শিবগঞ্জে সোনালী আঁশে হাসছে চাষি

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১, ৯:৫৬ অপরাহ্ণ

শিবগঞ্জ প্রতিনিধি:


দেশের প্রধান অর্থকারীফসল পাটের উৎপাদন বেশি হওয়ায় ও দাম ভাল পাওয়ায় কয়েকবছরের মধ্যে এবার সবচেয়ে বেশি খুশি কৃষকরা। বাংলাদেশের প্রকৃতি এবং জলবায়ু পাট চাষাবাদের জন্য খুবই উপযোগী। দেশে উৎপাদিত পাটের শতকরা ৭০ ভাগ দেশেই ব্যবহার হয় বাকি ৩০ ভাগ কাঁচা পাট ও পাটজাত দ্রব্য হিসেবে রপ্তানি হয়। আর বেশির ভাগ পাট উৎপাদন হয়ে থাকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায়।

এ বছরও চাঁপাইনবাবগঞ্জে তোষা ও দেশি পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। পাট কাটা, পাট জাগ দেয়া, আঁশ সংগ্রহ, খড়ি শুকানোসহ পাট পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের চাষিরা। কৃষকরা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এবার ফলন ও দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। মৌসুমের শুরুতে ভাল দামে খুশি চাষিরা। তবে পাট চাষিদের জন্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন তারা।

শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শিবগঞ্জ উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে পাট চাষ হয়ে থাকে। এই উপজেলায় এবছর ১৭শো হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে ৭৬০ হেক্টর বেশি জমিতে উৎপাদন হয়েছে। উপজেলার বেশির ভাগ গ্রামে পাট জাগের গন্ধ। আঁশ সংরক্ষণ শেষে কেউ কেউ পাট বিক্রির শুরু করেছেন।

এবছর প্রতি হেক্টর জমিতে প্রায় ৫৫ মণ পাট উৎপাদিত হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ২৫শো থেকে ৩ হাজার টাকা। মৌসুমের শেষে এই পাটের দর বেশি হবে বলে দাবি কৃষি কর্মকর্তার। শুধু আঁশ নয়, প্রতি বিঘা জমির পাটখড়ি বিক্রি হয় ৭ থেকে ১০ হাজার টাকায়।

পাট চাষি সেলিম আলী জানান, এ বছর দেড় বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলাম ১০ কাঠার পাট কেটে বিক্রি করে দাম পেয়েছি ১৩ হাজার টাকা। আর এক বিঘা জমির পাট কেটে আজ জাগ দিচ্ছি। এবার পাটের ফলন ও দাম বেশ ভালো। আশা করছি এই এক বিঘা জমির পাটে প্রায় আরও ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পাব। আর আমার তিন বিঘা জমির পাট চাষে মোট খরচ হয়েছে ১৫ হাজার টাকা।

উপজেলার মুসলিমপুর এলাকার এরফান ফারুক জানান, পাট চাষে খরচ খুবই কম তাই প্রতি বছর পাট চাষ করি। এবার তিন বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলাম। ফলন বেশি হওয়ায় সব কার্যক্রম শেষ করতে পারিনি। আজও এক বিঘা জমির পাট জাগ দিচ্ছি। আর দুই বিঘা জমির ২১ মণ পাট বিক্রি করেছি ২৭শো টাকা মণ দরে।

রুবেল নামে আরও এক পাট চাষি জানান, তিনি ১২ কাঠা পাট চাষ করেছিলেন এ বছর। এতে পাট হয়েছে প্রায় ৫ মণ বিক্রি করেছেন সাড়ে ১২ হাজার টাকায়। আর পাটখড়ি হয়েছে সাড়ে তিন মণ বিক্রি করেছেন এক হাজার টাকায়।
কানসাটের হাসান আলী নামে এক পাট আড়ৎদার জানান, গত বছর এসময় পাট কিনেছিলাম ১২শো-১৩শো টাকা মণ- এবার করছি ২৫শো-২৭শো টাকা মণ দরে। আর পাটখড়ি ক্রয় করছি ২৫০ থেকে ৩ শো টাকা মণ দরে। পাটের দাম এ বছর প্রথম থেকেই ভালো।

শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. শরিফুল ইসলাম জানান, শিবগঞ্জ উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে পাট চাষ হয়ে থাকে। এই উপজেলায় এবছর ১৭শো হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে ২২শো বিঘা বেশি উৎপাদন হয়েছে। উপজেলার বেশির ভাগ গ্রামে পাট জাগের গন্ধ। আঁশ সংরক্ষণ শেষে কেউ কেউ পাট বিক্রির শুরু করেছেন। এবছর প্রতি হেক্টর জমিতে দুই থেকে সোয়া দুই টন পাট উৎপাদিত হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ২৫শো থেকে ৩ হাজার টাকা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, এ বছর জেলায় ৩০৯৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। জেলার ৫ উপজেলার মধ্যে সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলায় এবার পাট চাষ বেশি।

গত বছর শেষ দিকে ভালো দাম পাওয়ায় এবার পাট বেশি চাষ করেছিলেন চাষিরা। এবারও দাম বেশ ভালো চাষিরা অনেক লাভবান হবেন। গত বছর এই জেলায় পাট চাষ হয়েছিল ১৭৬৫ জমিতে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ