শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন II স্থানীয় সংসদ সদস্যদের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ, পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন

আপডেট: মে ২০, ২০২৪, ৯:১৬ অপরাহ্ণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:


চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রচার প্রচারণার শেষ মুহূর্তে দুটি ইউনিয়নে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলেছেন নির্বাচনে কাপ-পিরিচ প্রতিকের প্রার্থী সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ। তাদের অভিযোগ নির্বাচনটি নিরপেক্ষ করতে যেন পুলিশসহ স্থানীয় প্রশাসন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

আগামী ২১ মে অনুষ্ঠিত হবে শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের নির্বাচন, নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী চারজন হলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে, সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মহসীন আলীর সংঙ্গে।

গেল দুই দিন নির্বাচনী এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রকাশ্যে মহসীন আলীর পক্ষে সংসদ সদস্যদেও ঘনিষ্ঠজনরা প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন। শিবগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদ মহসীন আলীর পক্ষে নিজেদের নেতাকর্মীদেরও প্রচারণায় নামিয়েছেন উল্লেখ করে বলেন, নির্বাচনে দুইজন সংসদ সদস্যে এক প্রার্থীর পক্ষে অবস্থায় নেওয়ায় নির্বাচনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করেছেন কাপ-পিরিচ প্রতিকের প্রার্থী সৈয়দ নজরুল ইসলাম। তবে স্থানীয় সাংসদ ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল ৭ দিনের আগে বিদেশে গেছেন।

শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবু আহমেদ নাজমুল কবির মুক্তা জানান, নির্বাচনের শুরু থেকেই নয়ালাভাঙ্গা ও ঘোড়াপাখিয়া ইউনিয়নে আমাদের কাপ-পিরিচের প্রার্থীর পক্ষে প্রচার প্রচারণায় বাঁধা দিচ্ছে। আমরা আশংকা করছি ভোটে কারচুপি হতে পারে।

শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আতিকুল ইসলাম টুটুল খান অভিযোগ করেন নির্বাচনে মোটর সাইকেল প্রতিকের প্রার্থী আলহাজ্ব মহসীন আলী ও সদর আসনের সংসদ আব্দুল ওদুদের ভাইরা মোস্তাকুল ইসলাম পিটু মিয়া প্রথম থেকেই নয়ালাভাঙ্গা ও ঘোড়াপাখিয়া ইউনিয়নে আমাদের কাপ-পিরিচের প্রতিকের প্রচার প্রচারণায় ঝামেলা করে আসছিলেন। তিনি এ দুই ইউনিয়নের আমাদের কর্মীদের একরকম প্রচার প্রচারণা চালাতেই দেননি।

কাপ-পিরিচের পক্ষে কাজ করায় নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম সহ বেশ কয়েকজন বাড়িতে ককটেল হামলা করেছে, সালামের গাড়িতেও ককটেল হামলা কওে ভয়ভীতি দেখায়। এ ঘটনায় থানায় মামলা হলেও পুলিশ আসামী ধরেনি। এসব কারণে আমরা শঙ্কিত যে ভোটের দিন, তারা জোর করে ব্যালটে শীল দিয়ে নিজেদের পক্ষে ফলাফল নিয়ে যেতে পারেন।

সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও কাপ-পিরিচ প্রতিকের প্রার্থী সৈয়দ নজরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনে যেখানে দল থেকে সংসদ সদস্যদের কোনো প্রার্থীর পক্ষে না যাওয়ার জন্য বলা হয়েছিলো, তারপর আমাদের চাঁপাইনবাবগঞ্জের এমপি সাহেব ফোন করে আমার কর্মীদের হুমকি ধামকি দিয়ে, অন্য প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছন। বিশেষ করে নয়ালাভাঙ্গা ও ঘোড়াপাখিয়া ইউনিয়নের নেতৃ স্থানীয় অন্তত ১৫ জনকে হুমকি ধামকি দিয়েছেন। এমনকি আমার কর্মী, নয়ালাভাঙা ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার ফিজোরের বাড়িতে পরপর দুদিন ককটেল হামলা করা হলেও পুলিশ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

প্রচার প্রচারণায় শেষ মুহূর্তে এসে এমন পরিবেশ দেখে আমি এখন আশঙ্কা করিছি যে, নির্বাচনের দিনও এই পক্ষটি গোলজোগ করে নিজেদের পক্ষে ফলাফল ছিনিয়ে নিবে। আমি বিষয়গুলো নিয়ে রির্টানিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিব।

নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল ওদুদ বলেন, আমি শিবগঞ্জের কোনো নির্বাচনী এলাকায় যায়নি। কাউকে কারো পক্ষে কিংবা বিপক্ষে কাজ করতেও বলেনি। তবে আমার মনের ভাষা বুঝে যদি কোনো কর্মী নির্বাচনে কাজ করে তাহলে তো আমি খুশি হব।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন জানান, বেশ কিছু স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ পেয়েছি, আমরা বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখছি। দোষীদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম সাহিদ বলেন ওই দুটি ইউনিয়নে নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে শতভাগ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আহমেদ মাহবুব উল ইসলাম বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে কোন ছাড় দেয়া হবে না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Exit mobile version