শিবগঞ্জে ৮১ হাজার পরিবার পেল সহায়তা

আপডেট: জুন ৪, ২০২০, ১০:২৯ অপরাহ্ণ

শিবগঞ্জ প্রতিনিধি:


শিবগঞ্জে করোনা ভাইরাস কারণে সরকারি ও বেসরকারি ভাবে অসহায়, দুস্থ ও ঘরবন্দি প্রায় ৮১ হাজার পরিবারকে ত্রাণ দেয়া হয়েছে। বর্তমান চলমান রয়েছে এ প্রক্রিয়া।
শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, জি আর প্রকল্প থেকে বরাদ্দকৃত ৩৭৬ মেট্রিক টন চালের মধ্যে ৩৬৬ মেট্রিক চাল বিতরণ করা হয়েছে। বাকী ১০ মেট্রিক চাল এখনো মজুদ রয়েছে। সূত্র মতে, গত দুই মাস ধরে উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে ৩৬৬ মেট্রিক টন চাল ৩৬ হাজার ৬শ পরিবারের মাঝে পরিবার প্রতি ১০ কেজি করে বিতরণ করা হয়। বিতরনের ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা সঠিকভাবে তালিকা তৈরি করা এবং তালিকাগুলি একাধিকবার মনিটরিং করা হয়।
জি আর ক্যাশ প্রকল্প থেকে বরাদ্দ কৃত নগদ ১১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা মূল্যের শুকনা খাবার আলু, তেল,লবন, ডাল, চিড়া ও ছোলা ৩ হাজার ৭০১ টি অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে তালিকা ভিত্তিক বিতরণ করা হয়।
জি আর(শিশু খাদ্য) প্রকল্প থেকে বরাদ্দকৃত নগদ ৪ লাখ টাকা থেকে শিশুদের জন্য নুডুলস, সেমাই, চিনি, সুজি ও গুড়া দুধ ১ হাজার ১৫০ পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়।
মোট ১৫টি ইউনিয়নে গত দুই মাসে ৪১ হাজার ৪১৫টি পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। অন্যদিকে শিবগঞ্জ পৌরসভায় জি আর প্রকল্প থেকে বরাদ্দকৃত ১১৬ মেট্রিক টন চাল ১১হাজার ৬শ পরিবারের মাঝে পরিবার প্রতি ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। জি আর ক্যাশ প্রকল্প থেকে বরাদ্দকৃত নগদ ৯ লাখ টাকা থেকে ৩ হাজার ৩৪৮ টি পরিবারের মাঝে আলু, তেল,লবণ, ডাল, চিড়া, ও ছোলা ক্রয় করে বিতরণ করা হয়েছে। জি আর ক্যাশ(শিশু খাদ্য) প্রকল্প থেকে বরাদ্দকৃত নগদ ১লাখ থেকে ৬৮৪টি পরিবারের মাঝে শিশু খাদ্য নুডুলস, সেমাই,চিনি, সুজি ও গুড়া দুধ ক্রয় করে বিতরণ করা হয়েছে।
শিবগঞ্জ পৌরসভায় সরকারিভাবে মোট ১৫ হাজার ৬৩২টি পরিবারকে খাদ্য সামগ্রীর একটি করে প্যাকেটের ত্রাণ দেয়া হয়েছে। তাছাড়া পৌর মেয়র নিজ উদ্যোগে আর্ ো৫ হাজার পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করেন এবং করোনায় আক্রান্ত রোগিদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে বিভিন্ন ধরনের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় ভাবে সংগৃহীত এনজিও ফোরামের উদ্যোগে ৯ লাখ ২৮ হাজার ৭শ ১০ টাকা মূল্যের খাদ্য সামগ্রী বিভিন্ন ইউনিয়নের ১ হাজার ৬৫০টি পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। বিজিবির উদ্যোগে ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ২ হাজার পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। অন্যদিকে জিকো ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে প্রায় ১২হাজার অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে ও শিবগঞ্জ পৌরসভার প্রায় ৬ হাজার অসহায় ও দুস্থ পরিবারকে খাদ্য সামগ্রীর একটি প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া করোনায় আক্রান্ত রোগিদের সেবা চালিয়ে যাচ্ছে এ ফাউন্ডেশনটি।
বিনোদপুর ইউনিয়নে ১৯৯২ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত এসএসসির ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীর উদ্যোগে গঠিত প্রদীপের উদ্যোগে ৩ হাজার পরিবারকে সব্বোর্চ ১৭ কেজির ওজনের একটি করে প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। তাছাড়া এসো মানুষের পাশে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে মনাকষা ও বিনোদপুর ইউনিয়নের প্রায় ৩শ পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী ও করোনায় আক্রান্ত ৬ জন রোগিকে ফল ও মুরগীসহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্য সামগ্রী দেয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে প্রায় ৮১ হাজারের অধিক পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা করা হয়েছে। তবে এখনো অনেক পরিবার ত্রাণ পাওয়া থেকে বঞ্চিত আছে।
কারণ হিসেবে বিভিন্ন এলাকার মানুষের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, যে খাদ্য বান্ধব, সুবিধাভোগীসহ বিভিন্ন ভাবে সরকার কর্তৃক সুভিধাভোগীরা ও তালিকা তৈরির ক্ষেত্রেও একই ব্যক্তি একাধিকবার তালিকাভুক্তি হওয়ার কারণে এবং জনপ্রতিনিধি ও দলীয় পর্যায়ে কিছুটা স্বজনপ্রীতির কারণে অনেক পরিবার এখনো ত্রাণ থেকে বঞ্চিত আছে।
তবে তালিকা তৈরির পর যদি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ ও মিডিয়ার কাছে হস্তান্তর করলে এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি থাকবে না বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকরা।
শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার আরিফুল ইসলাম জানান, জনবান্ধব এ সরকারের নির্দেশে আমরা সার্বক্ষনিক মানুষের সেবায় ব্যস্ত আছি এবং থাকবো। করোনা ভাইরাসে ঘরবন্দী কোন পরিবারও না খেয়ে থাকেনি। চিকিৎসা ক্ষেত্রে আমরা খোঁজখবর রাখছি।
তিনি জানান, তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে কোন অনিয়ম হয়নি। তবে কিছু পরিবার যদি বাদ পড়ে থাকে, তবে আমরা সঠিক তদন্তপূর্বক ওই সমস্ত পরিবারের দোরগড়ায় ত্রাণ পৌঁছে দিবো। করোনা ভাইরাসে উপজেলাবাসীকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হতে যে পরামর্শ দিয়েছি, তাতে আমরা যথেষ্ঠ ফলপ্রসূ হয়েছি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ