শিবগঞ্জে ৪০ দিনের কর্মসূচি ও প্রতিবন্ধী কার্ড বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট: মে ৭, ২০১৭, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ

শিবগঞ্জ প্রতিনিধি


শিবগঞ্জের বিনোদপুর ইউনিয়নের ৪০ দিনের কর্মসূচি ও প্রতিবন্ধীদের কার্ড বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। চেয়ারম্যানের যোগসাজসে তাজেমুল হক নামের এক ব্যক্তি কার্ড দেয়ার কথা বলে চাঁদা আদায় করেও কোন কার্ড দেয়া হয় নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
বিনোদপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের একাধিক সূত্র জানায়, ৪০ দিনের কর্মসূচি ও প্রতিবন্ধীদের কার্ড দেয়ার অজুহাতে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েও কার্ড দেয় নি। এমনকি টাকাও ফেরত দেয় নি। টাকা ফেরত চাইলে পাল্টা হুমকি দিচ্ছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
উপজেলার কালিগঞ্জ গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক জালাল উদ্দিন জানান, আমি একজন ভিক্ষুক হয়েও বিনোদপুর ইউপি চেয়ারম্যানের অলিখিত পিএস তাজেমুল হক ৪০ দিনের কর্মসূচি ও প্রতিবন্ধী কার্ড করে দেয়ার নামে সাত হাজার টাকা চাঁদা নিয়েছে। কিন্তু আজ অবধি কাজ ও কার্ড কোনটিই দেয় নি। তাজেমূল হক লছমনপুর গ্রামের গোসন আলির ছেলে। একই অভিযোগ কালিগঞ্জ গ্রামের আফসারের ছেলে অন্ধ মুকলের। তিনি জানান, কার্ড করে দেয়ার নামে সাত হাজার টাকাসহ দুই জনের কাছ থেকে মোট ১৪ হাজার টাকা নিয়েছেন। একইভাবে প্রতারণার শিকার হয়েছেন একই গ্রামের সুফিয়ানের ছেলে মান্নান, ঝাটনের ছেলে সুফিয়ান, গুড়া আলীর ছেলে ইব্রাহীম, নেজাবের ছেলে মহবুল ও সহবুল, আফসারের ছেলে আসিকুল ও মুকুল, ইদ্রিসের ছেলে জালাল ও ধুলু, তৈমুরের ছেলে জালালসহ আরো অনেকে। হতদরিদ্র পরিবারের খেটে খাওয়া এ মানুষগুলো অভিযোগ করে বলেন, আমাদের গ্রামের ১০ জনের কাছে থেকে ৪০ দিনের কর্মসূচির জন্য তিন হাজার টাকা করে মোট ৩০ হাজার টাকা নিয়েছেন তাজেমুল।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তাজেমুল হক বলেন, ‘আমি মেম্বারও নই চেয়ারম্যানও নই। সেহেতু তাদের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ষড়যন্ত্রমূলক।
এ ব্যাপারে বিনোদপুর ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক বলেন, তাজেমুল ইউনিয়ন পরিষদের কেউ না। তাছাড়া তার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ মিললে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কিন্তু স্থানীয় সূত্র বলছে, তাজেমুল ও চেয়ারম্যানের যোগসাজসে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে এবং তাজেমুলের সঙ্গে চেয়ারম্যানের খুব ভালো সম্পর্ক।
এ বিষয়ে কথা হয় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরিফুল হকের সঙ্গে। তিনি বলেন, যদি এ ধরনের ঘটনা হয়েই থাকে তবে এখন কিছু করার নেই। কারণ সময় পার হয়ে গেছে। অন্যদিকে সমাজসেবা কর্মকর্তা কাঞ্চন কুমার দাস জানান, খুব শীঘ্রই তাজেমুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম অভিযোগকারীদের ভিডিও, তথ্যচিত্র ও ঠিকানা নিয়ে জানান, কে এই তাজেমুল তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ