শিবগঞ্জে ২০ হাজার মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত

আপডেট: মে ২০, ২০১৭, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ

শিবগঞ্জ প্রতিনিধি


নদী ভাঙনের কবলে একমাত্র কমিউনিটি ক্লিনিকটিও বন্ধ

শিবগঞ্জের পাকা ইউনিয়নে পদ্মা নদী ভাঙনের কবলে একমাত্র কমিউনিটি ক্লিনিকটিও বন্ধ থাকায় ও গ্রাম পর্যায়ে স্বাস্থ্য বিভাগের জনবল সঙ্কটের কারণে প্রায় ২০ হাজার মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
এ বিষয়ে স্থানীয় আসাদুজ্জামান, মামুন অর-রশিদসহ এলাকার অনেকেই জানান, পাঁকা ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের ২০ থেকে ২২ হাজার মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ২০০৯ সালে ১০ রশিয়া গ্রামে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের পর ওই এলাকার বাসিন্দারা সেখান থেকেই চিকিৎসা সেবা পেয়ে আসছিল। কিন্তু বর্তমানে নদী ভাঙনের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবার কেন্দ্রটি নদী থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরে অবস্থান করছে। যে কোন মুহূর্তে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। ফলে চর এলাকার মানুষ চিকিৎসা সেবার মতো মৌলিক অধিকার থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত যাচ্ছে।  আসাদুজ্জামান আরো জানান, এ কেন্দ্রে ৫ জন কর্মকর্তা কর্মচারী থাকার কথা থাকলেও কেউ ঠিকমতো থাকছেন না। ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপে মাঝে মাঝে কেউ আসলেও কিছুদিন থাকার পর বদলি হয়ে চলে যায়। বর্তমানে পাঁচ জনের মধ্যে চারজনই নেই। যদিও একজন আছেন, তবুও মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকায় এলাকার সাধারণ মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শুধু তাই নয় এলাকার নারীরা জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী পাচ্ছেন না ও গর্ভবতী নারীরা প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় কাক্সিক্ষত সেবাও পাচ্ছেন না।
জানতে চাইলে শিবগঞ্জ মা ও শিশু কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার সাদেকুল বারী বলেন, কেন্দ্রটি নদী ভাঙনের কবলে পড়ায় কেউ ওখানে থাকতে চায় না। বর্তমানে সবাই বদলি হয়ে অন্যস্থানে চলে গেছে। সংশ্লিষ্ট ঢাকা অফিসসহ বিভিন্ন অফিসে আবেদন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে একজন প্রকৌশলীর সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে কেন্দ্রটি সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে। দ্রুত টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, চরাঞ্চল এলাকার পাঁকা ভবনগুলো সব সময় ঝুঁকির মধে থাকে। যার কারণে এবার চিন্তাভাবনা করেই ভবন নির্মাণ করা হবে।