শিবগঞ্জে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহতের পরিবারকে হুমকি ।।এলাকায় এখনো উত্তেজনা

আপডেট: জুলাই ২, ২০১৭, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ

শিবগঞ্জ প্রতিনিধি


প্রথমে প্রেম ও পরে বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় দুপক্ষের সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের ইটের আঘাতে গৃহবধূ রেহেনা নিহত হওয়ার ঘটনায় মামলা হওয়ায় আসামী পক্ষ বাদী পক্ষকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য বিভিন্ন ধরনের হুমকী দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের তারাপুর গ্রামে।
সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাদী ও এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের তারাপুর ঢাক্কিপাড়া গ্রামের মকিম উদ্দিনের মাদ্রাসা পড়–য়া মেয়ের সাথে একই গ্রামের পল্লী চিকিৎসক ও শিক্ষক হোসেনের কলেজ পড়–য়া ছেলে বারিকুল্লাহ সাথে প্রথমে প্রেম প্রস্তাব ও পরে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে রাজী না হওয়ায় মকিম উদ্দিন ও তার সমর্থকদের নাজেহাল করায় সে গ্রাম্য সমাজ ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আলাদা গ্রাম্য সমাজ ব্যবস্থা গঠন করলে আবারো একত্রিত হওয়ার জন্য গত ২৪জুন শনিবার ফজলুর রহমানের বাড়ির উঠনে গ্রাম্য শালিস বসে।
শালিস চলাকালে উভয় পক্ষের কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এসময় হোসেন মাস্টারের সমর্থকদের ইটের আঘাতে মকিম উদ্দিনের স্ত্রী রেহেনা বেগম(৩৫) মারা যায়। মকিম উদ্দিন ও রেহেনার মেয়ে জানান, তিন বছর যাবত হোসেন মাস্টারের ছেলে বারিকুল্লাহ আমাকে জোর পূর্বক বিয়ে করার জন্য উত্যক্ত করলে তাকে বিয়ে করতে রাজী না হওয়ায় তারা ঘরে থাকা ৯ লাখ টাকা লুটপাট করে এবং আমার মাকে ইটের আঘাত দিয়ে হত্যা করে। এখনো আমাদেরকে বিভিন্ন ভাবে হুমকী দিচ্ছে। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি আমার পরিবারের নিরাপত্তা ও মায়ের হত্যার বিচার দাবি করছি। একই কথা বলেন বাদী মকিম উদ্দিন, তার ভাই আবদুুর রাকিব, চাচাতো ভাই হারুন, কামাল, জামালসহ অনেকেই জানান, ইউপি চেয়ারম্যান মির্জা শাহাদাৎ হোসেন খুররম আমাদেরকে মীমাংসার জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন। অন্যদিকে জামালের স্ত্রী সানুয়ারা বেগম, মৃত হাকিমের স্ত্রী মাজেরা বেগমসহ(৬৫) কয়েকজন মহিলা জানান, সংঘর্ষের সময় হোসেন মাস্টারের লোকজনের হামলায় বাড়ির পুরুষেরা পালিয়ে গেলে তারা আমাদের বাড়িতে প্রবেশ করে আমাদেরকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে এবং আমাদের বাড়িঘরে ভাঙচুর চালায় ও লুটপাট করে।
সরেজমিনে দেখা গেছে বাদী পক্ষের বাড়ি-ঘরে ইটপাটকেল পড়ে আছে, ঘরের টিনগুলোতে একাধিক ছিদ্র এবং ঘরের মধ্যে বাক্স ও ট্রাঙ্কগুলো ভাঙচুর করা অবস্থায় পড়ে আছে। বাড়ির লোকজন আতংকিত রয়েছে। ২ জন গ্রাম পুলিশ এলাকা পাহারা দিচ্ছে। আসামি পক্ষের লোকজন পলাতক ও বাড়িতে তালাবদ্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব না হলেও হাসান আলি জানান, আমি দীর্ঘদিন যাবত শিবগঞ্জ পৌরসভার পাশে নিজ বাড়িতে বসবাস করছি এবং ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টতা ও ঘটনাস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও বাদী পক্ষ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাকে মামলার আসামি করায় আমি খুব বিপদে আছি। তিনি আরো জানান, আমি সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
এদিকে ইউপি চেয়ারম্যান মির্জা শাহাদাৎ হোসেন খুররম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কোন চাপ প্রয়োগ নয় বরং তারা যদি মীমাংসা করতে চায় তাহলে আমরা উদ্যোগ নিব বলেছি। তিনি আরো জানান, ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ঊভয়পক্ষকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়েছি এবং ৪ জন গ্রাম পুলিশ ঘটনাস্থলে পাহারার জন্য মোতায়েন করেছি।
এব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রবিউল করিম জানান, নিহতের পরিবার গরীব হওয়ায় আসামি পক্ষ তাদের ব্যাপক হুমকীর মুখে রেখেছে। এমনকি আমাকেও আসামি সহকারী অধ্যাপক হাসান ও তার স্ত্রী মুঠো ফোনে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, আসামি অধ্যাপক হাসানই তাদের হত্যাকান্ডের মূল ইন্দনদাতা। ৩জন আসামিকে আটক করা হলেও বাকী আসামিদের ধরার চেষ্টা চলছে তবে বেশীরভাগ আসামি চোরাই পথে পার্শবর্তী দেশ ভারতে পালিয়ে যাওয়ায় ধরা সম্ভব হচ্ছে না।
উল্লেখ্য যে, গত ২৪ জুন রাতে তারাপুর ঢাক্কিপাড়া গ্রামে গ্রাম্য শালিস চলাকালে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গৃহবধূ রেহেনা নিহত হন। এঘটনায় নিহতের স্বামী বাদী হয়ে শিবগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।