শিবগঞ্জে রাস্তা সংস্কারে কালো ধোঁয়ায় অতিষ্ঠ পার্শ্ববর্তী বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

আপডেট: জুন ১২, ২০২২, ৭:১৭ পূর্বাহ্ণ

শিবগঞ্জ প্রতিনিধি:


শিবগঞ্জে রাস্তা সংস্কারে পিচ গলাতে পুরাতন ও পরিত্যক্ত স্যান্ডেল পোড়ানোর কালো ধোঁয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে পার্শ্ববর্তী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ঘটনাটি শিবগঞ্জ উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের দিয়াড় পশ্চিম জাহাঙ্গীরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পদ্মা নদী রক্ষা বাঁধ সড়ক সংস্কারে পিচ কার্পেটিংয়ের কাজ চলছে।

সংস্কারকাজে বিদ্যালয়ের পেছনেই গত ৭ দিন ধরে পিচ গলাতে জ্বালানি হিসেবে পোড়ানো হচ্ছে পুরাতন স্যান্ডেল। এতে কালো ধোঁয়ায় ক্লাসে বসা শিক্ষার্থীরা দূষণের শিকার হচ্ছে। বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ ঘেঁষে মেশিনে পিচ ও পাথরের মিশ্রণ ধুলাবালি ও শব্দে অতিষ্ঠ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে জানা যায়, স্যান্ডেল পোড়ানোর কালো বিষাক্ত ধোঁয়া বাতাসের তোড়ে গিয়ে ঢুকছে শ্রেণিকক্ষগুলোতে। সেখানে কথা হয় শিক্ষার্থীদের সাথে। তারা জানায়, কালো ধোঁয়ায় তাদের চোখ জ্বালা করে। দম বন্ধ হয়ে আসে। বমি বমি ভাব হয়।

অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষগুলো টিনের হওয়ায় কালো ধোঁয়া বা শব্দ কোনটাই আটকানো যায় না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষক বলেন, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের এখন নিয়মিত ক্লাস চলছে। এর মধ্যে কালো ধোঁয়া যখন ঢুকছে, তখন লেখাপড়া বাদ দিয়ে শিক্ষার্থীরা হাত দিয়ে নাক-মুখ চেপে ধরছে।

দিয়াড় পশ্চিম জাহাঙ্গীরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোসা. সেলি খাতুন ও মোসা. মমতাজ খাতুন জানান, গত ৭-৮ দিন থেকে হঠাৎ করেই স্কুলের গা ঘেঁষে পিচ গলাতে স্যান্ডেল পোড়ানো ও পিচ-পাথর মেশানো শুরু হয়েছে। প্রচুর পরিমাণে গন্ধ আসে। ক্লাসের শিক্ষার্থীদের খুব কষ্ট হয়। এরই মাঝে বাধ্য হয়েই ক্লাস করতে হচ্ছে।

 

চতুর্থ শ্রেণির শামীম, পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী মরিয়ম, সিমা খাতুন বলেন, ক্লাস করা অবস্থাতেই চোখেমুখে মেশিনের ধুলাবালি আসে। কালো ধোঁয়া নাকের কাছে আসলে বমি বমি ভাব হয়। ম্যাডামদের বারবার বলেও কোন লাভ হয় না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শ্রমিক জানান, শিবগঞ্জ উপজেলার ছত্রাজিতপুর থেকে এসব রাবারের পুরাতন ও পরিত্যক্ত স্যান্ডেল কিনে এনে পুড়ানো হয়। কেজি প্রতি ১১ টাকা করে এসব স্যান্ডেল কেনা হয়েছে।

বেশি সময় ধরে জ্বলে বলে মালিকরা এসব পুড়চ্ছে। স্থানীয় আব্দুর রাজ্জাক, তরিকুল, শিক্ষক আব্দুল মতিনসহ অনেকেই জানান, ঠিকাদারকে বলেও কোন কাজ হচ্ছে না। তারা আরো জানান, ১৫ হাজার টাকা দিয়ে শিক্ষার্র্থীদের জন্য একটি দোলনা কিনে দিতে চাওয়ায় কোন প্রতিবাদ করেনি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

বলেন, স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি আশেপাশের এলাকার আমের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে স্যান্ডেল পোড়ানোর ধোঁয়াতে। নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এই এলাকার প্রধান অর্থকারী ফল আম। এতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমচাষীরা। কারণ যে আমে ধোঁয়া লাগে, সেসব আম স্বাভাবিক মিষ্টতা ও আমের গায়ের রং নষ্ট হয়। এতে আমের দাম পাওয়া যায় না। বিঘ্ন ঘটছে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার।

ঠিকাদার খাইরুল কবির রানা মুঠোফোনে জানান, উন্নয়ন কাজ করতে গেলে একটু অসুবিধা হবেই। তাই এই সাময়িক অসুবিধার বিষয়টি মেনে নিয়েই কাজ চালিয়ে নিতে হবে। তবে জ্বালানি হিসেবে পুরাতন রাবারের স্যান্ডেল ব্যবহার নিয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি তিনি।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদতরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোজাহার আলী প্রাং বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘœ ঘটিয়ে এসব কাজ করা যাবে না। বিষয়টি নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়াও পিচ গলাতে জ্বালানি হিসেবে কাঠ বা কাপড়ের জুট ছাড়া স্যান্ডেল ব্যবহার করার কোন নিয়ম নেই।

উল্লেখ্য, শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত দিয়াড় পশ্চিম জাহাঙ্গীরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১২০ জন এবং শিক্ষক রয়েছেন ৪ জন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ