শিবগঞ্জে ৪০দিনের কর্মসূচীতে অনিয়ম, ফেরত যেতে পারে প্রকল্পের টাকা

আপডেট: মে ৬, ২০২১, ৯:৩৩ অপরাহ্ণ

শিবগঞ্জ প্রতিনিধি:


চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে ২০২০-২০২১অর্থ বছরের অতিদরিদ্রদের জন্য দ্বিতীয় পর্যায়ের ৪০দিনের কর্মসূচিতে ৫২ লাখ ৯৪ হাজার ৮শো ঘনফুট মাটির কাজ করতে ৩ হাজার ৭৮২জন শ্রমিকের জন্য বরাদ্দকৃত ৩ কোটি ২৫ লাখ ৬ হাজার টাকার ৪০দিনের কাজ চলছে ব্যাপক অনিয়ম চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শিবগঞ্জ উপজেলায় ৫৫টি প্রকল্পের তালিকা অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, স্বজন প্রীতি ও দলীয়করণ। তারা প্রকল্পের কাজে উপস্থিত না হলেও তাদের হাজিরা ঠিকই আছে। পক্ষান্তরে যে সমস্ত গরীব ও অসহায় মানুষ পেটের দায়ে ধান কাটতে চলে গেছে তাদের বেলায় চলছে অনুপস্থিতি। কিছু কিছু প্রকল্প শ্রমিক ও প্রকল্প চেয়ারম্যান প্রকল্পে উপস্থিত না থাকলেও অফিসে বসেই চলছে উপস্থিতির কাজ। আবার কিছু কিছু প্রকল্পে কাজ চললেও উপস্থিতির সংখ্যা নগন্য। আবার কোন কোন প্রকল্পে কাজ এ পর্যন্ত শুরু হয়নি। যদিও প্রথম পর্যায়ে কোন কাজ না করেই প্রকল্পের টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে শ্রমিকের উপস্থিতি কিছুটা কম দেখানো হয়েছে।
সরেজমিনে কানসাট ইউনিয়নে বরাদ্দ কৃত ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৮শো ঘনফুট মাটি ভরাটের জন্য ২ লাখ ৫৬হাজার টাকা ব্যয়ে ২৫৭জন শ্রমিক রয়েছে। তিনটি প্রকল্প ঘুরে কোন শ্রমিকের দেখা মেলেনি। এ ইউনিয়নের রাজার বাগান পশ্চিম ও উত্তর পুর্বমুখী রাস্তার প্রকল্প চেয়ারম্যান বিজলী বেগমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, শ্রমিকতো কাজ করছে। কিন্তু সাংবাদিকরা সরজমিনে থেকে শ্রমিকের দেখা নেই বললে তিনি জানান, তাহলে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানেন। বিশ্বনাথপুর গ্রামের বিলবাড়ী হতে পুঠিমারী বিল প্রকল্পের চেয়ারম্যান আরিফা বেগমকে একই ধরনের প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, প্রকল্পের ব্যাপারে আমি কিছু জানিনা। আমার কোন স্বাক্ষর নেইনি। আমাকে কিছু বলেননি। এমনকি চেয়ারম্যান ও সচিব কর্তৃক তার স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ করেন তিনি।
বালুচর সাহ বিশ্বাসের বাড়ি হতে কাঠুরী পর্যণÍ ক্যানল সংস্কার প্রকল্পের চেয়ারম্যান আনারুল ইসলাম জানান, ক্যানেলটি সংস্কার করতে মেশিন পাচ্ছি না। তাই কাজ শুরু করা হয়নি।
তিনটি প্রকল্পের অধীনস্ত স্থানীয়দের মধ্যে রাজু, শামমোহাম্মদ,আল আমিন, হারুন অর রশিদ, হাবিবুর রহমান লাল মোহাম্মদ, উমর ফারুক আহমদ ওয়াসিম সহ অনেকেই জানান, তারা শ্রমিককে রাস্তা মেরামত বা মাটি ভরাটের কাজ করতে দেখেনি।
এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান বেনাউল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় আছি। পরে কথা বলবো। কিন্তু পরে তার ফোন সার্বক্ষনিক বন্ধ পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নে ১৮ লাখ ৫৬হাজার টাকা ব্যয়ে ৩ লাখ ২৪হাজার ৮’শ ঘনফুট মাটি ভরাটের জন্য ২’শ ৩২জন শ্রমিক নিয়ে তিন প্রকল্প রয়েছে। তবে এ এই ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া হতে কেন্দ্রীয় গোরস্থান পর্যন্ত ৬০ জন শ্রমিক ও বিরহামপুর গ্রামের কোদাল কাট্টি হতে ডালিমের বাড়ি পর্যন্ত প্রকলেপ ১২৮জন শ্রমিকের কাজ করা কথা কথা থাকলে কোন শ্রমিক দেখা যায়নি। স্থানীয়রাও কিছু বলতে পারেনি। ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম জানান দুপুর পর্যন্ত কাজ করেছে। তিনি আরো বলেন আমার ইউনিয়নের তিন প্রকল্পের কাজ চলছে। তবে অসুস্থ জনিত ও ধান কাটতে চলে যাবার কারনে কিছু শ্রকিক অনুপস্থিত রয়েছে। কয়েকদিন আগে উজিরপুর ইউনিয়নে ৩৫নং ও পাঁকা ইউনিয়নে ৩৮নং প্রকল্পে সরজমিনে কোন শ্রমিক দেখা যায়নি।যদিও প্রকল্প চেয়ারম্যান বলেছেন যে শ্রমিক কাজ করছে। একইভাবে কানসাট,উজিরপুর, পাঁকা, ঘোড়াপাখিয়া, ধাইনগর, চককীর্তি ও দাইপুখিরিয়ার বিভিন্ন প্রকল্প ঘুরে একই চিত্র পাওয়া গেছে। তবে মনাকষা, বিনোদপুর, শ্যামপুর, দূর্লপুর ও ছত্রাজিতপুর ইউনিয়নে প্রকল্পগুলিতে সরেজমিনে দেখা দেছে কিছু শ্রমিক কাজ করছে। তবে প্রকল্প চেয়ারম্যানদেরকে শ্রমিক সংখ্যা এত কম কেন প্রশ্ন করা হলে শ্রমিক সংখ্যা কমের অভিযোগটি অস্বীকার করেন।
এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম বলেন, কানসট সহ কয়েকটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদেকে বারবার তাগিদ দিয়েও কাজ হচ্ছে না। তাই আমি নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো। তিনি আরো বলেন, কয়েকটি ইউনিয়নে কাজ হলেও শ্রমিক সংখ্যা কম ও স্বজনপ্রীতির বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাকিব আল রাব্বী বলেন, আমরা উপস্থিতির ব্যাপরটা খতিয়ে দেখছি। যারা উপস্থিত থাকছে না তারা কোন ক্রমেই টাকা পাবে না। আর যারা প্রকল্পেই না গিয়েই খাতায় উপস্থিতির অভিযোগটি সটিক তদন্তপূর্বব ব্যবস্থা নিব। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন প্রয়োজনে প্রকল্পের টাকা ফেরত যাবে। কিন্তু কোন অনিয়ম সহ্য করা হবে না।