শিবগঞ্জে সুবিধাভোগিদের টাকা উত্তোলনে হয়রানির অভিযোগ

আপডেট: September 18, 2020, 9:24 pm

শিবগঞ্জ প্রতিনিধি:


‘প্রায় দুই বছর আগে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে বয়স্কভাতার কার্ড পেয়েছি। এখন পর্যন্ত কোনো টাকা পায় নি। আমি একজন গরিব নারী। এ টাকার আশায় তীর্থের কাকের মত তাকিয়ে আছি। বারবার মেম্বার- চেম্বার ও ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্রে ঘুরেও কোনো লাভ হয় নি। তারা বলছে ব্যাংক অব এশিয়া টাকা লাগালেই পাওযা যাবে। তার আগে ঘুরে কোনো লাভ হবে না।’- এ কথা বলছিলেন মনাকষা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পারচৌকা গ্রামের মহসিনের স্ত্র্রী জোনাকী বেগম।
একই গ্রামের জমির উদ্দিনের প্রতিবন্ধী স্ত্রী বেবী বেগম জানান, দুই বছর আগে প্রতিবন্ধীর কার্ড পেয়েছি। একবার ৬ হাজার টাকা পেয়েছি। ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তা বলছে পূর্বের কোনো টাকা পাওয়া যাবে না। সেগুলো ব্যাংক থেকে বাতিল হয়ে গেছে। শুধু এরা দুইজনই নয়, অনুসন্ধানে জানা গেছে, মনাকষা ইউনিয়নেই প্রায় ৯৬ জন সুবিধাভোগী এখন পর্যন্ত টাকা পায় নি।
এমনকি উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সুবিধাভোগীদের সাথে কথা বলে ও উপজেলা সমাজসেবা অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৮শ সুবিধাভোগির হিসাব নম্বরে এখনো কোনো টাকা আসে নি। দিনের পর দিন এ সমস্ত সুবিধাভোগী চেয়ারম্যান-মেম্বার ও তথ্য সেবা কেন্দ্রে ঘুরছে। অনেক সুবিধাভোগীর হিসাব নম্বরে টাকা আসলেও টাকা উত্তোলনের জন্য তারা দিনের পর দিন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অন্যদিকে সুবিধাভোগিদের মধ্যে যারা মারা গেছে তাদের হিসাব নম্বরে আসা টাকা উত্তোলন নিয়ে চলছে নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি। চলছে হয়রানিও। অন্যদিকে মৃত্যুবরণকারী সুবিধাভোগিদের টাকা উত্তোলন নিয়ে মনাকষাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে অনিয়মের অভিযোগ পাওযা গেছে।
গত ২৭ আগস্ট মনাকষা ইউনিয়নের খড়িয়াল গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে আব্দুর রকিব ও পারচৌকা গ্রামের আফজালের ছেলে আসমাউল হক জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে ৬ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটির মাধ্যমে মৃত্যুবরণকারী ৬০/৬২ জন সুবিধাভোগির নমনিদের সাথে আলাপ করে মৃত্যু ভুক্তভোগিদের নামে টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে ১০/১৫ জনের ক্ষেত্রে অনিয়মের সত্যতা মিল্ েএবং ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তার সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সুবিধাভোগিদের এধরনের হয়রানি ও তাদের টাকা নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির ক্ষেত্রে ইউনিয়ন তথ্য সেবাকেন্দ্র, ব্যাংক অব এশিয়া ও সমাজসেবা অফিস একে অপরের মধ্যে শুরু করেছে কাদা ছুঁড়াছুঁড়ি। কেউ দায় স্বীকার করছেন না। তবে ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, যে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ব্যাংক অব এশিয়ার মাধ্যমে সুবিধাভোগিদের টাকা প্রদানের নিয়ম করায় মাঝে মাঝে সার্ভারের সমস্যা হওয়ার এ জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।
এ ব্যাপারে ব্যাংক অব এশিয়ার শিবগঞ্জ উপজেলা কর্মকর্তা ফরিদুজ্জামান রুবেল ও জেলা কর্মকর্তা জাইদুল ইসলাম জানান, সুবিধাভোগিদের টাকা পেতে দেরি হওয়া ও কার্ড ইস্যু হওয়ার তারিখ হতে টাকা না পাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংক অব এশিয়া কোনোভাবেই দায়ি নয়। সুবিধাভোগিদের কার্ড ইস্যু হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা অফিস এমআইএস রির্পোট সমাজসেবার ঢাকা প্রধান অফিসে পাঠাবে। প্রধান অফিস সেটি অনুমোদন দিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে হ্সান্তর করে। অর্থমন্ত্রণালয় সেটিকে এটিইএসটিএন এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকে হস্তান্তর করবে। বাংলাদেশ ব্যাংক তখন সেটি ব্যাংক অব এশিয়ায় হস্তান্তর করার পর ব্যাংক অব এশিয়া সুবিধাভোগিদের টাকা প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করে। সুতরাং ব্যাংক অব এশিয়ার গাফলতি বা অনিয়নের কোনো প্রশ্নই উঠে না।
এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কাঞ্চন কুমার দাস বলেন, সুবিধাভোগিদের টাকা পেতে দেরি বা কার্ড ইস্যু হওয়ার পর থেকে টাকা না পাওয়ার ক্ষেত্রে সমাজসেবা অফিস কোনোভাবে দায়ি নয়। কারণ সুবিধাভোগিদের কার্ড ইস্যু হওয়ার পরপরই এমআইএস রির্পোট করার পরই সফটওয়ারের মাধ্যমে অটো পদ্ধতিতে হিসাব নম্বর খুলে যায়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোসা. উম্মে কুলসুম বলেন, কার্ড ইস্যুর তারিখ হতে সুবিধাভোগিদের টাকা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে সার্ভারের সমস্যার কারণে কিছু কিছু জটিলতার সৃষ্টি হয়। এ জটিলতা দূর করার জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করি শিগগিরই এসমস্যার সমাধান হবে।
তিনি আরো জানান, মৃত্যু সুবিধাভোগিদের হিসাব নম্বরে টাকা জমা হওয়ায় নতুন কিছু কার্ডের হিসাব নম্বরে টাকা জমা হয় না। এ সমস্যার সমাধানের জন্য মৃত সুবিধাভোগিদের মৃত্যু সনদ জমা দিয়ে সেটি বাতিল করলে অনেকটাই সমস্যার সমাধান হবে। এটি দ্রুত গতিতে করার প্রক্রিয়া চলছে।