শিবগঞ্জে ভিজিডির চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ ।। চেয়ারম্যান ও সচিবকে উপজেলা পরিষদে তলব

আপডেট: জুন ১৬, ২০১৭, ১:০৬ পূর্বাহ্ণ

শিবগঞ্জ প্রতিনিধি


দুস্থদের মুখে হাসি ফোটাতে ঈদ উপলক্ষে দেয়া ভিজিড কার্ডের চাল প্রতি কার্ডে পাঁচ কেজি করে কম দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিবকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারে কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার দাইপুকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদে এ ঘটনা ঘটে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাতে ৩ নম্বর দাইপুকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ের একটি ঘরে ইউপি চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম জুয়েলের নির্দেশে ৩০ কেজির বস্তা হতে পাঁচ কেজি করে চাল বের করে নেয়া হয়। বের করা চাল কালোবাজারে পাইকারি দরে বিক্রি করা করে টাকা ভাগবাটোয়ারাও করা হয়।
ইউনিয়ন পরিষদ সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের জুন মাসে এ পরিষদের জন্য তিন হাজার ৯৯০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এসব চাল ওই ইউনিয়নের ১৩৩ জন দুস্থ নারীদের মাঝে প্রতিটি ভিজিএফ কার্ড বাবদ ৩০ কেজির সেলাই করা বস্তা বিতরণের কথা থাকলেও তা না করে প্রতি বস্তা থেকে পাঁচ কেজি করে চাল বের করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে সরজমিনে গিয়ে কর্নখালি গ্রামের কার্ডধারী শেফালী বেগম ও শারমিন খাতুনের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সতত্যা পাওয়া যায়। তারা জানায়, তাদের চালের বস্তার মুখ খোলা ছিল এবং ওজন ২৫ কেজি ৯শ গ্রাম।
তবে দাইপুখুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম জুয়েল চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, চাল বের করে নেয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তবে বস্তায় হুক লাগানোর জন্য সামান্য কম হতে পারে। তবে এতো বেশি পার্থক্য হবার কথা নয়।
জানতে চাইলে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, চাল বিতরণে কোন অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। তারপরও কোথাও কোন অনিয়ম প্রমাণিত হলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি চাল বিতরণে অনিয়মের বিস্তারিত বর্ণনা শুনে তাৎক্ষণিকভাবে দেখার আশ্বাস দেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে থানা পুলিশের একটি দল দাইপুখুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম জুয়েল ও সচিব তৌহিদুর রহমানকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে চাল বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতির ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করছিলেন।