ’লীগের আয়োজনে বিনোদপুর খাসের হাট বাজারে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য ডা. সামিল উ্িদ্দন আহমেদ শিমুল। আলোচনা সভা চলাকালে ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ একটি র‌্যালি আলোচনার সভার চারপাশে প্রদক্ষিণ শেষে সভাস্থল থেকে প্রায় ১শ গজ দূরে পথসভা করে। এ সময় কিছুটা উত্তেজনা দেখা দিলে সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমদের হস্তক্ষেপে তা শান্ত হয়। সভাশেষে সংসদ সদস্য সভাস্থল ত্যাগ করার কিছুক্ষন পর উভয় গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হলে ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি মাসুম রেজা আহত হন। তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। এঘটনায় আহত মাসুম রেজার পিতা বাদী হয়ে রোববার রাতেই ১৮ জন আ’লীগের নেতাকর্মীকে আসামী করে শিবগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। ওই রাতেই পুলিশ লিটন ও রবু নামে দুই জনকে গ্রেফতার করে। তাদের গ্রেফতারের পর থেকেই এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আলোচনা সভা ও পথ সভাকে নিয়ে উভয় গ্রুপই একে অপরকে দোষারোপ করছে।
বিনোদপুর ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক জামিল উদ্দিন বলেন, ইউনিয়ন আ’লীগের সঙ্গে কোন আলোচনা ছাড়াই পরিকল্পিতভাবে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের একটি গ্রুপ র‌্যালি ও পথ সভা করেছে। যা নীতিগতভাবে সাংঘর্ষিক।
তবে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক তোসিকুল ইসলাম টিসু বলেন, বিনোদপুর ইউনিয়ন যুবলীগ ও ছাত্রলীগ ইউনিয়ন আ’লীগের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে র‌্যালি ও পথ সভা করেছে।
উপজেলা যুবলীগের সভাপতি প্রভাষক রফিকুল ইসলাম বলেন যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ আ’লীগের সবগুলো সহযোগি সংগঠনের কাজ হলো মূল সংগঠন আ’লীগকে সহযোগিতা করা। কিন্তু শিবগঞ্জ উপজেলা যুবলীগ ও ছাত্রলীগ গঠনতন্ত্রকে উপেক্ষা করে অশুভ এক শক্তির ইঙ্গিতে সন্ত্রাসী কার্যাকলাপের মাধ্যমে আ’লীগের কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।
তবে আলোচনা সভার বিশেষ অতিথি ও জেলা আ’লীগের সিনিয়ন সহসভাপতি সাবেক অধ্যক্ষ রুহুল আমিন বলেন, মূূল সংগঠন আ’লীগের আয়োজনে ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে দলের যে কোন কর্মসূচিতে সহযোগি কোন সংগঠন একই দিনে একই সময়ে ও একই স্থানে কোন ধরনের কর্মসূচি পালন করা দলীয় গঠনতন্ত্রের পরীপন্থি। তিনি আরো বলেন, জেল হত্যা দিবসে আমরা যখন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমদ শিমুলের উপস্থিতিতে আলোচনা সভা করছিলাম তখন যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নামধারী কিছু যুবক জেল হত্যার আলোচনার সভাকে বানচাল করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে হামলা করে এবং তারাই আমাকেসহ আ’লীগের ১৮ জন নেতাকর্মীকে আসামী করে থানায় মামলা করেছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও পুলিশ প্রশাসনের বাড়াবাড়ি। আমরা এ ব্যাপারে দলের কেন্দ্রীয় সভাপতিসহ উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
এব্যাপারে শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামসুল আলম শাহ বলেন, বিনোদপুর ইউনিয়ন যুবলীগ ও ছাত্রলীগ জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও কোন ধরনের সভা করার অনুমতি নেয়নি বা অবহিত করেনি।
তিনি আরো বলেন, সংসদ সদস্যের আলোচনা সভা শেষ হবার পর সেখানে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ ব্যাপারে আহত মাসুম রেজার পিতা বাদী হয়ে ১৮ জনকে আসামী করে মামলা করেছে। পুলিশ ওই রাত্ েঘটনার সঙ্গে জড়িত দুইজনকে গ্রেফতার করেছে।
সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমদ শিমুল বলেন, ১৯৭৫ সালে ৩ নভেম্বর জেলখানার ভিতরে ক্ষমতালিপ্সু স্বাধীনতা বিরোধীদের হাতে জেলখানার ভিতরে নির্মমভাবে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করে। তাদের স্মরণে জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আ’লীগের নেতৃত্বে র‌্যালি ও আলোচনা সভা নিয়ে ব্যস্ত। ঠিক সে সময়ে একজন পুলিশ কর্মকর্তার ইঙ্গিতে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নামধারী কিছু যুবক সন্ত্রসী কার্যাকলাপের মাধ্যমে জেল হত্যা দিবসের কর্মসূচিকে বানচাল করতে তৎপর চালায়। তারাই ৩ নভেম্বর বিকেলে বিনোদপুরে আলোচনা সভা চলাকালে তারা বাড়াবাড়ি করেছে এবং হামলা ও মামলা করে শিবগঞ্জকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তিনি আরো বলেন আমি এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ